ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯

সাংসদ পঙ্কজের বিরুদ্বে লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ: সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৯, ৭:২৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 129

সাংসদ পঙ্কজের বিরুদ্বে লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা

কাজিরহাট থানা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সঞ্জয় চন্দ্র অভিযোগ করে জানিয়েছেন, বরিশাল-৪ নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই দলীয় সাংসদ পঙ্কজের হাতে এ যাবত বেশি নির্যাতিত হয়েছিল। কেউ পঙ্গু, কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে আছেন। তাদের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে বহিরাগতদের দ্বারা  হিজলা মেহেন্দিগঞ্জ ও কাজিরহাট থানা শাসন করছেন।

সোমাবার অপরাহ্নে বরিশালের শহরের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই নির্যাতিত নেতা সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথের সন্ত্রাসের লোমহর্ষক নানা কাহিনীসহ দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির দালিলিক প্রমাণসহ ফিরিস্তি তুলে ধরেন। নির্যাতিত সঞ্জয় চন্দ্র দলীয় সাংসদের নিজ হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার পর গত তিন বছর বরিশাল শহরে আশ্রয় নিয়ে আছেন। ওই সংবাদ সম্মেলন ডাকার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- সাংসদ পঙ্কজ অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য ও আত্মীয়করণ করার প্রেক্ষাপটে দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কালক্ষেপন নিয়ে মিডিয়াকে অবহিত করা। 

সঞ্জয় চন্দ্রের অভিযোগ- মেহেন্দিগঞ্জে ৯টি কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে দলীয় সাংসদ প্রভাব বিস্তার করে ২০১৫ সালে ১৮ জন শিক্ষককে নিয়োগ পাইয়ে দেন। এর মধ্যে তার আপন ভাইয়ের স্ত্রী কল্যাণী দেবনাথ রয়েছেন। এই নিয়োগ বাণিজ্যে প্রায় অর্ধকোটি টাকা দেনদেন হয় বলে তিনি দাবি করেন। বিতর্ক এড়াতে ২০০৯ সালে তাদের নিয়োগ দেখানোর ক্ষেত্রে ভুয়া ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও নিয়োগ কমিটির একজনের স্বাক্ষর জাল করার প্রমাণ উপস্থাপন করেন। এই অবৈধ নিয়োগের বিরুদ্ধে পঙ্কজ নাথের ভাইয়ের স্ত্রী কল্যাণী দেবনাথ ও বিদ্যানন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মিয়াসহ ৪১ জনকে আসামি করে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ দুর্নীতি দমন আইনে একটি মামলা দায়ের হয়। ২০১৮ সালের শুরুতে দুদক মামলাটি তদন্ত শুরু করে এবং ২০১৯ সালের মার্চ মাসে ৪ জনকে অভিযুক্ত করে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু প্রতিবেদনে সন্তষ্ট না হয়ে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। এনিয়ে তিন দফা তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন হলেও মামলাটির সুরহা মিলছে না। মামলার বাদী সঞ্জয় চন্দ্র তৎসময়ে কাজিরহাট বিদ্যানন্দনপুর ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর ছিলেন।

এনিয়ে ঘাটাঘাটি করায় ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল সঞ্জয় চন্দ্রর ওপর হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এসময় হাতুড়িপেটা তার দুটি পা একটি হাত অকেজো করে দেওয়া হয়। পরে তাকে মিথ্যে চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে এই সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা নিজ এলাকায় যাতায়াত বন্ধ করে বরিশালে আশ্রয় নেন। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় দফা তাকে তুলে নিয়ে মেহেন্দিগঞ্জ নতুন ডাকবাংলোর ভেতর সাংসদ পঙ্কজ নিজেই পিটিয়ে অর্ধমরা করে নদীতে ফেলে দেন। নির্যাতিত এই নেতার বর্ণানায় উঠে আসে নির্বাচনী এলাকায় পঙ্কজের রোষানলে পড়ে কিভাবে প্রায় ৩০ জন দলীয় নেতাকর্মী হামলা ও নাজেহালের শিকার হন। নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রেখে পঙ্কজ তিন থানা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেন। ফলে ত্যাগি নেতা দলে কোনঠাসা হয়ে পড়ে, ইচ্ছা না থাকলেও জোরপূর্বক দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধ্য করতেন। অথচ গোটা দলসহ প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদে নিজের অনুসারীদের বসিয়ে পঙ্কজ রাজত্ব কায়েম করেন। ২০১৪ সালে নির্বাচিত এই সাংসদকে যেন পুনরায় দলীয় মনোনয়ন না দেওয়া হয় সেই দাবিতে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবে এই এলাকার নেতাকর্মীরা কনভেনশনের আয়োজন করে তাদের ওপর হামলা মামলার চিত্র তুলে ধরেছিলেন। তবুও পঙ্গজ ২০১৮ সালে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে যান এবং সাংসদ নির্বাচিতও হন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের বিষয়ে পঙ্কজ দেবনাথের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি  একে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে অভিহিত করেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]