ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ৩ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯

ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে সুশাসনের অভাব রয়েছে : সিপিডি
প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে বাংলাদেশের আরও অবনমন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১০.১০.২০১৯ ১২:৫৬ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে বাংলাদেশের আরও অবনমন

প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে বাংলাদেশের আরও অবনমন

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিচারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতার বৈশ্বিক সূচকে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বাংলাদেশের অবস্থানের অবনমন ঘটেছে। ফোরামের ‘গ্লোবাল কম্পেটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৯ বলছে, এবার ১৪১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ১০৫তম অবস্থানে। আগের বছর ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০৩তম অবস্থানে ছিল। তার আগে ২০১৭ সালে ১৩৫ দেশের মধ্যে ছিল ১০২তম অবস্থানে।

চলতি বছরের শুরুতে চালানো জরিপের ভিত্তিতে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বুধবার বি্বিব্যাপী একযোগে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। রাজধানীর পল্টনস্থ ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে ফোরামের পক্ষে বাংলাদেশে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন।

একটি দেশের অবস্থান বিচারের জন্য প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা, পণ্য বাজার, শ্রমবাজার, আর্থিক ব্যবস্থা, বাজারের আকার, বাজারের গতিশীলতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এই ১২টি মানদন্ড ব্যবহার করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। এসব মানদন্ডের ভিত্তিতে ১০০ ভিত্তিক সূচকে সব মিলিয়ে এবার বাংলাদেশের স্কোর হয়েছে ৫২, যা গত বছরের স্কোরের চেয়ে ০.১ কম।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বলছে, সূচকের মানদন্ডগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য, দক্ষতায় বাংলাদেশের উন্নতি হলেও প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও পণ্য বাজার পরিস্থিতিতে স্কোর কমেছে। অবকাঠামো, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, শ্রমবাজার, আর্থিক ব্যবস্থা, বাজারের আকার, বাজারের গতিশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতায় এবার স্কোর হয়েছে গতবারের সমান।

বিশ্বে প্রতিযোগিতা সক্ষমতার দিক দিয়ে এবারের সূচকের শীর্ষে উঠে এসেছে সিঙ্গাপুর; এশিয়ার এই দেশটির স্কোর ৮৪ দশমিক ৮। এরপরই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, হংকং, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, জাপান, জার্মানি, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্ক।

এই দশটি দেশই গতবারের সূচকে শীর্ষ দশে ছিল, এবার শুধু অবস্থানের হেরফের হয়েছে। এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে ভারত। ৬১.৪ স্কোর নিয়ে ভারত আছে সূচকের ৬৮ নম্বরে। তবে গতবারের চেয়ে ১০ ধাপ অবনমন ঘটেছে দেশটির।

শ্রীলঙ্কা ৫৭.১ স্কোর নিয়ে সূচকের ৮৪তম, নেপাল ৫১.৬ স্কোর নিয়ে সূচকের ১০৮তম এবং ৫১.৪ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান সূচকের ১১০ নম্বরে রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২০০১ সাল থেকে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। সিপিডি বাংলাদেশে বৈশ্বিক এই ফোরামের সহযোগী হিসেবে কাজ করে।

সিপিডির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের ব্যবসা দিন দিন পুঞ্জীভ‚ত হয়ে যাচ্ছে। শতকরা ৭৫ জন ব্যবসায়ী মনে করেন দেশের বড় ব্যবসায়ীরাই আর্থিক খাতকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে করপোরেট গভর্নেন্সের বা সুশাসনের অভাব রয়েছে।

ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, দুর্নীতির কারণে দেশের ব্যবসার ব্যয় বাড়ছে। পাশাপাশি বাড়ছে ব্যবসায়িক ঝুঁকিও। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বেকারত্ব বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ঝুঁকি আরও বাড়ছে। সঠিকভাবে কাজ করছে না ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল। শতকরা ৭৮ জন ব্যবসায়ী মনে করেন ব্যাংকিং সেক্টরের সমস্যা ২০১৯ সালে আর্থিক খাতে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া দেশের প্রকল্পভিত্তিক তথ্য আরও সহজ করা দরকার বলে মনে করছেন তিনি।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বৈশ্বিক উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলাতে হলে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সে অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। তিনি জানান, অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি না হলে মনোপলি বা একচেটিয়া ধারা অব্যাহত থাকে। এর মাধ্যমে ব্যবসা পুঞ্জীভূত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এই জায়গাতে গুরুত্ব দিয়ে শক্তিশালী মনিটরিংয়ের আ্বিান জানান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক।

ড. ফাহমিদা বলেন, বাংদেশের নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত। তা না হলে আর্থিক খাত আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হতে হলে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]