ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ ১ পৌষ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

নবান্নের খুশি সবার জন্য
সালাম হাসেমী
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 40

জিয়ারত মুন্সী কাঁকনডাঙ্গা গ্রামের সচ্ছল চাষি। এবার নবান্নে প্রচুর ধান পেয়েছে। ধানে ধানে তার গোলা ভরে গিয়েছে। যে পরিমাণ ধান পেয়েছে তাতে তার প্রায় তিন বছর খাওয়া চলে যাবে। সারা বছর খেয়েদেয়ে অবশিষ্ট ধান বিক্রি করে প্রচুর টাকা পাবে। তার সাংসারিক জীবনে কোনো অভাব অনটন নেই। ফসলে ধানে ধনে তার সংসার সুখে টইটম্বুর। তার সংসারে তারা স্বামী-স্ত্রী ও দুটি ছেলেমেয়ে। ছেলেটির নাম সবুজ ও মেয়েটির নাম দোলন। সবুজ সপ্তম শ্রেণিতে ও দোলন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে।
জিয়ারত মুন্সীর এক সহোদর ভাই আছে। তার নাম জাভেদ মুন্সী। তার বাড়ি ছাড়া অন্য কোনো জমিজমা নেই। সে দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। তার দুটি ছেলে। তাদের নাম সোহাগ ও সজল।
সারা গ্রামে নবান্নের ধুম পড়েছে। বাড়ি বাড়ি নতুন চালের পিঠা ও পায়েস রান্না করা হচ্ছে। গ্রামে রাতের বেলায় কারও কারও বাড়িতে জারিগান, কবিগান ও গাজীগানের আসর বসেছে। সারা গ্রাম যেন মহা আনন্দে মেতে উঠেছে। সবুজ ও দোলন তার ছোট কাকা-কাকি ও তার ছেলে দুটিকে নবান্নের নিমন্ত্রণ করার জন্য বলল তাদের বাবা জিয়ারত মুন্সীকে। জিয়ারত মুন্সী তার ছেলেমেয়ের মুখে এই আমন্ত্রণের কথা শুনে লজ্জিত বোধ করলেন। তার ছেলেমেয়েদের এই আমন্ত্রণের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পূর্বে তারই উচিত ছিল তার ছোটভাই জাভেদ মুন্সীকে আমন্ত্রণ করা। ছেলেমেয়েরা তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার সাথে সাথে জিয়ারত মুন্সী চলে গেল গ্রামের উত্তরপাড়ায় তার ভাইয়ের বাড়ি তাদেরকে সপরিবারে দাওয়াত করতে। সবুজ ও দোলনের কাকার পরিবারের লোকজন দুপুরের সময় তাদের বাড়িতে এসে পৌঁছল। তাদেরকে মাছ, মাংস ও পিঠা পায়েস দিয়ে মধ্যাহ্নভোজন করানো হলো। বিকেল বেলা সবুজ ও দোলন তাদের কাকাতো ভাইদের সাথে খেলা করার জন্য চলে গেল বাড়ির পাশের মাঠে। সন্ধ্যার পূর্ব পর্যন্ত তারা মাঠে খেলাধুলা করল। রাতের  খাবার খেয়ে তারা চলে গের মাতুব্বর বাড়ি জারিগান শোনার জন্য। অনেক রাত পর্যন্ত তারা জারিগান শুনে চাঁদনী রাতে জোছনার আলোতে বাড়ি ফিরে এলো। রাতের বেলা তারা চার ভাইবোন এক ঘরে ঘুমাল। পরের দিন তারা সকালের নাশতা শেষে চলে গেল বনবাদাড়ে ও মাঠে ঘুরে বেড়াতে। এভাবে সবুজ ও দোলনের ছোট কাকার পরিবারের লোকজন সাত দিন তাদের বাড়ি বেড়াল।
সপ্তম দিনে যখন তারা বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তে সবুজ ও দোলন তাদের বাবা জিয়ারত মুন্সীর দুপাশে গিয়ে হাসি হাসি মুখে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আচ্ছা আব্বু এখন তো ছোটকাকু ও তার পরিবারের লোকজন বাড়ি ফিরে যাচ্ছে, এখন তোমার এই গরিব ভাইয়ের পরিবারের প্রতি কর্তব্য কী? বলতে পারো?’ জিয়ারত মুন্সী কিছুক্ষণ ভাবনাচিন্তা করে বলল, ‘তাদের হাসিমুখে বিদায় দেওয়া ছাড়া তো অন্য কোনো কর্তব্য আছে বলে মনে পড়ছে না!’ সবুজ ও দোলন সমস্বরে বলল, ‘কিছুই মনে পড়ছে না! তোমার ছোটভাইয়ের অবস্থা সচ্ছল নয়। তিনি নিত্যন্তই গরিব মানুষ। ভালোভাবে তার সংসার চলে না। তুমি এবার নবান্নে প্রচুর ধান পেয়েছ। তা থেকে কিছু ধান তাদের দেওয়া তোমার কর্তব্য নয় কি?’ জিয়ারত মুন্সী তার ছেলেমেয়েদের কথায় লজ্জিত হয়ে বলল, ‘বড় ভুল হয়ে গেছে। এ কথা বলে তিনি ঘরে গিয়ে কয়েক বস্তা ধান ভ্যানগাড়ি করে তার ছোটভাইয়ের বাড়িতে দিয়ে এলো এবং বাড়িতে ফিরে এসে তার ছেলেমেয়ের মাথায় দু’হাত বুলিয়ে আদর করতে করতে বলল, ‘তোমরা বড় হয়ে এমনিভাবে আত্মীয়-স্বজন, দেশ ও দশের কল্যাণের কথা ভাববে। আমাদের দেশের মানুষ তোমাদের সেবায় উপকৃত হয়ে উন্নত দেশ গড়ে পৃর্থিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে।’







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]