ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ৩ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯

নারীবাদের নানা প্রকার
বেগম জাহান আরা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

বেগম রোকেয়া আমার নারীবাদ আদর্শের আইকন। সেই যুবাকাল থেকেই। যখন থেকে ‘সুলতানার স্বপ্ন’ পড়ছি এবং ভালো লাগছে, সেই তখন থেকেই। যতটা মনে হয়, ১৯৮১-৮২ সালের দিকে বিটিভিতে ‘সুলতানার স্বপ্ন’ থেকে কিছু অংশের নাট্যরূপ দিয়ে প্রচারের ব্যবস্থা করেছিলাম। মিরানা জামান এবং জাহানারা আহমেদ দুজন শিল্পী নাটকের সেই অংশে অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন। নারীমুক্তির গভীর কথা বুঝতে চেষ্টা করেছি ওই একখানা উপন্যাসিকা বারবার পড়ে। বইটির অংশবিশেষ এখনও আমার অন্যতম প্রিয় পাঠ। নারীবাদী কর্মীদের উদ্দেশে বলি, যারা পড়েছেন, তারা জানেন আমি কী বলতে চাই। যারা পড়েননি, তাদের জন্য রইল ‘সুলতানার স্বপ্ন’ পড়ার অনুরোধ।
গৌরচন্দ্রিকাটা এজন্য, নারীবাদ নিয়ে শিক্ষিত পরিণত যেসব মহিলা এখন কথা বলেন, তারা অনেক বিদেশি নারীবাদী মহিলার নাম করেন। সেটা মন্দ নয়। কিন্তু বেগম রোকেয়ার নারীবাদ নিয়ে কিছুই পরিষ্কার করে বলেন না। টিভি অনুষ্ঠানে বেগম রোকেয়া আলোচনার বিষয় হন বড়জোর দুই বা তিন দিন। বিশ্ব নারীবর্ষ, কন্যাদিবস এবং রোকেয়া স্মরণ দিবস। অথচ নারীমুক্তির প্রসঙ্গ আমাদের নিত্যদিনের। ফলে নারীবাদীদের বিভিন্ন আলোচনায় প্রথমেই বিদেশি নারীবাদী লেখক এবং তাদের লেখায় নারীবাদী দর্শনের প্রসঙ্গ চলে আসে। মনে হয়, নারীবাদ নিয়ে আমাদের দেশের কোনো নারী কথা বলেননি বা লেখেননি। তা ছাড়া শুধু বেগম রোকেয়া কেন, দেশের অনেক লেখকের সাহিত্যকর্মে নারীমুক্তি এবং নারীবাদ সম্বন্ধে অনেক গঠনমূলক বক্তব্য আছে, সেগুলোও ততুলে ধরা আবশ্যিক বলে মনে করি।
কিছুদিন থেকে নতুন দুটো টার্মের নাম শুনি। এক. ‘র‍্যাডিক্যাল ফেমিনিজম’, দুই.‘লিবারেল ফেমিনিজম’। কোথাও যেন দেখলাম এবং শুনলাম, ‘কালচারাল লিবারেল ফেমিনিজম’ টার্মের নাম। আলোচনায় যতটুকু বুঝলাম, পুরুষকে শত্রæ ভেবে যে নারীবাদ কাজ করে বা ভাবে, সেটা র‍্যাডিক্যাল নারীবাদ। এ বাদে নারীরা পুরুষের বিরুদ্ধে মুখিয়েই থাকে। বিদ্বেষ, ক্রোধ, প্রতিহিংসার কথা, গালাগাল, ইত্যাদির মাধ্যমে জীবনের সব বঞ্চনার কষ্ট উগলে দিয়ে শান্তি পায়। প্রতিকারের কথা বা কৌশল নিয়ে তেমন কিছু শুনিনি। ‘মি টু’ সেই প্রক্রিয়ার নতুন সংযোজন।
আর যে নারীবাদ পুরুষের ভ‚মিকার পাশাপাশি থেকে নারী-পুরুষের সমতার জন্য কাজ করে, সেটা লিবেরাল নারীবাদ। এখানে সচেতনভাবে নিজেদের অবস্থান বুঝেও বাবা, ভাই, স্বামী, ছেলের সঙ্গে বিদ্বেষ নয়, সহ অবস্থানে থেকে নিজের অধিকার অর্জনের কথা বলা হয়। সমতার কথা বলা হয়। আবার মনে পড়ে বেগম রোকেয়ার কথা। তার নারীবাদ হলো, নারীর নিজস্ব সত্তাকে ষোলো আনা বজায় রেখে জাগতিক এবং মানবিক কাজ কর্মের যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এমনকি সুলতানার স্বপ্নেও পুরুষ বর্জিত পরিবারের কথা বলা হয়নি। নারীর উচ্চ যোগ্যতার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এই দুই বাদের ধারণা আমাদের কাছে ঠিকমতো এসে পৌঁছুতে না পৌঁছুতেই ‘কালচারাল লিবেরাল ফেমিনিজম’ টার্মের ধাক্কা আমাদের মেয়েরা কীভাবে নিচ্ছে, তা জানি না।
প্রশ্ন হচ্ছে, কারা এসব টার্মের নাম নিয়ে নারীবাদ আলোচনার আসর জমিয়ে তুলছেন? নারীবাদ শব্দটা কানে না শুনে এবং নারীবাদিতা না বুঝেই যারা ক্ষুধার তাড়নায় রাস্তার ধারে শ্রমিকের জটলায় কাজের আশায় প্রতিযোগী হিসেবে দাঁড়ান, সন্তানকে ইটের ওপর শুইয়ে রেখে যারা খোয়া ভাঙেন, পুরুষের পাশাপাশি কোদাল আর ডালি নিয়ে দিনভর যারা মাটি কাটেন, তাদের চেয়ে নারীবাদী কে আছেন? তবু ‘নারী ক্ষমতায়নের’ পতাকা হিসেবে তাদের কেউ ডাকেন না আসরে। না ঘরোয়া আলোচনায়, না রেডিও টিভিতে। অবশ্য প্রয়োজনও হয় না। কারণ আলোচকরা নিজেরাই ‘একাডেমিক জায়গা’ থেকে ‘নারীবাদ’ আলোচনার শুরু করতে চান। তো গায়ে গতরে খাটা নারী কর্মীদের এমনকি ‘একাডেমিক ফিটনেস’ আছে যে ‘একাডেমিক’ বিষয়ে তারা সাবজেক্ট হবেন? ওরা চিরকালই ‘অবজেক্ট’। সৌখিন নারীবাদের জলসায় ওরা অপাঙক্তেয়।
র‍্যাডিক্যাল ফেমিনিজমের কথা যারা বলেন, তারাও নারীবাদকে একাডেমিক দিক থেকেই দেখেন এবং বোঝেন। মানে, পুরুষ জীবন সঙ্গী এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে প্রতিপক্ষ মনে করেই কাজ করেন। সেই মতো কথা বলেন। পুরুষ ছাড়া জীবন সংগ্রামের কথা বলেন। সেই প্রসঙ্গেই নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা তথা ক্ষমতায়নের কথা বলেন। বক্তারা বুঝেই পান না যে, শিক্ষা ছাড়া প্রকৃত ক্ষমতায়নের ডাক দিয়ে লাভ নেই। বড়জোর বিশেষ দিবসে, শ্রমে ঘামে ক্লান্তিতে মলিন দু-চার জনকে ডাকা হয় সজ্জিত আসরে। তারা জানেনও না, পুরুষতান্ত্রিক সমাজের তত্ত¡ কথা। ওরা জানেন, পুরুষ কর্তারাই সংসারের প্রয়োজন মেটানোর সব দায় বহন করবেন। যদি তা না করেন, তাহলে পেটের খিদের জন্য কাজ করতে হবে মেয়েদেরও। তা সে মাটি কাটা, খোয়া ভাঙা, বাসায় ঘরের কাজ করা বা গার্মেন্টসে কাজ করা যাই হোক। এরা র‍্যাডিক্যাল ফেমিনিজমের কথা না জেনেই জীবনঘনিষ্ঠ নারীবাদী কর্মী। আলোকিত নারীদের ফেমিনিজম চর্চায় অপাঙক্তেয় এরাও।
পুরুষকে প্রতিপক্ষ বা শত্রæ ভাবার অবকাশ নেই এদের। তার মানে, এরা ‘লিবেরাল ফেমিনিজম’ এর দলে। সংসারে পুরুষ সঙ্গী সুখ স্বাচ্ছন্দ্য না দিলেও একা জীবনযাপনের সাহস, অর্থনৈতিক শক্তি, পারিবারিক স্বীকৃতি এবং সামাজিক নিরাপত্তার সহজাত চিন্তা থেকেই যৌথ জীবনের কাঠামো তাদের পছন্দ। অপমান, হীনমান, অসম্মান, এমনকি শারীরিক নির্যাতন সত্তে¡ও সংসার ভাঙতে চান না এরা। অল্প শিক্ষিত এবং অল্প আয়ের মধ্যবিত্তের জীবনে আমি তাই দেখেছি। মধ্যবিত্তের জীবন দর্শনেও ‘র‍্যাডিক্যাল ফেমিনিজম’ এখনও সাত্তি¡ক আন্দোলনের বিষয় হয়ে ওঠেনি। পুরুষের বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরাটা প্রায় ¯েøাগানধর্মী অবস্থার মধ্যেই আছে।
র‍্যাডিক্যাল নারীবাদ দেখেছি নি¤œবিত্তের দুর্দশার জীবনে। শুধু পেটের খিদে মিটিয়ে পোকামাকড়ের মতো বেঁচে থাকাই যাদের কাছে প্রধান। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, পোশাক নিয়ে ভাবারও যাদের বিদ্যা-বুদ্ধি সাহস, কোনোটাই নেই। জীবন সঙ্গী বদলানোর ব্যাপারে নেই তেমন সংস্কার। মতান্তরে গালাগাল মারামারি সবই চলে এদের জীবনচারিতায়। এই জীবনবাদী নারীগোষ্ঠীর কাছে নারীবাদী আন্দোলনের ‘একাডেমিক’ কথা এসে পৌঁছাতেই পারেনি। ‘র‍্যাডিক্যাল’ বা ‘লিবেরাল’ ফেমিনিজম শব্দের সঙ্গে পরিচয়ও নেই এদের। তত্ত¡কথা দূরের কথা।
‘কালচারাল লিবেরাল ফেমিনিজম’ নিয়ে যারা কথা বলেন, এত দিনে তারা বুঝেছেন নারীবাদিতা আরও অনেক গভীর এবং ব্যাপক। আসলে
সংস্কৃতি তো ধরার জিনিস নয়, ছোঁয়ার জিনিসও নয়। ‘একটা সমাজ যা ভাবে এবং যা করে’ তাই সংস্কৃতি। আসলে বহমান জীবনের ভালো মন্দ ভাবনা চিন্তা ক্রিয়াকলাপ, সবকিছু নিয়েই মানুষের সাংস্কৃতিক ভুবন জীবন্ত এবং চলমান। এখানে কোনো মানুষ একা নয়। কেউ হঠাৎ করে যা খুশি তাই করতে পারে না। অন্যের জন্য না চাইলেও ভাবতে হয়। ফলে পরিবারের অন্য সদস্যদের কথা না ভেবে নারী-পুরুষ কারও পক্ষেই সম্পূর্ণ একা এবং স্বাধীন জীবনের কথা সহজে ভাবা যায় না। এখানে মানুষ বিনেসুতোর সম্পর্কে বাঁধা। এই বন্ধনকে স্বীকার করে, মূল্য দিয়ে, তারপর নারীবাদী আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অনেক হিসাব-নিকাশের ব্যাপার। সেজন্য কঠিন। তাই কি সরাসরি ‘র‍্যাডিক্যাল’ এবং ‘লিবেরাল’ ফেমিনিজমের পথে হেঁটে, অনেক হোঁচট খেয়ে, তবে ‘কালচারাল লিবেরাল ফেমিনিজম’ টার্মকে সামনে আনা হচ্ছে এখন? প্রশ্নটা আমার।
কেউ কেউ নারীবাদকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও সম্পর্কিত করতে চান। তাদের মতে, নারীর অধিকার আদায়ে রাষ্ট্রের সহযোগিতা থাকতে হবে। বোধহয় তারা প্রধানত আইনি নিরাপত্তার কথাই বলতে চান। নারীপক্ষ থেকে দাবি-দাওয়াকে মূল্য দেওয়াসহ রাজনৈতিক কর্মকাÐের মধ্যে তাকে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার কথা বোঝাতে চাইছেন। এটা আরও ব্যাপক আন্দোলন। ব্যাপক শিক্ষা ছাড়া এসব আন্দোলন গড়েই ওঠে না।
নারীবাদের প্রথম এবং প্রধান কথা হচ্ছে, ‘নারী-পুরুষের’ মধ্যে সমতা বিধান করা। এক্ষেত্রে সমতা নেই কোথায় এবং সমতা চাই কোথায় কোথায়, সেগুলো বিস্তারিতভাবে বুঝতে এবং ব্যাখ্যা করতে হবে প্রথমে। সেক্ষেত্রে পরিবারকেন্দ্র থেকে আসতে হবে বিষয়গুলোকে। একাডেমিক বিষয় থেকে পরিবারে নয়, পরিবার থেকে একাডেমিক বিষয়ে আসতে হবে। আমি তো এটাই বুঝি। কেউ কেউ নারীবাদে মার্কসীয় দর্শনকেও ডেকে এনেছেন। তাদের মতে শ্রেণিবৈষম্য না থাকলে নারীমুক্তি সম্ভব হবে। তাদের জন্য বলতে চাই, শ্রেণিবৈষম্য পৃথিবীতে ছিল, আছে, থাকবে। রাশিয়াও পারেনি শোষণহীন সমাজ ধরে রাখতে। সেখানেও শ্রমিক জগতে ছিলÑ নারী-পুরুষের বৈষম্য। ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতেও শ্রমের দামে আছে নারী-পুরুষের বৈষম্য। কার্ল মার্কস বেচারা এখানে অসহায়।
তাহলে পরিবারের বৈষম্যগুলোকেই ধরা যাক। ছেলেমেয়েকে সমান সুযোগ দিয়ে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। বিশেষ করে মেয়েদের মানসিক এবং পারিবারিকভাবে রোজগারে একজন মানুষ হিসেবে বড় করে তুলতে হবে। কন্যাকে বিয়ে দিয়ে দায় মোচনের মানসিকতা বাদ দিতে হবে একেবারে। পুরোপুরি স্বাবলম্বী করে তবে কন্যার বিয়ে। এ প্রসঙ্গেই আসবে বিয়ের বয়স। বেগম রোকেয়া এখন থেকে প্রায় ১২০ বছর আগে বলেছিলেন, মেয়েদের বিয়ের বয়স হবে ‘২১ বছর’। এটুকুই আমরা অর্জন করতে পারিনি আজও। একুশ শতকে এসেও কন্যার বিয়ের বয়স একবার হয় ‘১৮ বছর’, একবার হয় ‘১৬ বছর’। ‘একুশ’ পর্যন্ত যাওয়ার সাহসই হয় না। মানে ‘কিশোর বিবাহ’ আজও বন্ধ করতে পারিনি আমরা। পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে একটি মেয়ের ‘শিক্ষা’, ‘স্বাবলম্বিতা’ এবং ‘বিয়ের বয়স’ নির্ধারণ করতে পারার মানে হলো, পরিবারে পুরুষ সদস্যদের সঙ্গে বাস করেও নারীবাদের শক্ত স্তম্ভ গড়ে তোলা। এটাকেই বলতে চাই, ‘কালচারাল লিবেরাল ফেমিনিজম’। এ সহজ বিষয়টা বোঝার জন্য আরোপিত টার্মের কচকচি শোনানোর প্রয়োজন আছে কি? আমরা চাই কাজ। সেটার জন্যই অস্থিরতা এবং এত কথা বলা।
নারী-পুরুষের সমানাধিকার এবং সমতার ক্ষেত্রে অনেক ছোট ছোট বিষয় আছে। প্রকৃতিগতভাবে নারী-পুরুষের শরীরের গঠন আলাদা। যেমন পোশাকই পরুক, দেহের প্রকৃতি বদলায় না। নারীর কিছু কিছু শারীরিক ব্যাপার আছে, যা পুরুষের নেই। যেমন মেয়েদের অন্তর্বাস আলাদা রকমের। সন্তান ধারণ করলে মেয়েদের শরীরে এবং মনে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। মা হওয়ার পর আসে আর এক ধরনের পরিবর্তন। এর কোনোটাই ঘটে না ছেলেদের জীবনে। মেয়েরা শার্ট-প্যান্ট পরলেই কি প্রকৃতি উল্টে যাবে?
কিছু উন্নত দেশে মেয়েরা বাচ্চা ধারণ করার ব্যাপারে স্বাধীনতা নিয়েছিল। পরে সেসব দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ‘শূন্যের’ কোটায় নেমে যায়। দীর্ঘদিন পর আবার সরকারিভাবে সন্তান ধারণে মেয়েদের উৎসাহিত করা হয়। মানে, প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়েও খুব একটা লাভ হয় না। উন্নত দেশে যেটা করা হয়, তা হলোÑ ‘ম্যাটারনিটি লিভ’ বাবা-মা ভাগ শেয়ার করে। এটা ভালো লাগে আমার। এ ব্যবস্থা আমাদের দেশে চালু করা যেতে পারে।
মনে রাখতে হবে, নারীবাদী কার্যক্রম সব দেশে একই রকম হয় না। নারীবাদে মেয়েদের স্বাস্থ্যকথা এসেছে বারবার। দুঃখ লাগে, যে দেশে কোটি কোটি নারী অশিক্ষার মধ্যে ডুবে আছে, ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা পায় না, এমনকি স্বাভাবিক ঋতুচক্রের সময়েও লজ্জায় লুকিয়ে থাকতে হয়, স্যানিটারি ন্যাপকিন তো দূরের কথা, পরিষ্কার কাপড়ের টুকরাও জোটে না, রোগে পায় না পুষ্টিকর খাবার, তাদের জন্য আমরা কী করতে পেরেছি? বেগম রোকেয়া বলেছেন, নারীমুক্তির হাতিয়ার হলোÑ ‘শিক্ষা, শিক্ষা, শিক্ষা’। নারী শিক্ষাকেও আমরা বাস্তবায়িত করতে পারিনি। নগরে শহরে চাকরিজীবী মহিলাদের সংখ্যা একেবারে কম নয়। সুবিধাবঞ্চিতদের কথা বাদই দিলাম, শহুরে মেয়েদের জন্য সুলভে স্যানিটারি ন্যাপকিন প্রাপ্তিকে পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারিনি। পাশাপাশি ঋতুচক্রের সময় মেন্সট্রæয়াল কাপ ব্যবহারের কথাটাকে সৌখিনই মনে হয়। যারা ‘কাপ’-এর কথা জানেন, তারা ইচ্ছে করলেই সেটা কিনতে পারেন। কেনেনও। বলে দিতে হয় না।
এসব থেকেই বোঝা যায়, আমরা কী পরিমাণ ফাঁকি দিয়ে, গা বাঁচিয়ে প্রকারভেদের নারীবাদ কার্যক্রম চালাই। মানে, বলতে চাই, একটা দর্শনকে আন্দোলনে রূপ দেওয়া অবশ্যই কষ্টকর। তার চেয়েও কষ্টকর সে দর্শনের প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবায়ন। জীবন লগ্নি হয়ে যায় কর্মে। যেমন হয়েছিল বেগম রোকেয়ার। নারীবাদী আন্দোলনে তেমন করে জীবন লগ্নি করতে পেরেছি কি আমরা?

শিক্ষাবিদ, সাবেক অধ্যাপক
      ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]