ই-পেপার শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯ ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯

যেসব আমলে জান্নাতে প্রাসাদ তৈরি হয়
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 231

দুনিয়াতে এমন কিছু নেক আমল রয়েছে- যেগুলোর প্রতিপালনে আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে অনিন্দ্যসুন্দর প্রাসাদ তৈরি করে দেন। প্রাসাদগুলো কুদরতি নেয়ামতে ভরা। এসব সৎকর্ম মোটেও আয়াসসাধ্য নয়, বরং সহজসাধ্য। একটু মনোযোগী হলেই তা সম্ভব। নির্মাণ শ্রমিকগণ জান্নাতে সৎকর্মশীলদের জন্য প্রাসাদ তৈরি করার কাজে মশগুল থাকেন। মাঝেমধ্যে তারা কাজ বন্ধ রাখেন। তাদের জিজ্ঞাসা করা হয় কেন কাজ বন্ধ রেখেছ? তারা জবাব দেয় নিচে নেক আমল বন্ধ রয়েছে। নেক আমল শুরু হলে আমরা কাজে ধরব। তাই দুনিয়ার সময়গুলো হেলায়-ফেলায় নষ্ট না করে এসব আমলের মাধ্যমে জান্নাতে প্রাসাদ নির্মাণের জোগান দেওয়াই মুমিনের কর্তব্য। নিচে এমন কিছু আমল সম্পর্কে আলোকপাত করা হচ্ছে-
হাদিসে এসেছেÑ যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি বিধানের প্রত্যাশায় মসজিদ তৈরি করে দেন, ১০ বার সুরা ইখলাস তিলাওয়াত করেন আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে একটি, যে ২০ বার পড়বে তার জন্য ২টি এবং যে ৩০ বার পড়বে তার জন্য ৩টি রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করে দেবেন। এ কথা শুনে হজরত ওমর (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! জান্নাতে তো আমাদের অনেক প্রাসাদ থাকবে। মহানবী (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালার দয়া ও মেহেরবানি আরও ব্যাপক ও বিস্তৃত। (বুখারি : ১/৫৫৪; মুসলিম : ২৪; দারেমি : ২/৪৫৯; সুয়ুতি, বুদুরুস সাফেরাহ : ১৮১৯)
দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। পরকালে নামাজিদের পুরস্কারে ভূষিত করবেন। আর কিছু নামাজ আছে যেগুলো মহানবী (সা.) নিয়মিত গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করতেন। ইসলামী পরিভাষায় এগুলো ‘সুন্নাতে মুয়াক্কাদা’ নামে অভিহিত। এসব নামাজ আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য হাসিলের মাধ্যম। আরও কিছু নামাজ আছে যেগুলো ফরজ নয়, সুন্নাতে মুয়াক্কাদাও নয়। পড়লে সওয়াব, না পড়লে গুনাহ নেই। এগুলোকে বলা হয় ‘নফল’। এ নামাজগুলো বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময়। মহানবী (সা.)-এর ভাষ্যমতে যে ব্যক্তি দিন-রাতে ১২ রাকাআত নামাজ আদায় করেন আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে তার জন্য একটি প্রাসাদ তৈরি করে দেবেন। ফজরের নামাজ শেষে সূর্য কিছু দূর ওঠার পর যে নফল নামাজ আদায় করা হয় তা ‘সালাতুদ দোহা’ বা চাশতের নামাজ নামে পরিচিত। যে ব্যক্তি ১২ রাকাত চাশতের নামাজ আদায় করবেন তাকে জান্নাতে স্বর্ণের তৈরি একটি প্রাসাদ দেওয়া হবে। মাগরিব ও এশার নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে নফল নামাজের নাম ‘সালাতুল আওয়াবিন’। যে ব্যক্তি ১০ বা ২০ রাকাত আওয়াবিনের নামাজ আদায় করবেন তিনি জান্নাতে একটি প্রাসাদ প্রাপ্ত হবেন। (মুসনাদে আহমদ : ৬/৩২৭; নাসায়ি : ৩/২৬২; মুসতাদারাক : ১/৩১১; ইবনে খুজায়মা : ১১৮৮; তিরমিজি : ৪৭৩; ইবন মাজাহ : ১৩৭৩, ১৩৮০; কানযুল উম্মাল : ১৯৪২৬; ইবনে হিব্বান : ৪৪৬)
রমজানে রোজা পালন করা ফরজ। এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা সিয়াম সাধকদের জীবনের সব পাপ মোচন করে দেবেন এবং পরকালে অফুরন্ত নেয়ামত দান করবেন। কিছু রোজা আছে নফল যেগুলো পালন করলে বিস্ময়কর ফলাফল মেলে।
যে ব্যক্তি রমজানে রোজা রাখেন, তার প্রতিটি সিজদায় ১৫শ নেকি আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হয় এবং জান্নাতে রক্তিম নীলকান্তমণি বা সবুজ গোমেদ পাথর দিয়ে তৈরি একটি প্রাসাদ তার জন্য প্রস্তুত রাখা হবে। যে ব্যক্তি বুধ, বৃহস্পতিবার ও জুমার দিন রোজা রাখেন আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে এমন একটি প্রাসাদ হস্তান্তর করবেন, যা তার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত। (আল বুদুরুস সাফেরাহ : ১৮১৫, ১৮২৯; মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ৩/১৪৩; আত-তারগিব আত তারহিব : ২/১২৬)।
আরও নেক আমল আছে যেগুলো পালন করলে জান্নাতে রাজপ্রাসাদ পাওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে। যে ব্যক্তি নফল রোজা রাখেন, জানাজায় শরিক হন, অসুস্থ মানুষকে দেখতে যান, মিসকিনদের অন্ন জোগান, ফরজ নামাজের কাতার সোজা রাখেন এবং কাতারের শূন্যস্থান পূরণ করে নেন, মিথ্যা ছেড়ে দেন, ঝগড়া বিবাদ পরিহার করেন, উত্তম চরিত্র গ্রহণ করেন, বৃহস্পতিবার রাতে অথবা জুমার দিন সুরা দোখান তেলাওয়াত করেন; এসব আমলের বিনিময়ে জান্নাতে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং একটি প্রাসাদ তাকে দেওয়া হবে। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ : ৩/১৬৩; ইবনে মাজাহ : ৯৯৫; আল বুদুরুস সাফেরাহ : ১৮১৭, ১৮২৬)
মহানবী (সা.) বলেন, যারা ঈমান আনবেন, মুসলমান হবেন এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করবেন তাদের জন্য জান্নাতের নিম্নস্তরে একটি, মধ্যস্তরে একটি এবং উচ্চস্তরে একটি প্রাসাদ তৈরি করা হবে। আমি মুহাম্মদ (সা.) তার জিম্মাদারী নিলাম (সুনান নাসায়ি : ৬/২১; তাবারানি : ১৮/৩১১)। হাটবাজার ও শপিংমলে প্রবেশ করে নিম্নোক্ত দোয়া পড়েন আল্লাহ তায়ালা তার আমালনামায় এক লাখ নেকি লিপিবদ্ধ করেন, এক লাখ পাপ মার্জনা করেন এবং জান্নাতে রাজপ্রাসাদ তৈরি হয়ে যায়। দোয়াটি হচ্ছেÑ আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলক ওয়া লাহুল হামদ, ইউহয়ি ওয়া ইউমিত, ওয়া হুয়া হাইউন লা ইয়ামুত বিয়াদিহিল খায়ের, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।’
(তিরমিজি : ৩৪২৫; ইবনে মাজাহ : ২২৩৫)
ঈমানদার কোনো ব্যক্তির সন্তান যখন মারা যায়, ফেশেতাদের ডেকে আল্লাহ তায়ালা জানতে চান, আমার বান্দারা কী বলেছে? ফেরেশতাগণ জবাব দেবেন, তারা মন্দ কিছু বলেনি বরং আপনার প্রশংসা করেছে এবং ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়েছে। আল্লাহ তায়ালা তাদের হুকুম দেন তাদের জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ তৈরি করো এবং তার নাম দাও ‘বায়তুল হামদ’। মৃতব্যক্তির জন্য যারা কবর খনন করেন তারাও প্রাসাদ পাবেন। (আবু দাউদ তায়ালাসি : ৫০৮; কানযুল উম্মাল : ৪৩৫৭০)
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ওমর গণি এমইএস ডিগ্রি কলেজ, চট্টগ্রাম
 





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]