ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ৩ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯

ফজরের নামাজের বিশেষ ফজিলত
মুহাম্মদ মাহদি হাসান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.১০.২০১৯ ১১:২৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

মুসলমানদের দিনের শুরু হয় আল্লাহর দরবারে সেজদা করার মাধ্যমে। আল্লাহর কাছে অন্যতম প্রিয় দৃশ্য হচ্ছে বান্দা রাতের আরামের ঘুম ত্যাগ করে ভোরে মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য যাওয়া। এ জন্যই ফজরের নামাজকে ‘শ্রেষ্ঠ’ বলা হয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘ফজরের দুই রাকাত নামাজ আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে, সব কিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ।’ (মুসলিম : ১২৪০)। হাদিসে এর অনেক ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। নিচে কিছু আলোচনা করা হলো।
সারারাত জেগে ইবাদতের সওয়াব : ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করলে সারারাত জাগ্রত থেকে নফল নামাজ পড়ার সওয়াব পাওয়া যায়। হজরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে এশার নামাজ আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত জেগে নামাজ পড়ল। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে পড়ল, সে যেন পুরো রাত জেগে নামাজ পড়ল।’ (মুসলিম : ১০৯৬)
আল্লাহর জিম্মাদারি অর্জন : ফজরের নামাজ আদায় করলে পুরো দিন আল্লাহর জিম্মায় থাকার সৌভাগ্য লাভ হয়। হজরত জুনদুব ইবন আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করল, সে আল্লাহর জিম্মায় চলে গেল। অতএব আল্লাহ যেন তার জিম্মার বিষয়ে তোমাদের কোনোরূপ অভিযুক্ত না করেন।’ (তিরমিজি : ২১৮৪)
হাশরের ময়দানে নুর হবে : ফজরের নামাজ হাশরের ময়দানে বিশেষ নুর ও জ্যোতি হয়ে আবিভর্‚ত হবে। হজরত বুরাইদা আসলামি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যারা রাতের আঁধারে ফজর নামাজে মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, তাদের কেয়ামতের দিন (হাশরের মাঠে) পরিপূর্ণ নুর প্রাপ্তির সুসংবাদ দাও।’ (আবু দাউদ : ৪৯৪)
জান্নাতের সুসংবাদ : নিয়মিত ফজর নামাজ আদায়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাত প্রাপ্তির সুসংবাদ। হজরত আবু জুহাইর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলকে (সা.) বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে (অর্থাৎ ফজরের ও আসরের নামাজ) আদায় করবে, সে কখনও জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। (মুসলিম ৬৩৪, আবু দাউদ ৪২৭)
আল্লাহর দরবারে তাদের আলোচনা : যারা ভোর রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে ফজর নামাজ আদায় করে, সরাসরি আল্লাহর দরবারে তাদের নাম আলোচিত হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কাছে পালাক্রমে দিনে ও রাতে ফেরেশতারা আসে। তারা আসর ও ফজরের সময় একত্রিত হয়। যারা রাতের কর্তব্যে ছিল তারা ওপরে উঠে যায়। আল্লাহ তো সব জানেন, তবুও ফেরেশতাদের প্রশ্ন করেনÑ আমার বান্দাদের কেমন রেখে এলে? ফেরেশতারা বলে, আমরা তাদের নামাজরত রেখে এসেছি। যখন গিয়েছিলাম, তখনও তারা নামাজরত ছিল।’ (বুখারি : ৫৪০)
আল্লাহর দিদার ও দর্শন লাভ : গুরুত্বের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায়ের অন্যতম প্রাপ্তি হচ্ছেÑ পরকালে সরাসরি আল্লাহকে দেখার সৌভাগ্য লাভ। আর এটি হচ্ছে সর্বোত্তম পুরস্কার। হজরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘এক রাতে আমরা রাসুল (সা.)-এর কাছে ছিলাম। হঠাৎ তিনি পূর্ণিমার রাতের চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেনÑ শোন! নিশ্চয় তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে তেমনি স্পষ্ট দেখতে পাবে, যেমন স্পষ্ট ওই চাঁদকে দেখতে পাচ্ছ। তাকে দেখতে তোমরা কোনো ভিড়ের সম্মুখীন হবে না। কাজেই তোমরা যদি সূর্য ওঠার আগের নামাজ ও সূর্য ডোবার আগের নামাজ আদায় করতে সক্ষম থাকলে অবশ্যই তা আদায় কর। তারপর তিনি এ আয়াত তেলাওয়াত করলেনÑ সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে আপনি আপনার প্রতিপালকের প্রশংসার তাসবিহ পাঠ করুন।’ (বুখারি : ৫৭৩)





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]