ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯

২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ
লোভের লাগাম টানলে আখেরে লাভ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.১০.২০১৯ ১১:২৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 28

ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। জিআই পণ্য হিসেবে ইলিশ নিবন্ধনের সনদ আমাদের। সারা বিশে^র উৎপাদিত মোট ইলিশের প্রায় ৮০ শতাংশ আহরিত হয় আমাদের নদনদী, মোহনা ও সাগর থেকে। এ ছাড়া ভারত, মিয়ানমার, আরব সাগর তীরবর্তী দেশগুলো এবং প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী দেশগুলোয় বাকি ইলিশ পাওয়া যায়। ইলিশ সমুুদ্রের মাছ। সমুদ্রে সে বড় হয়। ইলিশের ডিম এবং ডিম থেকে উৎপন্ন বাচ্চা লবণ সহ্য করতে পারে না। তাই মা-ইলিশ ডিম ছাড়ে মিষ্টি পানির নদীতে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু, বর্ষা বঙ্গোপসাগরের ইলিশকে আমাদের নদীতে টেনে আনে। প্রাকৃতিক নিয়মে ইলিশ নদীর মিষ্টি পানিতে ডিম ছাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। এরপর আবার সাগরে ফিরে যায় ইলিশ। আর সাগরে ফিরে যাওয়ার পথেই জেলেদের জালে ধরা পড়ে ইলিশ। ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়টি ইলিশের ডিম ছাড়ার জন্য উপযুক্ত সময়। আর এ সময়টিতে যেন ইলিশ না ধরা হয়, তাই ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এ সময়ে ইলিশের আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মা ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করায় জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে ল²ীপুর জেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত নদী উপক‚লীয় এলাকায় ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ। দৈনিক সময়ের আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সরকার ঘোষিত ২২ দিনের এ অভয়াশ্রম কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৎপর থাকবে জেলা টাস্ক ফোর্স। নিষেধাজ্ঞার সময়ে কোনো জেলে নদীতে নামতে পারবে না। আইন অমান্যকারীকে মৎস্য আইনে সাজা দেওয়া হবে। মাছ ধরার এই নিষিদ্ধ সময়ে জেলেরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্যও ব্যবস্থা রয়েছে। সরকার উদ্যোগ নিয়েছে যেসব জেলার জেলেরা ইলিশ মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল, তাদের খাদ্য সহযোগিতা দেওয়ার। মূলত ইলিশের উৎপাদন বাড়াতেই সরকারের এই উদ্যোগ।
বিগত ১০ বছরে ইলিশ উৎপাদনের গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। বাংলাদেশে মোট উৎপাদিত মাছের প্রায় ১২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকে, যা একক প্রজাতি হিসেবে সর্বোচ্চ। আমাদের জিডিপিতে ইলিশের অবদান শতকরা ১ ভাগ। গত কয়েক বছর ধরে মা মাছের ডিম ছাড়ার পরিবেশ নিরাপদ রাখতে উদ্যোগ নেওয়ায় আমাদের ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। বাংলাদেশ পৃথিবীর
দুই-তৃতীয়াংশের অধিক ইলিশ উৎপাদনকারী হিসেবে বিশে^ পরিচিত। এ ধারা অব্যাহত রাখতেই ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদ নিষিদ্ধ করে জারি হয়েছে প্রজ্ঞাপন। আশা করা যায়, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে আমাদের ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে। ইলিশ উৎপাদনে আমরা রোল মডেল। ইলিশ উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই বেড়েছে ইলিশের উৎপাদন। এর পেছনে রয়েছে আমাদের ইলিশের প্রজনন সময় নিশ্চিত করা। আমরা সবাই যদি ইলিশের সুরক্ষা ও সংরক্ষণের ব্যাপারে সচেতন ও উদ্যোগী হই, তাহলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইলিশ, তাই এর সুরক্ষার দায়িত্বও আমাদের সবার। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষার উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে আমরা প্রত্যাশা করি নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের বিকল্প কাজের সংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে এবং নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরা, বিক্রিসহ যেসব নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তার যথাযথ বাস্তবায়ন হবে, আইনের কঠোর প্রয়োগ হবে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]