ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ৩ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯

শেষ ঠিকানার জায়গাটুকু চায় কুড়িগ্রামের পাটনি সম্প্রদায়
তৌহিদ বকসী ঠান্ডা কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১০.১০.২০১৯ ১২:৩৬ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

শেষ ঠিকানার জায়গাটুকু চায় কুড়িগ্রামের পাটনি সম্প্রদায়

শেষ ঠিকানার জায়গাটুকু চায় কুড়িগ্রামের পাটনি সম্প্রদায়

একসময় নদীতে খেয়া ঘাটে মানুষ পারাপার করে জীবিকা নির্বাহ করত কুড়িগ্রামের পাটনি সম্প্রদায়। কিন্তু কালের পরিবর্তনে, সময়ের বিবর্তনে খেয়া ঘাটগুলোয় সরকারিভাবে ইজারা পদ্ধতি চালু হওয়ায় দিনে দিনে এ পেশা হারাতে হয়েছে তাদের। এখন অনেকের বাস্তুভিটাটুকুও নেই। বর্তমানে রাস্তার পাশে খাস জমিতে বাঁশ ও বেতের জিনিসপত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে জীবন যুদ্ধে কোনো রকমে টিকে আছে এ সম্প্রদায়ের মানুষগুলো।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কের পাশে বসবাস করছে অর্ধ শতাধিক পাটনি পরিবার। বাপ দাদার পেশা হারিয়ে বাঁশ ও বেতের তৈরি ডালি, কুলা, ডুলি, চালনিসহ বিভিন্ন গৃহস্থালী আসবাবপত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা। বর্তমানে প্লাস্টিক সামগ্রীর দাপটে চাহিদা কমে আসছে তাদের তৈরি পণ্যেরও। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে কোনো রকমে চলছে তাদের সংসার। এ অবস্থায় নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে মৃত্যুর পর লাশের সৎকার নিয়ে। এতদিন অন্যের জমিতে লাশের সৎকারের ব্যবস্থা থাকলেও এখন আর সেই সুযোগটিও নেই। লাশ নিয়ে নামতে হচ্ছে রাস্তায়। ফলে এ সম্প্রদায়ের মানুষের চাওয়া জীবনের শেষ ঠিকানার জন্য একটু নির্দিষ্ট জায়গা।

সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের বাজার সংলগ্ন পাটনি সম্প্রদায়ের শ্রী রমেশ চন্দ্র অধিকারী বলেন, ২০ বছর আগে কাঁঠালবাড়ীতে পাটনি সম্প্রদায়ের আলাদা গ্রাম ছিল। সেখানে প্রায় ৪ শতাধিক লোকের বসবাস ছিল। তখন নদীর ঘাটে ইজারা হতো না। বাপ-দাদারা নদীর খেয়া ঘাটে নৌকা দিয়ে লোক পাড়া-পাড়ের কাজ করে টাকা উপার্জন করে সংসার চালাত। কিন্তু এখন তাদের সে পেশা কেড়ে নিয়েছে বিত্তবানরা। প্রতিযোগিতার যুগে মূল পেশায় টিকে থাকতে না পারায় পেশা বদলাতে হয়েছে তাদের। পেশা বদলিয়েও যান্ত্রিক যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে পেশা ছেড়ে দিয়েছে অনেকেই।

পাটনি সম্প্রদায়ের গণেশ জানায়, এখন তাদের অবস্থা খুবই খারাপ। নিজেদের থাকার জায়গা নেই। পাশাপাশি তাদের সম্প্রদায়ের কারো  মৃত্যু হলে লাশ সৎকারের জায়গা পাওয়া যায় না। আগের শ্মাশান ঘাট ও কবরস্থানে কলেজ তৈরি হয়েছে। মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বাড়িঘরের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। এজন্য এখন আর কেউ আমাদের লাশ পোড়ানো বা কবর দেওয়ার জায়গা দেয় না। আমার দাদি মারা গেলে তাকে পোড়ানো বা কবর দেওয়ার জায়গা পাইনি। ফলে আমাদের সম্প্রদায়ের সবাই মিলে লাশ নিয়ে রাস্তা অবরোধ করতে হয়েছে। পরে পুলিশ ও চেয়ারম্যান এসে লাশ পোড়ানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এখন আমরা সরকারের কাছে মৃত্যুর পর শেষ ঠিকানাটুকু দাবি করছি। সরকার যেন একটু শ্মশান বা কবরস্থানের জায়গা করে দেয়।

পাটনি পাড়ার বিশ্বকা রানী ও সরস্বতী জানায়, জীবন-জীবিকায় নানা কষ্ট থাকলেও এ কষ্ট মেনে নিয়ে মৃত্যু পরবর্তী সৎকারের একটু জায়গাই এখন একমাত্র কাম্য আমাদের। আমরা তো এদেশেরই নাগরিক। আমাদের মৃত্যুর পর শান্তিতে ঘুমানোর জায়গা টুকুর ব্যবস্থা যেন সরকার করে দেয়। আমাদের লাশের সৎকারের জন্য যেন আর রাস্তায় নামতে না হয়।

কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক দুলাল জানান, পাটনি সম্প্রদায়ের মানুষের মৃতদেহ সৎকারের নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। তবে আমি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে তাদের একটি স্থায়ী শ্মশানের ব্যবস্থা করে দেব।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]