ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ৩ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯

স্মরণ
গোলাম মোস্তফা
প্রকাশ: রোববার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১২.১০.২০১৯ ১১:৪৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

বাঙালি লেখক এবং কবি গোলাম মোস্তফার জন্ম ১৮৯৭ সালে। তিনি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রেঁনেসার কবি নামে পরিচিত। গোলাম মোস্তফা ১৯২০ সালে ব্যারাকপুর সরকারি স্কুলে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৪৯ সালে ফরিদপুর জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তার মুখ্য পরিচয় ছিল। রক্তরাগ, খোশরোজ, কাব্য-কাহিনি, সাহারা, হাস্নাহেনা, বুলবুলিস্তান, তারানা-ই-পাকিস্তান, বনি আদম, গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি তার মৌলিক কাব্য এবং মুসাদ্দাস-ই-হালী, কালামে ইকবাল, শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া অনুবাদকাব্য। তার গদ্য রচনার মধ্যেÑ বিশ^নবী, ইসলাম ও কমিউনিজম, ইসলাম ও জেহাদ, আমার চিন্তাধারা, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি প্রধান। তার বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এতে তিনি হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

গোলাম মোস্তফার কাব্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ও শিল্পসম্মত প্রকাশভঙ্গি এবং ছন্দোলালিত্য। তিনি কয়েকটি পাঠ্যপুস্তকও রচনা করেন এবং সেগুলো অবিভক্ত বাংলায় খুবই সমাদৃত হয়েছিল। তার কয়েকটি কবিতা স্কুলপর্যায়ে পাঠ্য ছিল। তিনি গীতিকার ও গায়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তার গানের বিষয় ছিল ইসলামী সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম। পাকিস্তান আন্দোলনের পটভূমিকায় বহু ইসলামী ও দেশাত্মবোধক গান তিনি রচনা করেন। তার রচিত কয়েকটি দেশাত্মবোধক গান খুব জনপ্রিয়তা লাভ করে।  এর মধ্যে আব্বাসউদ্দীনের সঙ্গে গাওয়া রেকর্ডও রয়েছে। সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন। বেশ কিছুদিন রোগ-যন্ত্রণা ভোগ করার পর ১৯৬৪ সালের ১৩ অক্টোবর তিনি ঢাকায় মারা যান।


ইলা মিত্র :
প্রখ্যাত রাজনীতিক ও কমিউনিস্ট নেত্রী ইলা মিত্রের জন্ম ১৯২৫ সালের ১৮ অক্টোবর কলকাতায়। ছাত্রাবস্থায়ই তিনি জড়িয়ে পড়েন রাজনীতির সঙ্গে। পর্যায়ক্রমে যুক্ত হন গার্লস স্টোরস কমিটি, ছাত্র ফেডারেশন, মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে। বিবাহ সূত্রে ১৯৪৫ সালে চলে আসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের রামচন্দ্রপুরে। সামন্ত পরিবারের রক্ষণশীলতাকে ভেঙে, তখনকার পল্লীর অচলায়তনকে অতিক্রম করতে যুক্ত হন মেয়েদের জন্য গড়া নতুন স্কুলের সঙ্গে, শিক্ষক হিসেবে।
পরবর্তী সময়ে পরিবারের
শ্রেণি-অবস্থানকে অতিক্রম করে, কমিউনিস্ট নেতা ও স্বামী রমেন্দ্রনাথ মিত্রের সঙ্গে তিনি যুক্ত হন জমিদারি উচ্ছেদ ও জোতদারি শোষণের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ের আন্দোলনে। ১৯৪৬-৪৭ সালে ফসলের দুই-তৃতীয়াংশের ওপর কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বাংলার ১৯টি জেলায় গড়ে ওঠে তেভাগা আন্দোলন, তা পরিব্যপ্ত থাকে ১৯৪৯-৫০ সাল পর্যন্ত। তেভাগার দাবিতে রাজশাহী জেলার,
বিশেষভাবে নাচোলের কৃষকদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে ইলা মিত্র অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেন।
আদিবাসী কৃষকদের মধ্যে তার এতটা গ্রহণযোগ্যতা ছিল যে, তারা তাকে শুধু বিশ^াসই করতেন না, সেই সঙ্গে নিজেদের একজন বলেও ভাবতেন। ইলা মিত্র ক্রমশ হয়ে ওঠেন সাঁওতাল ও অন্যান্য কৃষকদের ‘রানীমা’। কৃষকদের সঙ্গে সংঘর্ষে দারোগাসহ চারজন পুলিশ নিহত হওয়ার সূত্রে পাকিস্তানি শাসকবর্গ আদিবাসীদের ওপর প্রচণ্ড নিপীড়ন চালাতে শুরু করলে নাচোলের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। ইলা মিত্র নিজে চরম লাঞ্ছনার শিকার হন, বিচারে ইলা মিত্রসহ ২৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
১৯৫৪ সালে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে কলকাতা যাবার পর ইলা মিত্র আর পূর্ব বাংলায় ফিরে আসেননি। ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিশ্চিত না হওয়ায় প্রচণ্ড দুরবস্থায় কয়েক বছর বস্তিতে জীবনযাপন করেন। এরপর এমএ পাস করে তিনি কলকাতা সিটি কলেজে অধ্যাপনায় যোগ দেন। ১৯৬২-৭৮ সময়ের মধ্যে মানিকতলা নির্বাচনি এলাকা থেকে তিনি পরপর চারবার পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে দুবার তিনি ছিলেন বিধান সভায় কমিউনিস্ট পার্টির ডেপুটি লিডার। ভারতে শিক্ষা আন্দোলন ও নারী আন্দোলনে বিশিষ্ট ভূমিকা পালনকারী ইলা মিত্র ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রাদেশিক পর্যায়ের নেতৃত্বে সমাসীন ছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পক্ষে তিনি জনমত সংগঠিত করতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা নেন। ইলা মিত্রের অসাধারণ সাহসী ও সংগ্রামী জীবন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবাংলার প্রগতিশীল মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। ১৩ অক্টোবর ২০০২ সালে ইলা মিত্র মারা যান। (বাংলাপিডিয়া)




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]