ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ৩ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯

বগুড়া-৪ আসনে অস্তিত্ব সংকটে বিএনপি 
মোশারফের বিরুদ্ধে উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা লুটপাটের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশ: রোববার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) সংসদীয় এলাকায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বিএনপি। এ আসনে একসময় বিএনপির প্রতাপ থাকলেও এখন তা শূন্যের কোটায়। দলীয় কার্যক্রম এখন নেই বললেই চলে। নেতাদের জীবন যেন চার দেয়ালে বন্দি। অনেক নেতাকর্মীই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে ভিড়ে গেছেন। বাকিদের অনেকে হয়ে গেছেন নিষ্ক্রিয়। তবে কার্যক্রম না থাকলেও মাঠ পর্যায়ে রয়েছে দলীয় কোন্দল। এ অবস্থায় দুই উপজেলায় নেতাকর্মী আর সমর্থকের ছড়াছড়ি থাকলেও সাংগঠনিক সংকট বেড়ে গেছে অনেক।
এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বিএনপির মো. মোশারফ হোসেন। কিন্তু নির্বাচনের পর থেকে এমপির বিতর্কিত কর্মকাণ্ড দলে বিভক্তি তৈরি করেছে। আবার দলের ভেতর থেকেই তার বিরুদ্ধে উন্নয়ন বরাদ্দ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে দুই উপজেলায় বিএনপির একাধিক গ্রুপ সক্রিয়। আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে এ কোন্দল আর গ্রুপিং আরও বেড়েছে। আর এই বিরোধকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলা বিএনপিতে ভাঙনের সুর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিভক্ত বিএনপির একটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমপি মোশারফ হোসেন। আরেকটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট রাফি পান্না ও সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফজলে রাব্বী তোহা। ইউনিয়ন পর্যায়ের অনেক নেতাই এই দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।
এ ছাড়া কাহালুতে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কাজী আব্দুর রশিদ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আরেক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা আছেন এমপি মোশারফের সঙ্গে। এ ছাড়া সাবেক সভাপতি ফরিদুর রহমান পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন সামনে রেখে বর্তমানে অনেকেই সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ পদ ধরে রাখতে আবার কেউ সমর্থকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনতে শুরু করেছেন লবিং-তদবির। আর সুবিধাবাদী এসব নেতার দৌড়ঝাঁপে আড়ালে পড়ে যাচ্ছেন দলের যোগ্য ত্যাগী নেতারা।
মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এমপি মোশারফ স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এ আসনে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিপর্যয় নেমে আসছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই দল পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এমপির সঙ্গে দলের একটি বড় অংশের দূরত্ব তৈরি হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা বলেন, নন্দীগ্রামে চলতি বছর গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা-দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়) কর্মসূচির আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১১৫ টন খাদ্যশস্য এমপির নামে বরাদ্দ আসে। এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর-দ্বিতীয় পর্যায়) কাজে বরাদ্দ মেলে ২৫ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। আবার কাহালু উপজেলায় অনুরূপ দুটি খাতে বরাদ্দ পাওয়া যায় ১২০ টন খাদ্যশস্য ও ২১ লাখ টাকা। বেশিরভাগ প্রকল্পেই ২০ শতাংশও কাজ হয়নি। প্রকল্পের সমুদয় টাকাই হরিলুট হয়েছে। এমপি মোশারফ হোসেন বলেন, প্রবীণ-নবীন সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করছি। আর উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে শুরুতে কিছুটা অনিয়ম হলেও এখন যথাযথভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]