ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ৩ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯

গণপূর্তে দুর্নীতির ১০ উৎস
প্রতিরোধে দুদকের ২০ সুপারিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১০.১০.২০১৯ ১২:০৪ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিরোধে দুদকের ২০ সুপারিশ

প্রতিরোধে দুদকের ২০ সুপারিশ

অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন, টেন্ডারের তথ্য ফাঁস, নেগোসিয়েশনের নামে অনৈতিক সুবিধায় সাপোর্টিং বা এজেন্ট ঠিকাদার নিয়োগ, বারবার নির্মাণকাজের ডিজাইন পরিবর্তন, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, টেন্ডারের শর্তানুসারে কাজ বুঝে না নেওয়া, মেরামত বা সংস্কার কাজের নামে ভুয়া বিল ভাউচার করে অর্থ আত্মসাৎসহ গণপূর্ত অধিদফতরে দুর্নীতির ১০টি উৎসের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী ব্যক্তি বেনামে অথবা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে ঠিকাদারি কাজ পরিচালনা, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ এবং ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর অনৈতিক সুবিধা লাভ, অপছন্দের ঠিকাদারকে নন রেসপন্সিভ করা, ছোট ছোট প্যাকেজে প্রকল্প প্রণয়ন ও টেন্ডারের শর্তানুসারে কাজ বাস্তবায়ন না করাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বুধবার গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের কাছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিমের প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান। সচিবালয়ে প্রতিবেদন হস্তান্তরকালে দুদক কমিশনার বলেন, সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের কর্মকর্তা, তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন, অডিট রিপোর্ট, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক টিমের নিজস্ব মতামতের সমন্বয়ে এ প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়। প্রতিবেদনে ১০টি উৎসে দুর্নীতি ও দুর্নীতি প্রতিরোধে ২০ সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রাক্কলন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই নিবিড় মনিটরিংয়ের প্রয়োজন। কারণ এসব ক্ষেত্রে দুর্নীতির ব্যাপকতা রয়েছে। এমনকি ইজিপি প্রক্রিয়ায়ও ঠিকাদার-কর্মকর্তার যোগসাজশের ঘটনা ঘটছে। যেসব কর্মকর্তার নৈতিকতার বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে তাদের বড় বড় প্রকল্পে নিয়োগ না দেওয়াই সমীচীন।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের কমিশনের এ উদ্যোগ স্বাগত জানিয়ে বলেন, কমিশনের এ প্রতিবেদন আমাদের গাইডলাইন দেবেÑ যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কাজ করবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি অনুসরণ করছেন। আমি তার মন্ত্রিসভার একজন সদস্য হিসেবে দুর্নীতিকে ন্যূনতম সহ্য করব না। আমি তার এই নীতিকে শতভাগ ধারণ করি এবং তা বাস্তবায়নের জন্য নিবেদিত থাকব।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয় প্রকল্প ছক সংশোধন করে অনাবশ্যক প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয়। মূলত আর্থিক মুনাফার প্রত্যাশায় প্রয়োজন না থাকা সত্তে্বও ঠিকাদার ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ব্যয় বাড়ে। পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে স্থাপত্য অধিদফতর প্রায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নকশা সরবরাহ করতে সক্ষম হয় না।

ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়। গণপূর্ত অধিদফতরের কর্মকর্তাদের অবহেলা, সদিচ্ছা ও মনিটরিংয়ের অভাবে প্রাক্কলন তৈরি থেকে শুরু করে টেন্ডার আহ্বান কার্যাদেশ ও কাজ সমাপ্তি প্রত্যাশী সংস্থার চাহিদামতো জরুরিভিত্তিতে সম্পাদন করা হয় না। অনেক সময় কাজ শেষে ঠিকাদার বিল দাখিল করলেও প্রকল্প কর্মকর্তা নানা অজুহাত দেখিয়ে বিল আটকে রাখেন। এ ক্ষেত্রে যেসব ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা হয় সেসব ঠিকাদারের বিল আগে পরিশোধ করা হয় মর্মে অভিযোগ রয়েছে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]