ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯

দক্ষিণ কোরিয়ায় পড়াশোনা
শিক্ষার আলো প্রতিবেদন
প্রকাশ: শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 49

সবারই স্বপ্ন থাকে উচ্চশিক্ষার জন্য উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ অথবা অস্ট্রেলিয়ার ডিগ্রি নেওয়া। কিন্তু কেন এসব দেশ বাদ দিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া। এর অনেকগুলো উত্তর হতে পারে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের গবেষণা খাতে অনেক এগিয়েছে।
প্রায় ৯৯ হাজার বর্গ কিমি আয়তনের দক্ষিণ কোরিয়ার ৯টি প্রভিন্স-নর্থ ছুংছন, সাউথ ছুংছন, খাংউওন, খিয়ংগিদো, নর্থ খিয়ংসাং, সাউথ খিয়ংসাং, নর্থ জল্লা, সাউথ জল্লা এবং জেজু স্পেশাল এ বিভক্ত। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী এবং পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত নগরী সিউলকে বলা হয় স্পেশাল সিটি। সিউল ছাড়া মেট্রোপলিটন সিটি রয়েছে ছয়টি। সেগুলো হলো- ইনছন, বুসান, দেগু, দেজন, খোয়াংজু, উলসান।নিরাপদ সার্ভিস, উন্নত জীবনযাত্রা, বুদ্ধিদীপ্ত নাগরিক, নারী-পুরুষের সমতা, আইন-বিচার, নাগরিক সেবা, গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতা, সর্বোচ্চ গণতন্ত্রের চর্চা হয় কোরিয়ায়।
বর্তমানে কোরিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা বিশ^খ্যাত। সেরা শিক্ষাব্যবস্থার র‌্যাংকিংয়ে সেরা পাঁচে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান এখন নিয়মিত ব্যাপার। বিশ^বিদ্যালয়ের বিশ^ র‌্যাংকিংয়ে কোরিয়ার বিশ^বিদ্যালয় থাকে সবসময়। সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কাইস্ট, কোরিয়া ইউনিভার্সিটি, ইয়নসে ইউনিভার্সিটি, খিয়ংহি ইউনিভার্সিটি, ইনহা ইউনিভার্সিটির মতো বিশ^বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে কোরিয়ায়। কোরিয়ায় প্রায় ৪০০ বিশ^বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিশ^বিদ্যালয়ের মান প্রায় সমান। একটি অন্যটিকে ছাড়িয়ে যেতে নিত্যপ্রতিযোগিতায় লিপ্ত। রাজনীতি নয়, এখানে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায় গবেষণা। গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন এবং সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখাই বিশ^বিদ্যালয়গুলোর মূল লক্ষ্য।
এর মধ্যে সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বিশ^ র‌্যাংকিংয়ে ৩০-এর ভেতর। এটি কোরিয়ার সেরা বিশ^বিদ্যালয় এবং এশিয়ার চতুর্থ সেরা বিশ^বিদ্যালয়। প্রায় ৩০ হাজার ছাত্রছাত্রীর এই বিশ^বিদ্যালয়ে পিএইচডি শিক্ষার্থীই আছে প্রায় ১০ হাজারের মতো। এর বিপরীতে শিক্ষকের সংখ্যা ২৬ হাজার ৬২০ জন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি আছে ১৫ হাজারের মতো। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী। পিএইচডি গবেষকের সংখ্যা অনেক। কোরিয়ায় অধ্যয়ন (পিএইচডি এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর) করছেন এমন কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষার মূল শক্তি হলো, প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণাকে প্রাধান্য দেওয়া। শিক্ষার মান আর গবেষণার বহুমুখিতাই কোরিয়াকে বিশ^ব্যাপী ছাত্রছাত্রীদের কাছে উচ্চশিক্ষার অন্যতম পছন্দ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
কী পড়বেন?
দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম’ বা স্নাতকে ভর্তি বেশ প্রতিযোগিতামূলক। এসএসসি, এইচএসসি অথবা ও-লেভেল, এ-লেভেলে খুব ভালো রেজাল্টের পাশাপাশি ‘সহশিক্ষামূলক’ কাজের যুক্ত থাকলে সুবিধা পাওয়া যায়। ভালো বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য এসবের বিকল্প নেই। তাই এসএসসি থেকেই সহশিক্ষামূলক কাজ সেটা হতে পারে, বিতর্ক, খেলাধুলা, ছোটখাটো উদ্ভাবনী কর্ম, টুকটাক গবেষণা, মিউজিক, নৃত্য বা অন্য যেকোনো কিছু বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকা সহায়ক।
স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি করা যায় দু’ভাবে- কোরিয়ার কোনো বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপকের গবেষণা সহকারী হিসেবে এবং কোরিয়ান সরকারের বৃত্তি (স্কলারশিপ) প্রোগ্রাম বা গ্লোবাল আইটি কোরিয়ান গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের আওতায়।
সঠিক বিশ^বিদ্যালয় নির্বাচন করুন
প্রথম ক্ষেত্রে পছন্দের বিশ^বিদ্যালয় নির্বাচন করে নিজের গবেষণার আগ্রহ অনুযায়ী সরাসরি কোনো অধ্যাপকের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ করা যায়। ই-মেইলে থাকতে পারে স্নাতকের সিজিপিএ, আইএলটিএস, টোফেল বা জিআইর স্কোর, পাবলিকেশন যদি থাকে, নির্দিষ্ট বিষয়ে গবেষণায় আগ্রহের কারণ এবং এই ক্ষেত্রে পূর্ব অভিজ্ঞতার বিবরণ লিখে দিতে হবে।
অধ্যাপক নির্বাচনের আগে সঠিক বিশ^বিদ্যালয় নির্বাচন করতে হবে। কোরিয়ায় বিশ^বিদ্যালয়গুলোর ভর্তির শর্ত ভিন্ন ভিন্ন। সাধারণত কোরিয়ান বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে সর্বনিম্ন সিজিপিএ ৩.০০ এবং আইএলটিএস স্কোর ৬.০০-কে ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয়। ভালো র‌্যাংকিংয়ে বিশ^বিদ্যালয়গুলো ভালো সিজিপিএ এবং আইএলটিএস স্কোর চায়। সে কারণে বিশ^বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে পূর্বশর্তগুলো দেখে এবং নিজের অবস্থান যাচাই করে অধ্যাপককে ই-মেইল করা উত্তম।
অধ্যাপকের সম্মতি ছাড়া কোরিয়ার বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রত্যেকটি বিশ^বিদ্যালয়েরই নিজস্ব কিছু বৃত্তির ব্যবস্থা আছে। তবে বৃত্তির সংখ্যা সীমিত। যেসব ছাত্রছাত্রী অগ্রাধিকার পান তাদের গবেষণার সহকারী হিসেবে নিতে চান অধ্যাপকরা। গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করার জন্য যে মাসিক বৃত্তি দেওয়া হয়, তা দিয়ে এখানকার অন্যান্য খরচ চলে যায়। আবেদন প্রক্রিয়া দক্ষিণ কোরিয়ান সরকারের স্কলারশিপ প্রোগ্রামে (কেজিএসপি) ‘গ্র্যাজুয়েট’ এবং আন্ডারগ্র্যাজুয়েট’ উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। নিজ দেশের কোরিয়ান দূতাবাস থেকে অথবা কোরিয়ায় এই প্রোগ্রামের জন্য মনোনীত বিশ^বিদ্যালয়গুলোর মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থী হিসেবে সরাসরি আবেদন করা যায়।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]