ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯

শুধু চালে কি পেট ভরে?
ঝালকাঠিতে নিবন্ধিত জেলে ৫২৬৫ প্রণোদনা পাচ্ছেন ১৪৬০ জনে
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ৫:৩২ পিএম আপডেট: ২২.১০.২০১৯ ৫:৪৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 152

শুধু চালে কি পেট ভরে?

শুধু চালে কি পেট ভরে?

আমাদের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম হলো নদীতে জালফেলে ইলিশ ধরা। ঝালকাঠি জেলায় প্রকৃত পেশাদার জেলেদের সংখ্যার চেয়ে সহায়তার জন্য বরাদ্দ ৪ ভাগের এক ভাগ। মা ইলিশ নিধন নিষেধাজ্ঞার সময় ৯ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। এ ২২ দিনে সরকারী প্রণোদনা হিসেবে দিচ্ছে ২০ কেজি করে শুধু ভিজিডি এর চাল। তাহলে অন্যান্য তেল, মসলা ও তরকারি পাবো কোথায়? শুধু চালে কি পেট ভরে? এমন প্রশ্ন এখন ঝালকাঠি জেলার প্রায় ৫ হাজারের বেশি জেলের মুখে।

জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার ভিজিডি চালের সহায়তার পরিমাণ ও সংখ্যা বাড়িয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যও যদি সহায়তা দিতো তাহলে আমাদের আর দুঃখ থাকতো না। উল্লেখ্য, ৯ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সকল ধরনের আহরণ, মজুদ, পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এসময় জেলেদের এ সহায়তা প্রদান করা হয়। ঝালকাঠি জেলায় জেলে রয়েছেন ৫ হাজার ২শ ৬৫ জন, এর মধ্যে সহায়তা পান মাত্র ১ হাজার ৪শ ৬০ জনে। যা জেলেদের সংখ্যার ৪ ভাগের ১ ভাগ। জেলা মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলার ৪ উপজেলায় জেলে রয়েছেন ৫ হাজার ২শ ৬৫ জন। এদের মধ্যে ভিজিডির চাল ২০ কেজি করে ২২ দিনের জন্য দেয়া হচ্ছে ১ হাজার ৪শ ৬০জনকে। যা প্রতিদিন গড়ে ১ কেজিরও কম চাল ভাগে পড়ে।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, ইলিশ সামুদ্রিক এবং লবণ পানির মাছ। প্রজনন মৌসূমে ইলিশ মিঠাপানিতে প্রবেশ করে আশ্রয় নেয়। ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী ও হলতা নদীতে এসময় ঝাকে ঝাকে ইলিশ ধরা পড়ে। ইলিশ সম্পদ রক্ষায় প্রজনন মৌসূম ৯ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, মজুদ, পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এসময় সরকারী ভিজিডি চাল সহায়তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। একারণে বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছে তারা।

ঋণ পরিশোধের তাড়নায় সুযোগ পেলেই নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে নামছে জেলেরা। তবে নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে জাল ফেলে ইলিশ আহরনকারী জেলেদের মধ্যে প্রকৃত জেলের চেয়ে মৌসূমী জেলেদের প্রভাব অনেক বেশি। মা ইলিশ রক্ষায় ইলিশ নিধন বিরোধী অভিযানে তৎপর রয়েছেন জেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও পুলিশ বিভাগ। রাত-দিন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে যাতে মা ইলিশ নিধন করতে না পারে। কিন্তু ঝালকাঠির সুগন্ধা-বিষখালি নদীর জেলেরা প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ শিকারের নিষেধাজ্ঞা মানছেন না। জনবল, দ্রæতগামী বোট এবং পরিবহন সংকটের পরেও ডিমওয়ালা মা ইলিশ রক্ষায় যথাসাধ্য অভিযান পরিচালনা করছে কর্তৃপক্ষ। গভীর রাতে ও দিনের বেলা অভিযান চালালেও প্রশাসনের অভিযান অনুসরণ করে অসাদু জেলেরা দেদারছে ডিমওয়ালা মা ইলিশ শিকার করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের। একদিকে অভিযান চলছে অথবা অভিযান পরিচালনা শেষে লুকিয়ে থাকা নৌকায় করে আবারও মৎস্য শিকারে নামছেন মৌসুমি জেলেরা। বিভিন্ন অভিযানে দন্ড প্রাপ্ত ও আটক হওয়া জাল হচ্ছে মৌসুমি জেলেদের। পেশাদার জেলেদের চেয়ে মৌসুমি জেলেরা মৎস শিকারে অগ্রগামী। আশ্বিনের পূর্ণিমার আগের ৪ দিন ও পরের ১৮দিনসহ মোট ২২দিন অর্থাৎ ৯অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সুগন্ধা ও বিষখালি নদীতে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সরেজমিনে নদী তীর ঘুরে জানা গেছে, প্রতিদিন সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০টিরও বেশি নৌকায় কারেন্ট জাল দিয়ে মা ইলিশ শিকার করছে। ইলিশ নিধন বিরোধী অভিযান টিম দেখলেই তারা পার্শ্ববর্তি ছোট খালে প্রবেশ করে আত্মগোপন করে। অভিযানিক দল চলে গেলে আবার বের হয়ে ইলিশ নিধন শুরু করে। অভিযান শুরু থেকেই প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও পুলিশ বিভাগ দিনে এবং রাতে সমানতালে অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু অভিযান শুরু করে স্পীড বোট অথবা ট্রলার সেখান থেকে কিছুদূর চলে গেলেই অভিযানের ট্রলার পাহারা দিয়ে জেলেরা নদীতে নৌকা নিয়ে নেমে কারেন্ট জাল ফেলে মাছ শিকার শুরু করে। নৌকা দেখে পুনরায় গেলে অভিযানের ট্রলারে দেখামাত্র পালিয়ে নদীর পাশের নালায় নৌকা ডুবিয়ে জেলেরা পালিয়ে যায়। পরে আবার প্রশাসনের লোকজন চলে গেলে পুনরায় মাছ শিকার শুরু করে। ঝালকাঠি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল কৃষ্ণ ওঝা জানান, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নিধনরোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও মৎস্য অধিদপ্তর কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। ইলিশ রক্ষায় নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারপরেও কিছু অসাধু জেলে এবং সেই সাথে কিছু মৌসূমী জেলে রয়েছে তারা আইন অমান্য করে ইলিশ নিধন করছে। আমরা পাহাড়া দিচ্ছি জেলেদের আর ওইসব জেলেরা পাহাড়া দিচ্ছে আমাদের। তিনি আরো জানান, ২২ দিনের জন্য চালের পরিমাণ বাড়াতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছিলো নিষিদ্ধ সময়ের আগেই। অধিদপ্তর থেকে বাড়িয়ে দিলে আমরা আরো বেশি কিছু জেলেদের দিতে পারতাম। ঝালকাঠির ৪ উপজেলা কোন গেজেটেড মৎস্য কর্মকর্তা নেই। সহকারী মৎস্য কর্মকর্তাদের দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। একদিকে জনবল সংকট অপরদিকে দ্রুতগামী পরিবহন সংকটের কারনে অভিযানে দারুন বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরেও অভিযান সফল করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

জনবল বাড়ানো ও দ্রুতগামী পরিবহন বরাদ্দ দিলে অভিযানকে সফল করতে আরো সহজ হতো বলে মনে করেন তিনি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]