ই-পেপার শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯ ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯

পাথরঘাটায় শিশুর কোলে শিশু
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯, ২:৩৭ পিএম আপডেট: ২১.১০.২০১৯ ২:৩৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 77

পাথরঘাটায় শিশুর কোলে শিশু

পাথরঘাটায় শিশুর কোলে শিশু

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মাসের পর মাস স্কুল ছাত্রীর (জাকিয়া পুর্নিমা) সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন একই এলাকার আরেক কলেজ পড়ুয়া রাজু আহমেদ (২০)। এর এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যায় ঐ স্কুল ছাত্রী (১৪)।

এরই মধ্যে সৃষ্টি হয় সম্পর্কের ভাঙন। অভিযুক্ত ধর্ষক চলে যায় নিজ ক্যাম্পাস বরিশাল অমৃত লাল দে কলেজে।

কয়েক মাস পার হয়ে যাওয়ার পর ওই স্কুল শিক্ষার্থীর শারীরিক পরিবর্তন হলে পরিবারের চাপে এক পর্যায়ে তার অন্তঃসত্বার খবর তার বোন (রেশমাকে) জানায় (পুর্নিমা)। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষনের অভিযুক্ত ছাত্রের নাম রাজু আহমেদ (২০)। তিনি বরিশাল অমৃত লাল দে কলেজে থেকে এ বছর এইচএসসি পাস করে অনার্স শ্রেনীতে ভর্তির চেষ্টা করছে।

সে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল জলিলের ছেলে। ভুক্তভোগী (জাকিয়া
পুর্নিমা) কাঠালতলী স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ও একই গ্রামের দিনমজুর (জাকির হোসেনের) মেয়ে।

ধর্ষণের শিকার অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী রবিবার রাত আটটার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেয়।

এর আগে পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীনকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি ভুক্তভোগী ছাত্রীকে নিয়ে পাথরঘাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পাথরঘাটা থানা পুলিশ অভিযুক্ত রাজুর বাবা আব্দুল জলিলকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করলেও রাজুকে আটক করতে পারেনি।

ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর সন্তান প্রসবের খবর পেয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত পাথরঘাটা সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বি এম আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের ও পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন নবজাতকের জন্য নতুন পোশাক নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে মা ও সন্তানের খোঁজ খবর নেন।

এছাড়াও বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন নগদ ৫০০০ টাকা আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন। এ সময়ে তারা শিশু পুত্রকে ‘জয়’ নামে নামকরণ করেন।

এসময়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বি এম আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের বলেন, নিষ্পাপ শিশুটি যাতে তার পিতৃত্ব পরিচয় পায় সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পাথরঘাটা পুলিশ তদন্ত করে যাচ্ছে। প্রয়োাজনে ডিএনএ টেস্টে করে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

ভুক্তভোগী ছাত্রী জানান, স্কুলে আসা যাওয়ার পথে রাজু আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতো। এক পর্যায়ে আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে রাজু। আমার এই সন্তানের পিতা রাজু আহমেদ।

স্কুল ছাত্রীর বড় বোন (রেশমা) জানান, তার বোনের শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হলে জানতে পারি সে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তখন তার কাছ থেকে জানতে পারি একই গ্রামের রাজুর সাথে ওর শারীরিক সম্পর্কের কথাও। এর পর রাজুকে ফোন দিলে সে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করে বলে ভুলে হয়ে গেছে আপা, বাচ্চা নষ্ট করে দেন সব খরচ আমি দিব।

রেশমা আরো জানান, এ নিয়ে প্রথমে এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিলে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় বাচ্চা নষ্ট করে দিয়ে দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা দেওয়ার আশ্বাস দেন। এতে আমরা রাজি না হয়ে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীনের কাছে জানালে তিনি আমাদের আইনি সহায়তা পেতে থানায় নিয়ে যান।

এ বিষয়ে কাঠালতলী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ শহিদুল ইসলাম জানান, উভয় পক্ষের সমযোতা বৈঠকে ছেলের বাবা আব্দুল জলিল দেড় লক্ষ টাকা মেয়েকে দেওয়ার প্রস্তাব দিলে মেয়ের পক্ষ তা মানতে রাজি হয়নি।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহাবুদ্দিন জানান, অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রীকে আদালতের নির্দেশে শুরু থেকেই গুরুত্ব সহকারে দেখভাল করে আসছি। নবজাতক শিশু ‘জয়’ কে পিতৃত্ব পরিচয় নিশ্চিত করতে যা যা দরকার তা করব।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]