ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯

৩ মাসের মাথায় হারিয়ে যাচ্ছে স্কুল রক্ষায় পাউবোর বালুভর্তি জিও ব্যাগ
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৯, ২:০০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 127

৩ মাসের মাথায় হারিয়ে যাচ্ছে স্কুল রক্ষায় পাউবোর বালুভর্তি জিও ব্যাগ

৩ মাসের মাথায় হারিয়ে যাচ্ছে স্কুল রক্ষায় পাউবোর বালুভর্তি জিও ব্যাগ

মাত্র তিন মাসের মাথায় হারিয়ে যাচ্ছে স্কুল রক্ষায় পাউবোর ফেলা বালুভর্তি জিও ব্যাগ। তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনের কবল থেকে পটুয়াখালীর বাউফলের ৭১ নং নিমদী সরকারি প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন ২০০ মিটার অংশে গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফেলা হয় ১৩ হাজার জিও ব্যাগ।

স্থানীয়রা জানান, নদী ভাঙন রোধে টেকসই প্রকল্প গ্রহনের দাবিতে মানববন্ধনসহ স্থানীয়দের লাগাতার নানা কর্মসূচির প্রেক্ষিতে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামিমের (গত ১৮ মে) পরিদর্শণের পর জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ভাঙনের কবল থেকে নিমদী সরকারি প্রাইমারি স্কুল রক্ষায় ফেলা হয় বালুভর্তি জিও ব্যাগ।

আর এতে স্থানীয় লোকজনের মাঝে তাৎক্ষণিক আশার সঞ্চার হলেও অব্যাহত ভাঙনে এখন নদীর অতল গভীরে হারিয়ে যাচ্ছে ওই জিও ব্যাগগুলো। বর্ষা মৌসুম শেষ হয়ে অগ্রহায়নে এসেও কমছে না নদীর ভাঙন। আর তাই ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দিহান নদীপাড়ের নিমদী, ধানদী, ডালিমা, কচুয়া ও তাঁতেরকাঠী এলাকার হাজারো মানুষ।

ক্ষতিগ্রস্তদের জীবনমান উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণসহ চার-চারবার স্থান পরিবর্তনেও নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা ওই স্কুলটি রক্ষায় মন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে স্থানীয় নিমদী লঞ্চঘাট এলাকার কয়েকজন জেলে ও ব্যাবসায়ীরা জানান, নদীর পাড়ের পাঁচ গ্রামের বিশাল এলাকার মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলা হয় মাত্র ২০০ মিটারে। এতে কাজের কাজ হয়নি কিছুই। উপরন্তু তিন মাসের মাথায় বিলীন হচ্ছে বালুভর্তি ওই জিও ব্যাগ। ফলে স্কুল ভবনটিও রক্ষা পাবে কিনা তা নিয়েও সন্দিহান অনেকে।

কেউ কেউ আবার অভিযোগ করছেন, কাজ পাওয়া জিও টেক্সটাইল নামে জিও ব্যাগ উৎপাদনকারী ঢাকার ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ব্যাবহৃত জিও ব্যাগে ৩০০ কেজি বালু ভর্তির কথা থাকলেও তার চেয়ে অনেক কম পরিমাণে বালু ভর্তি করে ব্যাগগুলো সেলাই দিয়ে নদীতে ফেলেছেন।

জিও ব্যাগের বালুতেও মেশানো ছিল প্রচুর পরিমানে কাঁদা। পানিতে ফেলার পরে ধুয়ে প্রায় অর্ধেক ও ডিলেডালা হয়ে যায় অধিকাংশ ব্যাগ। নদীর ২০০ মিটার অংশে তীর থেকে প্রায় ৯ মিটার গভীরে ফেলা হয়েছে উল্লেখ করলেও ঠিকাদারের লোকজন তীরের অদূরেই ফেলে ব্যাগগুলো। পানিতে ডুবে থাকায় তখন কারো বোঝার উপায় ছিল না তা ৯ মিটার গভীরে ফেলা হচ্ছে কি না।

এছাড়াও ডবল ডেকার লঞ্চগুলো নিমদী লঞ্চঘাটের পন্টুনের বাহিরে ঘাট দেওয়ার কারণেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্কুল রক্ষায় লঞ্চঘাটের পন্টুন সংলগ্ন এলাকায় ফেলা জিও ব্যাগ।

নদী ভাঙনে নিমদী গ্রামের বাড়িভিটা হারিয়ে পৌর সদরে স্থান নেওয়া মাহবুবুর রহমান চৌধুরী নামে একজন বলেন, ‘ নদী ভাঙনরোধে টেকসই প্রকল্প গ্রহণের দাবিতে দীর্ঘদিন থেকে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্র্মসূচি পালন করে আসছে ভুক্তভোগী  এলাকাবাসি। সত্তর দশক থেকে তেঁতুলিয়ার অব্যাহত ভাঙ্গনের কবল থেকে নিমদী, ধানদী, ডালিমা, কচুয়া ও তাঁতেরকাঠী এই পাঁচগ্রামসহ উপজেলার ধুলিয়া, মঠবাড়িয়া ও চন্দ্রদ্বীপের চরওয়াডেলেরর বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান, শত শত ঘরবাড়ি ও কয়েক হাজার একর কৃষি জমি রক্ষায় মন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই আমরা। ভাঙন রোধে নাম মাত্র জিও ব্যাগ ফেলার মতো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ছলচাতুরি আমরা চাই না।

স্কুল রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলা হলেও মাত্র তিন মাসের মাথায় আবার তা ভাঙনে বিলীন হচ্ছে। আমরা টেকসই প্রকল্প গ্রহণসহ ভাঙ্গনকবলিত এলাকার মানুষের সুরক্ষা চাই।’

এ ব্যাপারে জানতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কুড়িগ্রাম এলাকার বাসিন্দা সাব-কন্টাকটর মো. হানিফকে তার মোবাইলফোনে (০১৭২৯১০৫৩২৯) কল করে পাওয়া যায়নি। তবে কাজের সময় প্রতিষ্ঠানটির জিও ব্যাগে বালুভর্তি ও সেলাই কাজের দায়িত্বে থাকা আ. জলিল নামে একজন বলেন, ‘নিয়মানুযায়ি প্রতিটি ব্যাগে ২৮০-৩০০ কেজি বালু ভর্তি করে কুল থেকে নদীর দিকে ৯ মিটার এলাকায় তা ফেলা হয়েছিল।’ 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]