ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯

ইসলামে খুনের শাস্তি ভয়াবহ
মাহমুদ সালেহীন খান
প্রকাশ: রোববার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ২০.১০.২০১৯ ১:১৮ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 64

ইসলামে খুনের শাস্তি ভয়াবহ

ইসলামে খুনের শাস্তি ভয়াবহ

আল্লাহর সৃষ্টি সর্বশ্রেষ্ঠ জীব মানব হত্যা শিরকের পর সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধ। মানব হত্যাকারী ব্যক্তি আল্লাহর বিচারে খুনি। রাষ্ট্রের বিচারে খুনি। নিজের বিবেকের বিচারেও খুনি। নিজের ছেলেমেয়ে, বন্ধুবান্ধব, আপনজন, আত্মীয়-স্বজনের দৃষ্টিতেও খুনি। খুনি হিসেবে সবার অভিশাপ তাকে তাড়া করে।

একজন মানুষের জীবনে এর চেয়ে বড় অভিশাপ আর কী হতে পারে, সে খুনি হিসেবে বেঁচে আছে? তারপর জীবন শেষ বিচারে চিরদিন জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে। আল্লাহ বলেন, আর যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে ইচ্ছা করে হত্যা করল, তার প্রতিফল হলো জাহান্নাম। সেখানে সে চিরকাল বসবাস করবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রোধান্বিত হয়ে থাকেন, তাকে অভিসম্পাত করেন; আর তার জন্য ভয়ানক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।’ (সুরা নিসা : ৯৩)

অথচ মানুষ সামান্য স্বার্থের কারণে, কখনও রাজনৈতিক কারণে নিষ্পাপ শিশুকে পর্যন্ত হত্যা করে ফেলছে। এ কী নিষ্ঠুরতা! অথচ যেকোনো ধর্মের মানুষ হোক বিনা কারণে রক্তপাত করা ইসলামের দৃষ্টিতে ঘৃণ্য অপরাধ। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি কাউকে হত্যার অপরাধ বা দেশে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করার অপরাধ ব্যতীত কোনো মানুষকে হত্যা করল, সে যেন সব মানুষকে হত্যা করল।’ (সুরা মায়িদা : ৩২)। তাই খুনি সে যেই হোক, যে ধর্মের হোক, আর যে চেতনার হোক, যে কারণেই হোক, সবসময় সে মানব সমাজের জন্য, সভ্যতার জন্য হুমকি। মহান আল্লাহর এই বাণী এ কথার প্রমাণ।

মানুষের জীবনটা তার স্রষ্টার কাছে অনেক মূল্যবান। হাদিসে এসেছে ‘উপযুক্ত কারণ ব্যতীত কোনো মুমিনকে খুন করা যে অপরাধ, তার চেয়ে পুরো দুনিয়া ধ্বংস করা আল্লাহ কাছে লঘুতর পাপ।’ (ইবনে মাজা, কিতাবুদ দিয়াত)
অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা কেয়ামতের অন্যতম আলামত। হাদিসে এসেছে ‘যে সত্তার হাতে আমার জীবন তার শপথ করে বলছি, অবশ্যই মানব সমাজে এমন সময় আসবে, খুনি জানবে না, সে কেন খুন করেছে, আর নিহত ব্যক্তি বুঝবে না, কিসের জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে।’ (মুসলিম, কিতাবুল ফিতান)

হজরত ইবনে আব্বাসকে (রা.) প্রশ্ন করা হলো, এক ব্যক্তি একজন মোমিনকে হত্যা করেছে। এরপর তওবা করেছে, ঈমানদার হয়ে গেছে, নেক আমল করেছে এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত হয়েছে। তিনি বললেনÑ ‘তোমাকে ধিক্কার! সে হেদায়েত পায় কীভাবে? আমি তোমাদের নবী (সা.)-এর মুখে শুনেছি নিহত ব্যক্তি তার খুনিকে টেনেহিঁচড়ে আল্লাহর কাছে নিয়ে আসবে। আর বলবে হে রব, আপনি জিজ্ঞেস করুন, সে কেন আমাকে খুন করেছে? আল্লাহর কসম! আল্লাহ এ ব্যাপারে তোমাদের নবীর ওপর যা নাজিল করেছেন (সুরা নিসার ৯৩ আয়াত) তা রহিত করেননি।’ ইবনে আব্বাস (রা.) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, খুনির তওবা আল্লাহ কবুল করবেন না। যদিও অধিকাংশ আলেমের মত হলো, এটি মূলত ধমকি হিসেবে বলা হয়েছে। অতএব, দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের জন্য যারা কথায় কথায় মানুষ হত্যা করে তাদের ভাবা উচিত কী পরিণাম তাদের জন্য অপেক্ষমাণ করছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]