ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ৩ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯

ইমাম মাহদির পরিচয় ও আগমন
আরিফ খান সাদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

কেয়ামতের আগে পৃথিবীতে ইমাম মাহদির আগমন ঘটবে। ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে তিনি সাত বা ৯ বছর পৃথিবী শাসন করবেন। কেয়ামতের আগে তার শাসনকাল হবে শেষ বরকত ও সুখ-শান্তির সময়। তার আগমনকে কেয়ামতের বড় আলামতের সূচনা হিসেবে অভিহিত করা হয়। হাদিসে এসেছেÑ হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘ততদিন পর্যন্ত পৃথিবীর সমাপ্তি হবে না, যতদিন না আমার বংশধর থেকে এক ব্যক্তি আরবের শাসক হবেন, যার নাম হবে আমার নামে।’ (তিরমিজি : ২/৪৭)। হাদিসের আলোকে তার সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু আলোচনা করা হলোÑ
ইমাম মাহদি আগমনের সুসংবাদ : হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি তোমাদের মাহদির আগমন সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছি। মানুষেরা যখন মতবিরোধে লিপ্ত হবে তখন তিনি প্রেরিত হবেন। পৃথিবী থেকে জুলুম-নির্যাতন দূর করে ন্যায়-ইনসাফ দ্বারা তা ভরে দেবেন। আসমান-জমিনের অধিবাসীরা তার ওপর সন্তুষ্ট হবেন। তিনি মানুষের মাঝে সমানভাবে প্রচুর সম্পদ বিতরণ করবেন।’ (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ : ৭/৩১৩-৩১৪)
আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা : হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘অতঃপর আল্লাহর খলিফা মাহদির আবির্ভাব ঘটবে। যখন তোমরা তাকে দেখবে, তখন তার হাতে বাইয়াত হয়ে যাবে। যদিও তার হাতে বাইয়াত হওয়ার জন্য বরফের ওপর হামাগুড়ি দিয়ে আসতে হয়। নিঃসন্দেহে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ হেদায়েতপ্রাপ্ত খলিফা মাহদি।’ (মুসতাদরাকে হাকেম : ৮৪৩২)। আরেকটি হাদিসে এসেছে, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন মাহদির আবির্ভাব ঘটবে তখন তার ওপর ভাসমান মেঘমালা থেকে একজন ঘোষক ঘোষণা করবেনÑ ইনি আল্লাহর খলিফা মাহদি, তোমরা তার অনুসরণ কর।’ (মিজানুল ইতিদাল : ৪৩৩)
নাম ও বংশ পরিচয় : রাসুল (সা.) বলেন, ‘ততদিন দুনিয়া ধ্বংস হবে না যতদিন না আমার পরিবারের একজন লোক আরবদের বাদশা হবেন। তার নাম হবে আমার নামে এবং তার পিতার নাম হবে আমার পিতার নামের অনুরূপ।’ (জামেউস সগির : ৫১৮০)। অর্থাৎ তার নাম হবে মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ। আরেকটি হাদিসে এসেছে, হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলকে (সা.) বলতে শুনেছিÑ ‘মাহদির আগমন সত্য। তিনি হবেন আমার পরিবারের ফাতেমার বংশধর থেকে।’ (মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৫৫৭)। অর্থাৎ, রাসুল (সা.)-এর কন্যা ফাতেমা (রা.)-এর বংশ সূত্রে তিনি নবীজির বংশধর হবেন।
ইমাম মাহদির অবয়ব ও চরিত্র : হজরত আবু সায়িদ খুদরি থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘মাহদি আমার বংশধর হবেন। তার চেহারা খুব নুরানি ও ঝলমলে হবে। নাক হবে পাতলা ও উঁচু।’ (আবু দাউদ : ২/৫৮৮)। আবু ইসহাক সাবিয়ি বর্ণনা করেন, হজরত আলী (রা.) একবার হাসানকে দেখে বললেন, ‘আমার এ ছেলে সাইয়েদ। রাসুল (সা.) তাকে সাইয়েদ বলে অভিহিত করেছেন। ওর বংশধর থেকে এক ব্যক্তি আসবেন, যার নাম নবীজির নামে হবে। তিনি স্বভাবগত দিক দিয়ে হাসানের মতো হবেন। তবে আকৃতিতে তার মতো হবেন না।’ (আবু দাউদ : ২/৫৮৯)
পরম সমৃদ্ধি ও স্বাচ্ছন্দ্যময় সময় : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার উম্মতের মাঝে একজন মাহদি (অর্থাৎ হেদায়েত ও নির্দেশনা প্রাপ্ত ব্যক্তি) আগমন করবেন। তার শাসনকাল কমপক্ষে সাত বছর স্থায়ী হবে। কিংবা আট বা ৯ বছর হবে। তার শাসনকালে আমার উম্মত এত বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে যে, ইতোপূর্বে আর কখনও এতটা স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে না। তার যুগে আকাশ থেকে প্রয়োজন অনুপাতে মুষলধারে বৃষ্টিবর্ষণ হবে। জমিন সব ধরনের শস্য উৎপাদন করবে। এক ব্যক্তি ইমাম মাহদির কাছে সম্পদ চাইবে, তিনি বলবেন, কোষাগারে গিয়ে তোমার চাহিদামতো নিজেই নিয়ে যাও।’ (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ : ৭/৩১৭)
ইমাম মাহদির বাহিনী : হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার বংশ থেকে এক ব্যক্তি (ইমাম মাহদি) তিনটি ঝান্ডায় আত্মপ্রকাশ করবে। (অর্থাৎ তার সৈন্যবাহিনী তিনটি পতাকায় বিভক্ত থাকবে)। সৈন্যবাহিনীর সংখ্যা যে বাড়িয়ে বলবে সে পনেরো হাজার বর্ণনা করবে আর যে কমিয়ে বলবে সে বারো হাজার বর্ণনা করবে। ওই বাহিনীর সাংকেতিক শব্দ (যুদ্ধের সময় পারস্পরিক বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহারের নিয়ম সব যুগেই চলে আসছে) হবে ‘আমিত’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ, শত্রæকে বধ করুন বা হে মুসলমানেরা, শত্রæদের বধ কর। মুসলানদের এই বাহিনী সাত ঝান্ডাবিশিষ্ট শত্রæবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে অগ্রসর হবে। প্রতিটি ঝান্ডার অধীনে লড়াইকারীরা শাসনক্ষমতার লোভী হবে। আল্লাহ সবাইকে মুসলিম বাহিনীর হাতে ধ্বংস করে দেবেন এবং মুসলমানদের মাঝে পারস্পরিক আন্তরিকতা ও হৃদ্যতা এবং নেয়ামত ও স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে দেবেন। তাদের নিকটবর্তী ও দূরবর্তীদের একত্র করবেন। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ : ৭/৩১৭; মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৫৫৩)
হজরত ঈসা (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ : হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘দ্বীন দুর্বল হয়ে পড়ার পর দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। তারপর হজরত ঈসা (আ.) আসমান থেকে অবতরণ করবেন। সুবহে সাদিকের পূর্বমুহূর্তে সাহরির সময় তিনি উচ্চস্বরে বলবেনÑ হে মুসলমানেরা! এই মিথ্যাবাদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে তোমরা বিরত রয়েছ কেন? লোকেরা বলাবলি করবেÑ জিন-ভ‚ত নাকি! এরপর তারা অগ্রসর হয়ে হজরত ঈসাকে (আ.) দেখতে পাবে। ফজরের নামাজের ইকামত হলে ইমাম মাহদি বলবেনÑ হে রুহুল্লাহ! ইমামতির জন্য সামনে অগ্রসর হোন। ঈসা (আ.) বলবেনÑ আমি এখন ইমামতি করব না। তোমাদের মধ্য থেকে কিছু লোক তোমাদের ইমাম, ওই ফজিলতের কারণে, যা আল্লাহ এই উম্মতকে দান করেছেন।’ (মুসলিম : ১/৮৭)। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) লিখেছেনÑ ‘হজরত ঈসা (আ.) এই এক ওয়াক্ত নামাজ ইমাম মাহদির পেছনে মুক্তাদি হয়ে আদায় করবেন। এরপর থেকে তিনি ইমামতি করবেন।’ (ফাতহুল বারি : ৬/৪৯৩)
ইমাম মাহদির জীবনকাল : ইমাম মাহদি নবী বা রাসুল হবেন না। বরং নবী বংশের একজন সাধারণ মানুষ। আল্লাহ তাকে বিশেষ মর্যাদায় শাসনক্ষমতা প্রদান করবেন। হাদিসে তার ব্যাপারে বিভিন্ন সুসংবাদ এসেছে। পৃথিবীতে ন্যায় ও ইনসাফের শাসন প্রতিষ্ঠা করে তিনি ইন্তেকাল করবেন। খেলাফত প্রতিষ্ঠার পর তিনি সাত বছরের মতো জীবিত থাকবেন। তারপর তার ইন্তেকাল হবে। হাদিসে এসেছে, আবু সায়িদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) আঙুলে গণনা করে বললেনÑ খেলাফত প্রতিষ্ঠার পর তিনি সাত বছর জীবিত
থাকবেন।’ (মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৫৫৭)

আগামী বৃহস্পতিবার পড়ূন ‘পৃথিবীতে ঈসা (আ.)-এর পুনর্বার আগমন’




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]