ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯

শেরপুরের টেঙ্গরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়ের টাকা লুটপাটের অভিযোগ
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৪৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 413

শেরপুরের টেঙ্গরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়ের টাকা লুটপাটের অভিযোগ

শেরপুরের টেঙ্গরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়ের টাকা লুটপাটের অভিযোগ

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রাণীশিমূল ইউনিয়নের ভায়াডাঙ্গা বাজারসংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী টেঙ্গরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পদ থেকে আয়ের প্রায় কোটি টাকা লুটপাট ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৩২ একর জমিসহ সম্পদসমৃদ্ধ ৮০ বছরের পুরোনো ওই স্কুলটিকে নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত চেয়ে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত ৩ জন সদস্য দুদকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া অনিয়ম- দুর্নীতির প্রতিবাদে স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য মানববন্ধন কর্মসূচীও পালন করেছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪০ সালে তৎকালীন জমিদার কামিনী সাহা রায় ও এলাকার ধনাঢ্য শিক্ষানুরাগীরা প্রত্যন্ত সীমান্ত অঞ্চলে ওই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। গত ৭ মাস আগে ২ বছর মেয়াদী বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হন সিদ্দিকুর রহমান এবং পদাধিকার বলে সদস্য সচিব হন প্রধান শিক্ষক আবু রায়হান। কমিটি গঠনের পর অন্যান্য সদস্যরা বারবার কমিটির মিটিং ও স্কুলের আয়- ব্যয়ের হিসাব চাইলেও এ পর্যন্ত কোন মিটিং হয়নি, পাওয়া যায়নি হিসাবও। বিদ্যালয়ের ৩২ একর জমির মধ্যে বাজারের ভেতর ১০ একর জমিতে অন্তত: অর্ধশতাধিক বাণিজ্যিক দোকানঘর ও বিশাল একটি ধানের আড়ৎ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওইসব দোকান স্কুলের ম্যাানেজিং কমিটির সভাপতির নিজেসহ তার আত্মীয়-স্বজনের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাকি প্রায় ২০ একর জমিতে রয়েছে পুকুর ও আবাদী জমি। ওইসব বাণিজ্যিক দোকান ও বাকি জমি থেকে মোটা অংকের জামানত নেওয়া হলেও সেগুলোর কোন হিসাব বা জবাবদিহিতা নেই। সম্প্রতি স্কুলের জমিতে ‘ব্যাংক এশিয়া’ নামে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং ভাড়ায় বসানো হয়েছে। দলিলের শর্তে দেখা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানের ৫ লক্ষ টাকা জামানত ও মাসিক এক হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এরূপ অন্যান্য বাণিজ্যিক দোকানগুলো থেকে জামানত ও ভাড়া আদায় করা হলেও তার কোন হিসাব নেই। স্কুলের নামে মোটা অংকের টাকা লেনদেন হলেও স্কুলের ব্যাংক হিসেবে কোন টাকা জমা হয়নি। ব্যাংক হিসেবে আছে সম্প্রতি গাছ বিক্রি করার মাত্র আড়াই লাখ টাকা। ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরী করে ওইসব টাকা যে যখন ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্বে থেকেছেন বা আছেন তারাই যোগসাজসের মাধ্যমে লুটপাট করে খাচ্ছেন। এ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

এলাকার সাধারণ লোকজন বলছেন, স্কুলের এতো সম্পদ থাকার পরও ৮০ বছরে স্কুলের দৃশ্যত কোন উন্নয়ন হয়নি। এখনও স্কুলের টিনের ঘরে ভাঙ্গাচোরা ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয়। তবে স্কুলের প্রধান ফটক মোটা অংকের টাকায় নির্মাণ করা হলেও তারও হিসাব নেই। পূর্বের কমিটি, বর্তমান কমিটিসহ সকল কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। অতি সত্ত¡র বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

তবে স্কুল কমিটির সদস্য সচিব ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু রায়হান জানিয়েছেন, এখানে দুর্নীতির কোন সুযোগ নেই। নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটির মিটিং হয়। তবে স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ব্যাংক হিসেবের মাধ্যমে লেনদেন হয় না। সকল কমিটি ব্যাংক হিসেব ছাড়া লেনদেন করেছে। কমিটির মধ্যে যে বিভেদ চলছে তা নিজস্ব স্বার্থগত।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জামানতের টাকা দিয়েই দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া যা ভাড়া পাওয়া যায় তা স্কুলের পিয়ন, নাইট গার্ডসহ বিভিন্ন খরচে শেষ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা মোকছেদুর রহমান জানান, এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]