ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯

কবিতা
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 28

আয়না কি দরকার
রেজাউদ্দিন স্টালিন

চোখের ভেতর মুখ দেখেছি
আয়না কি দরকার?
পৃথিবীতে স্বচ্ছতম আয়না পাওয়াই ভার,
পারদ তো নয় কাচের নিচে গভীর অন্ধকার।

চোখের ভেতর মুখ দেখেছি
আয়না কি দরকার?

পথের কাছে পথ পেয়েছি ভয় কি হারাবার
গতির ভেরত আলোক আছে বিরোধী জ্যোৎস্নার,
হাত বাড়ালে যায় না পাওয়া সাজানো সংসার।
চোখের ভেতর মুখ দেখেছি
আয়না কি দরকার?

জলের কাছে আগুন পেলাম পাথর কি দরকার
সব পাথরে আগুন থাকে এমন তো নয় আর
বুকের আগুন খুঁচিয়ে তোলে মূর্খরা বারবার

চোখের ভেতর মুখ দেখেছি
আয়না কি দরকার?


এমন কিছু কথা বলছি প্রতিনিয়ত
জহির খান

বন্ধু আমার মায়ায় জড়িয়ে থাকো... থাকো
এই হবে বন্ধু আমার পূর্ণতা পুজো... প্রার্থনা
কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা অবিরাম আমার
আসো পড়াই পড়ি আমরা অর্ধেক জীবন

কসাইখানায় আঁকি অর্ধেক জীবন ছবি
কাল্পনিক অস্তিত্বের জন্যই অপেক্ষা করি

কথা ছিল কোনো একদিন...
পূর্ণিমার আলো চুরি করব
চুরি করব ঘাসফুলের গন্ধ
কিছুই হলো না কিচ্ছুতেই না

বাক্সবন্দি হয়ে মিউজিয়ামে গেল পূর্ণিমার আলো
ঘাসফুলের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল কারো কারো গায়ে

বলার ছিল যা
মাহবুবা ফারুক

মা তোমাকে বলা হয়নি কখনো যেখানে পাঠিয়েছ সেখান থেকে
আমি যে চলে যেতে চেয়েছি বার বার বদলে ফেলতে চেয়েছি অবস্থানÑ ঠিকানা
পেছনে কোনো পরিচয় রেখে যেতে চাইনি। এখানেও আমি আসিনি স্বেচ্ছায়
ভালোবাসা কখনো আমাকে চিনেনি টানেনি
যাবো বলে যতবারই পা বাড়িয়েছি ততবার
ততবার তোমার মুখ ভেসেছে চোখে তুমি কষ্ট পাবে ভেবে ফিরে এসেছি।
তারপর আটকে গেছি মাকড়শার জালে
এসব তোমাকে বলবো ভেবেছি কতবারÑ কিন্তু বলতে গিয়ে দেখেছি
আমার আলাদা কোনো গল্প নেই উইপোকা কবেই কেটেছে স্বপ্ন
তোমার মুখে ছায়া ফেলেছে আধো অমাবশ্যা
অনেকের মানচিত্র সাজাতে ব্যস্ত তুমিও
আমার কথা শোনার সময়গুলো মনখারাপের ঝাঁঝর বেয়ে পড়ে টুপটাপ
ছাঁকনিতে জমে অনমনীয় অপারগতা বলতে পারিনি কিছু
আর বলা হয়নি বলে তুমি ভেবেছ
আমি রাজ্য জয় করে বিস্তার করছি সাম্রাজ্য
আরেÑ আমি কি নেপোলিয়ন? আলেকজান্ডার?
নাকি আকবর দি গ্রেট?
গোপন ব্যথায় আমার ফুসফুস পুড়ে যায় আমাজনের মতো
ধৈর্যের গ্রেটওয়াল ক্ষয়ে যায় ধসে পড়ে
তবুও ছক্কা মারার অভিনয় করি
তোমাকে বলা হয়নি কিন্তু বলার ছিল কত
না বলে না বলে কষ্টের পাহাড় একদিন
আমি কিনে ফেললাম সত্যি শিখে গেছি টিকে থাকার জুম চাষ
তখন শুনেছি তুমি চলে গেছ দূরের আড়ালে
আচ্ছা মা, আমার ভাগের সময়টুকু তুমি কোথায় রেখেছ?
যা বলা হয়নি তা শোনার জন্যে একটুও সময় রাখোনি?
তোমার কথা ভেবে ফিরেছি কতবার শুধু তুমি ফিরলে না একবার
শনির হাওর কেমন করে পাড়ি দেই একা একা!!!


উপেক্ষা
আনোয়ার কামাল

আমাকে কেউ উপেক্ষা করুকÑ সরে যাক দূরে

রমণীর প্রেমহীন নিগূঢ় এজলাসে বহমান নদী
ভরে যাক কচুরিপানায়; ডাহুক পাখির অভয়ারণ্য হোকÑ
কিম্বা সারস গড়ে তুলুক সুরম্য প্রাসাদ,
তাতে আমার কোনো খেদ নেই; নেই কোনো অভিমান।

আমাকে কেউ উপেক্ষা করুকÑ অবহেলায় মুছে দিক
ঠোঁটের কোনায় লেগে থাকা শেষ চুম্বনটুকু
আমি কিছুই মনে করবো না।
যার আঙুলের স্পর্শে আমি জ্বলে উঠি
সে যদি অবহেলা করে, করুক;
উপেক্ষার ডালি সাজিয়ে বর্ষা কিম্বা শরৎ
হেমন্তরেখা পাড়ি দেয়, দিক।
আমি কোনো আভিশাপ দেব না।

আমাকে কেউ উপেক্ষা করলে করোÑ
যে সুধা পান করে রঙিন হয়েছি,
হোক না তা ফিকেÑ ক্ষতি নেই
পানের মহরতে আমি বুঁদ হয়ে আছি
কেউ আমাকে ভুলে থাকতে চাইলে যাও
উপেক্ষা করো, অবহেলার নাও ভাসাও ক্ষতি নেই।



পাথর দৃষ্টি
মামুন অপু

হাজার বছর তাকিয়ে থাকবো নিষ্পলক দৃষ্টিতে...
প্রভু আমায় পাথর করে দাও
আমার দৃষ্টিকে আরো তীক্ষè করে দাও
আমার রক্তকে কর্ণফুলি করে দাও
আমার আত্মাকে ঈশ^র করে দাও
আমি শুধু তাকিয়ে থাকতে চাই
একটি নয় হাজারটা জীবন।

জীবনের সৌরলোকে অসংখ্য গ্রহ নক্ষত্র দেখেছি
তবু সাদামাটা পৃথিবীর ঐ প্রান্তের একটি চাঁদ
আমার বুকে এঁকেছিলো জোছনার রঙ;
রঙের উৎসবে নেচেছিলো কল্পনার জোনাকি।

পৃথিবীর সমস্ত গোলাপের পাপড়ির কসম...
ঐ আকাশের অগণ্য নক্ষত্রের ঝালরে যে আলো
সে আলোকে মøান করে দেবে
তোমার প্রতি আমার হৃদয়ের
এক টুকরো ভালোবাসা।



সাদাসিধে পত্র
নাইমুল করিম

প্রণয়ের ফারহানা

একটা সাদাসিধে পত্র দিলাম
ন্যূনতম মনে না ধরলে
ছুড়ে ফেলে দিও গনগনে আগুনে
কিংবা ভাসিয়ে ব্রহ্মপুত্রের
প্রবহমান শুদ্ধ পানিতে

পারো তো পত্র জবাব দিও
একঘেয়েমি দম্ভোক্তিতে

পরিশেষে
তোমার কালো করিম





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]