ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ৩ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯

জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনুন
মরা মুরগি যায় কোথায়
প্রকাশ: রোববার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১২.১০.২০১৯ ১১:৪৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

যেকোনো খাদ্যপণ্য নিয়ে আমাদের দেশের মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। সবার প্রশ্ন, আমরা কী খাই, কী খেয়ে বেঁচে আছি! আমরা এতসব রোগ বহন করছি, এর জন্য দায়ী কারা? কেন করে? সংশ্লিষ্টদের এদিকে নজর আছে বলে আমাদের মনে হয় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে বর্তমান এবং আগামী প্রজন্মের ভবিতব্য কী? তা কি কেউ জানে? মনে হয় না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা যে একটি অসুস্থ জাতি জন্ম দিতে যাচ্ছি, তার দিব্যলক্ষণ আমাদের নিকট দিনকে দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গণমাধ্যমে এ নিয়ে শত শতবার তাগিদ দিলেও সংশ্লিষ্টদের টনক নড়ছে বলেও মনে হয় না। ভোগ্যপণ্যের মান নিয়ে দৈনিক সময়ের আলোতে অনেকগুলো সরেজমিন প্রতিবেদন বের হওয়ার পর হাইকোর্ট সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন এবং এ নিয়ে রুলও জারি করেছিলেন। এতে করে বেশ কয়েকটি পণ্যের মান নিয়ে নানামুখী প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে পণ্যের মান নির্ধারণী সংস্থা বিএসটিআইকে। বাজার থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য স্থগিত অথবা তুলেও নেওয়া হয়েছিল। তারপরও সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি নিয়ে ভাবিত আমরা তা মনে করছি না। না হলে, সাম্প্রতিককালে গণমাধ্যমে যে চিত্র, বিশেষ করে গরুর মাংসে কীভাবে আমদানিকৃত মহিষের মাংস বা নিষিদ্ধ কোনো মাংস মেশানো হচ্ছে তার বৃত্তান্তও প্রকাশিত হয়েছে। তার কোনো প্রতিকার হয়েছে কি না আমরা জানি না। এ কারণে স্বভাবতই আমাদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা নেমে এসেছে।

দৈনিক সময়ের আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কাপ্তান বাজার, মোহাম্মদপুর কাঁচা বাজার, ফকিরাপুলসহ বড় বাজারগুলোতে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, ট্রাক ট্রাক মুরগির চালান এলেই দেখা যায়, প্রতি ট্রাকে ২০-৩০টি মুরগি মারা গেছে। এই মরা মুরগিগুলো কী হয়? এ প্রশ্নের জবাবে তারা জানিয়েছে তাজা বা টাটকা মুরগির সঙ্গে মিশিয়ে বাজারজাত করা হয়। তারা জানিয়েছে, ফাস্টফুডের দোকানগুলো এসব মৃত মুরগির মূলত প্রধান ক্রেতা। তা ছাড়া সুপারশপগুলোও এসব মৃত মুরগির বড় ক্রেতা হিসেবে তাদের শপগুলোতে বাজারজাত করে থাকে, যা ক্রেতারা বরফজাত মুরগি হিসেবে দেদার কিনে থাকে। উল্লেখ্য, শুধু কাপ্তান বাজারেই প্রতিদিন পাঁচশ মরা মুরগি বাজারজাত করা হয়। প্রতিটি সিটি করপোরেশন মার্কেটে মরা মুরগি রাখার জন্য আলাদা ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও সেখানে অদ্যাবধি কোনো মরা মুরগি পড়ে থাকতে দেখা যায়নি। এ ছাড়া যে গুরুতর অভিযোগ প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে তা শিউরে ওঠার মতো। মুরগিগুলো জবাই করা হয় এক দুই তিন গুনে। কোনো ধর্মীয় অনুশাসন মানা হয় না। অর্থাৎ দোয়া-দরুদ পড়া হয় না। দীর্ঘদিন ধরে চলে এসেছে এমনতর মুরগি বিক্রির প্রক্রিয়া। নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে এবং ধর্মীয় অনুশাসনের তোয়াক্কা না করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতিনিয়তই প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে যে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, তা গ্রহণীয় নয়। আমরা মনে করি, তা দেখার কেউ নেই। থাকলে খোদ রাজধানীর এহেন বিপর্যয়কর চিত্র দেখতে হতো না। এমনিতেই খাদ্যপণ্য নিয়ে মানুষ এক ধরনের শঙ্কা পোষণ করে থাকে। খাদ্যপণ্যের যে ভয়াবহ চিত্র জনগণকে তাড়িয়ে বেড়ায়, তা থেকে উত্তরণের পথ বের করার জন্য নতুন কোনো আইন করার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা মনে করি না। এর জন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা। রাষ্ট্রীয়ভাবে যাদের এই দায়িত্ব পালন করার কথা, তারা যদি এ ব্যাপারে নজরদারি বৃদ্ধি করে এসব অসাধু অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে তাহলেই মুরগির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারটির প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]