ই-পেপার সোমবার ১৪ অক্টোবর ২০১৯ ২৯ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ১৪ অক্টোবর ২০১৯

জেলার রাজনীতি : পঞ্চগড়
নতুন সমীকরণের অপেক্ষায় আ.লীগ নেতৃত্ব শূন্যতায় ভুগছে বিএনপি
মো. রাশেদুজ্জামান (রাশেদ) পঞ্চগড়
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১০.১০.২০১৯ ১২:২৬ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন সমীকরণের অপেক্ষায় আ.লীগ নেতৃত্ব শূন্যতায় ভুগছে বিএনপি

নতুন সমীকরণের অপেক্ষায় আ.লীগ নেতৃত্ব শূন্যতায় ভুগছে বিএনপি

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃত্ব নিয়ে পঞ্চগড় জেলায় চলছে নানা লবিং-গ্রুপিং। নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় যেন দিন কাটছে পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের। নতুন নেতৃত্বের সমীকরণ কী হবে তার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনগুলোও। জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির নেতৃত্বে কারা আসছেন তাই এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনার মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পঞ্চগড়-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মজাহারুল হক প্রধান ২০০৮ সালে নবম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির স্থায়ী পরিষদ সদস্য হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে বিপুল ভোটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছিলেন তিনি। তবে ২০১৮ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরকেও ভোটে পরাজিত করেন। ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে।

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়-১ আসনে ২০০৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কোনো মন্ত্রী না থাকায় দেশের অন্য এলাকার তুলনায় এ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পাদন হয়নি। দুই বারের সংসদ সদস্য প্রবীণ নেতা মজাহারুল হক প্রধান পঞ্চগড়-১ আসনের উন্নয়নের স্বার্থে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তাকে কোনো একটি মন্ত্রী পদমর্যাদা দেওয়ার জন্য। এরপরেও থেমে নেই সংসদ সদস্যের উন্নয়নমূলক কাজ। এলাকায় উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত রাস্তা, কালভার্ট, ব্রিজ, বিদ্যুতায়ন ও স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে।

অন্যদিকে পঞ্চগড়-২ আসনে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বর্তমানে রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পঞ্চগড়-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেন।

২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাবেক ধাক্কা মাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমানুল্লাহ বাচ্চু জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিন হন। ২০১৯ সালে ৯ জানুয়ারি আমানুল্লাহ বাচ্চু মারা গেলে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এরপর জেলা পরিষদের উপনির্বাচনে দলের পূর্ণ আস্থা পেয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট নির্বাচিত হন।

১৯৯১ সাল পর্যন্ত পঞ্চগড়-১ আসনটি ছিল বিএনপির দখলে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির পর থেকে জেলা বিএনপিতে শুরু হয় গ্রুপিংয়ের রাজনীতি। মামলা-মোকদ্দমায় বিপর্যস্থ চার দেওয়ালে থাকা নেতাকর্মীদের আস্থা হারিয়ে ফেলছেন নেতারা। এর ফলে কঠিন হয়ে পড়েছে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির রাজনীতি। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালনে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সামনে সব সময় বাধার দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন সরকারি দলের নেতাকর্মীরা।

এবার বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের কর্মসূচিতে দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিলই না বললে ছিল।
অতীত ক্ষমতার সাধভোগকারী দলের শীর্ষ নেতারা হতাশায় নিমজ্জিত। তবুও থেমে নেই পঞ্চগড় জেলা বিএনপির গ্রুপিং কার্যক্রম। এক দিকে রয়েছে পৌর বিএনপি সভাপতি মেয়র তহিদুল ইসলামের গ্রুপ এবং অন্যদিকে রয়েছে জেলা বিএনপির ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের গ্রুপ। প্রতিহিংসার রাজনীতিতে নিমজ্জিত হয়ে জেলা বিএনপিতে নেমে এসেছে নেতৃত্ব শূন্যতা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পঞ্চগড়-১ আসনটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে হিসেবে ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

অন্যদিকে পৌর বিএনপি সভাপতি পৌর মেয়র মো. তহিদুল ইসলাম প্রার্থী হয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে নওশাদ জমিরের প্রার্থিতা নিশ্চিত হলেও ভোটের রাজনীতিতে সব স্বপ্ন লন্ডভন্ড হয়ে গেল।

পঞ্চগড় জেলা বিএনপির প্রায় এক যুগের ও বেশি সময় ধরে কোনো প্রকার কমিটি না থাকায় অনেক জল্পনা-কল্পনা অবসান ঘটিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বরে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চুকে আহ্বায়ক বিএনপির জাতীয় নির্বাহী সদস্য এবং ফরহান হোসেন আজাদকে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।
এ ব্যাপারে আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা বর্তমানে বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডে বর্ধিত সভা ও আলোচনা করছি।

আশা করি, কিছু দিনের মধ্যে সব পুরনো কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করা হবে। আহ্বায়ক কমিটিতে যারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এর ফলে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বে দলকে সুসংগঠিত করে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]