ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯

বই পরিচিতি
সাইফুল্লাহ আল মামুনের সাইবিতা
মাইন সরকার
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 37

কবি সাইফুল্লাহ আল মামুনের সাইবিতা বাংলা কবিতার এক নতুন ধারার কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থে সাইবিতা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘কবিতার কচিপাতা অল্প কথার কবিতা সাইবিতা। শব্দের ঝংকার, মাত্রার অদৃশ্য ঘনত্ব যে আকর্ষণ সৃষ্টি করে অন্তর-আত্মার সীমানায়, এর স্বল্পিত রূপ সাইবিতা। গোত্র বিচারে সাইবিতার পরিসর ক্ষুদ্র পরিবারে। কথার অন্ত্যমিল, বাক্যের কারুকার্য সাইবিতায় পথযাত্রায় যোগ করবে যোজন যোজন পদচিহ্ন। আরও বলা যায়, ঝধরনরঃধ রং ধ হবি ভড়ৎসধঃ ড়ভ ঢ়ড়বঃৎু যিরপয রং নরমমবৎ ঃযধহ ঐধরশঁ ধহফ ংসধষষবৎ ঃযধহ ঝড়হহবঃ. উন্নত ভাষা ও অল্প কথার ব্যবহারের সমন্বয়ে কবি তৈরি করেছেন তার নিজস্ব ধারা বা কবিতার ঋড়ৎসধঃ, পৃথিবীতে কবিতা সেই আদি থেকে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল এবং সময়ের বাঁকবদলে কবিতারও শরীরগত ও চিন্তাগত পরিবর্তন হচ্ছে। একসময় আমরা পয়ার বা স্বরবৃত্তে কবিতা লিখতাম যার ভেতর পরিপূর্ণ ছন্দ মিল থাকত।
আমরা আমাদের প্রাচীন কালের চর্যাপদকে যদি দেখি তাহলে স্পষ্ট সেই সময়ের রূপচিত্র খুঁজে পাব। আবার আধুনিক কালের শুরুতে ছন্দবন্ধতার খেলা ভেঙে যে গদ্য ছন্দের নিয়ম শুরু হয়েছিল তা এখনও আছে তবে অনেক কবির কবিতায় ভাবগত ও ভাষাগত কিছু পরিবর্তন পাওয়া যায়। এখন অনেক কবিতাই আর ছন্দে লেখা হয় না। আবার কবিতায় সাধু ভাষার ব্যবহারও নেই, আর এই সময়ে এসে আমরা কবিতাকেও অনেক সংক্ষিপ্ত করে ফেলেছি যা খুব অল্প সময়েই পাঠক পাঠ করতে পারে। (যেমন, পের্ত্রাক যে সনেটের প্রবর্তন করেছিলেন তা ছিল সময় উপযোগী। তারপর পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার কবিরা সনেট লিখতে শুরু করল। আবার জাপান যখন হাইকু লিখতে শুরু করল তখন পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার কবিরা হাইকু চর্চা শুরু করল।) আর এই সময়ে এসে অসংখ্য কবিরা ফেসবুকে কবিতা চর্চা করছে এবং এখানে কিছু পাঠকও পাওয়া যায়। ফেসবুকে কবিতা লেখা মোটেও দোষের কিছু নয়। তবে বাংলা ভাষার আধুনিক কবি জীবনানন্দ দাশ কবিতাকে বদল করে গেছেন কিন্তু এই উত্তর আধুনিক সময়ে এসেও জীবনানন্দের বলয় থেকে বের হতে পারেননি আমাদের অনেক খ্যাতিমান কবিরাও।
এ কারণে হয়তো জীবনানন্দ বলেছিল, ‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি’। আর এখানে সাইবিতার ভেতর কবিতার ধারাবাহিতা ও কবিতার শরীরগত মিলও পাওয়া যায়। যেমনÑ
সাইবিতাÑ বিশ্বজয়ের স্বপ্ন
‘পায়ের নিচে পৃথিবীকে
ভেঙে ফেলার সাহস আমার আছে
তবুও আমি নেপোলিয়ান
কিংবা জুলিয়াস সিজার নই
আমি কবি, কবিতা দিয়েই
বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখি।’
এই কবিতাগুলো খুব অল্প কথার কবিতা যেখানে শব্দের বাড়াবাড়ি নেই বললেই চলে। কিন্তু শব্দগুলোর ভেতর একটা আলাদা রিদমতা আছে, এখানে প্রত্যেকটি কবিতায়ই তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় আছে। যদিও এই সময়ের অনেক কবির কবিতাই একরৈখিকতা কিংবা সরলরৈখিকতার বাইরে যেয়ে বহুরৈখিকতায় ডুবে যায়, তখন আর মূল বিষয়কে খুঁজে পাওয়া যায় না, মূল বিষয় অদৃশ্য হয়ে যায়। কিন্তু এখানে প্রতিটি কবিতাই সরলরৈখিক যার ভেতর মূল বিষয় বিদ্যমান। তবে এখানে অন্ত্যমিল পাওয়া গেলেও মাত্রাবিন্যাসে কোনো ডেফিনিট বিষয় নেই। যেমনটা আছে সনেট কিংবা জাপানি হাইকুতে।
৬২ সালের হাঙরি জেনারেশনের পর কবিতাকে অনেকটা সহজ, প্রাণবন্ত কিংবা আবৃত্তিযোগ্য করে তুলেছিলেন কবি হেলাল হাফিজ তার ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ গ্রন্থটির মধ্য দিয়ে। আবার আশি, নব্বই দশকের কবিতায় তেমন কোনো বদল পরিলক্ষিত হয়নি।জীবনানন্দ দাশের পর কবিতার আবেদন কিংবা আমূল কোনো পরির্বতন আসেনি বাংলা কবিতায়। প্রকৃতপক্ষে কবিতা কখনই দশকের ভেতর আবদ্ধ থাকে না। কবিতা একটি মুক্ত শিল্পকলা যেখানে কবিরা স্বাধীন, একজন কবি তার সবটুকু স্বাধীনতা নিয়েই কবিতা লেখেন বা চর্চা করেন। কবি সাইফুল্লাহ আল মামুনকেও আমি কোনো দশকের ভেতর ফেলতে চাই নাÑ কেননা তিনি কবিতাকে যাপন করেন, কবিতাকে সময় দেন, কবিতাকে ভালোবাসেন। কবিতার সহজিয়া মানুষ সাইফুল্লাহ আল মামুন বিভিন্ন ধারণারও প্রবক্তা।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]