ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯

আগরতলার বিষাক্ত পানি : আখাউড়ায় শিশুদের মেধা হুমকির মুখে
আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৪.১০.২০১৯ ১২:৫৩ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 35

আগরতলার বিষাক্ত পানি : আখাউড়ায় শিশুদের মেধা হুমকির মুখে

আগরতলার বিষাক্ত পানি : আখাউড়ায় শিশুদের মেধা হুমকির মুখে

বিষাক্ত পানি দিয়ে চাষ করা ধানের ভাত খাওয়ার ফলে শিশুদের মেধা দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন আখাউড়ার আবদুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বোরহান উদ্দিন আহমেদ। তার মতে, তিনি উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের পড়িয়েছেন। কিন্তু এ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর তিনি দেখেন, এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেধা অনেকাংশই দুর্বল। তার ধারণা, দূষিত পানি দিয়ে চাষবাস করায় এবং সেই জমির ফলস খাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশিত হচ্ছে না।

ত্রিপুরার রাজ্য আগরতলার থেকে নেমে আসছে ছাই রঙের দুর্গন্ধ যুক্ত দূষিত পানি। এ পানি আখাউড়া স্থলবন্দর ঘেঁষা সিঅ্যান্ডবি খাল ও জাজি নদী দিয়ে ছড়িয়ে পছে উপজেলার কৃষিজমিসহ তিতাস নদীতে। এতে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। ভেসে আসছে মরা বিভিন্ন পশুপাখি। এসব পচা পশুপাখির দুর্গন্ধ পরিবেশ দূষিত করছে। তা ছাড়া এখানকার কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ ও শ^াসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

জানা গেছে, জাজি নদীর উৎপতিস্থল ত্রিপুরা পাহাড়ি এলাকা থেকে। এ নদীটি সীমান্তবর্তী আখাউড়া উপজেলা আবদুল্লাহপুর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সাইনধারা, হাওড়া নদী ও বিভিন্ন খাল দিয়ে জাজি নদীর পানি তিতাস নদীতে পড়ছে। এক সময় আখাউড়ার আবদুল্লাহপুর, কালিকাপুর, সাহেবনগর, গাজীর বাজারসহ প্রায় ১৫ গ্রামের মানুষ মাছ শিকার ও নৌকা দিয়ে মালামাল পরিবহন করত। এই নদী দিয়ে আগরতলার দূষিত পানি প্রবাহের কারণে নদীটি এখন মৃত। ১৯৭২-৮০ সাল পর্যন্ত এই খাল দিয়ে প্রবাহমান বর্জ্য সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও বর্তমানে কলকারখানার বর্জ্য মিশ্রিত দুর্গন্ধযুক্ত (ময়লা) কালো পানি আখাউড়া আসায় সীমান্ত এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এ কালো পানি দিয়ে আখাউড়া দক্ষিণ, মোগড়া ও পৌর এলাকার প্রায় ২০ হেক্টর জমি চাষাবাদ হচ্ছে। এ পানি যেখানে পড়ে সেখানেই ফেনা জমে জায়গা কালো হয়ে যায়। ধান গাছে এ পানি পড়ে লালছে হয়ে যায়। চাষাবাদের জমিতে এই ময়লা পানি পড়ার কারণে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। এই ময়লা পানি প্রবাহ বাংলাদেশের নদী খালের পানির সঙ্গে মিশে মাছসহ সব প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোবারক হোসেন ভূইয়া বলেন, বিষাক্ত দুর্গন্ধ পানির কারণে কাজকর্ম করা যাচ্ছে না। কিছুক্ষণ থাকলেই মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায়। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীও বেশিক্ষণ অফিসে কাজ করতে চায় না দুর্গন্ধের কারণে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, ওই পানিতে ভারী পদার্থ রয়েছে- যেমন অ্যালুমুনিয়াম, লেদসহ বিভিন্ন পদার্থ। এসব পদার্থ মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। এ পানি দিয়ে সেচ দেওয়া ঠিক নয়। আখাউড়া নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আক্তার রেইনা বলেন, এটা পরিবেশের জন্য হুমকি। এ বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানির কারণে স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকারক। এতে এলার্জি, চর্ম ও শ^াসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। তা ছাড়াও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
২৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কবীর বলেন, পতাকা বৈঠকে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে বিএসএফের সঙ্গে। তারা আমাদেরকে আশ^স্ত করেছেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ৪০০ মিটার বক্স কালভাট নির্মাণ করে দেবে এবং ওই দূষিত পানিকে পানি শোধন প্ল্যান্টের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি ছাড়বে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]