ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯ ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯

দশ হাজার টাকার বেশি নগদে লেনদেন না করার প্রস্তাব দুদকের
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯, ১:০৩ পিএম আপডেট: ২৪.১০.২০১৯ ১:১৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 411

দশ হাজার টাকার বেশি নগদে লেনদেন না করার প্রস্তাব দুদকের

দশ হাজার টাকার বেশি নগদে লেনদেন না করার প্রস্তাব দুদকের

ঘুষ ও অর্থ পাচার বন্ধে ১০ হাজার টাকার বেশি অর্থ নগদে লেনদেন না করার প্রস্তাব দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এজন্য ১০ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে সব লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে করার ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপের পরামর্শ দিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোয় চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।

দুদক সচিব মুহম্মদ দিলোয়ার বখত স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি ১৪ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়ার কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) আওতায় অর্থ লেনদেনের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাবও করা হয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার (ইসিআর) ব্যবহার হলে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায় ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়েছে এতে।

বর্তমানে ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং ‘বিকাশ’, ‘রকেট’-এর মতো এমএফএসের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারেন একজন গ্রাহক। তবে নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে এখনো কোনো সীমা নির্ধারণ করা নেই, যদিও আয়কর আইনে ৫০ হাজার টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করার কথা বলা আছে।

দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে যেকোনো পরিমাণ আর্থিক লেনদেন নগদে করার সুযোগ থাকায় একদিকে ঘুষ, মানিলন্ডারিংসহ অন্যান্য আর্থিক অপরাধ যেমন বাড়ছে; অন্যদিকে লেনদেন রেকর্ডভুক্ত করার বাধ্যবাধকতা না থাকায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ১০ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে সব লেনদেন ব্যাংক, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে করা সম্ভব হলে দুর্নীতি কমবে বলে আশা করা যায়। দুর্নীতি রোধে লেনদেনের পদ্ধতির (মুড অব পেমেন্ট) ক্ষেত্রে সরকার উপর্যুক্ত ব্যবস্থা চালু করতে পারে কিনা, তা বিবেচনা করতে পারে।’

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ‘অনুরূপভাবে মোবাইল ফোনে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ১০ হাজার টাকা যথাযথ ইনভয়েস/রিসিট প্রদানপূর্বক (যেখান থেকে পাঠানো হবে এবং যেখানে রিসিভ হবে—দুই ক্ষেত্রেই) পদ্ধতি চালু করলে ঘুষ, মানিলন্ডারিংসহ আর্থিক অপরাধ হ্রাস পাবে বলে দুর্নীতি দমন কমিশন মনে করে।’

ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে ইসিআর ব্যবহার বিষয়ে চিঠিতে দুদক জানিয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক বিকাশ ও দারিদ্র্য বিমোচনে রাজস্ব আহরণের গুরুত্ব অপরিসীম। এক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়কারী কর্মীদের নৈতিক মানদণ্ড, প্রযুক্তির ব্যবহার, সক্ষমতা ও দক্ষতা রাজস্ব আদায়ে তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। গত অর্থবছরে রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আদায় করা ভ্যাট মোট রাজস্বের ৩৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। যথাযথভাবে আদায় করা গেলে এটি ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব।

দুদক থেকে এর আগে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইসিআর মেশিন স্থাপন করা হয়নি উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এটি স্থাপন করা হলেও তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। আবার কিছু ক্ষেত্রে রাজস্ব কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের অনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক ক্যাশলেস ট্রানজেকশন বাড়ানোর বিষয়ে কাজ শুরু করেছিল। ওই সময় ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) প্রচলন বাড়াতে এ সেবার ওপর সামান্য চার্জ আরোপের প্রস্তাবও করা হয়েছিল, যাতে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের ইএফটিতে উৎসাহিত করে। পরে সে উদ্যোগ আর এগোয়নি। তবে ভোক্তা ও জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি তাদের সচেতন করে না তুলে হঠাৎ করেই নগদ লেনদেনের পরিমাণ ১০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনলে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]