ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯

হাজীগঞ্জে কোচিং ফি না দেওয়ায় ২ শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৯, ৩:৩৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 79

হাজীগঞ্জে কোচিং ফি না দেওয়ায় ২ শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত

হাজীগঞ্জে কোচিং ফি না দেওয়ায় ২ শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত

হাজীগঞ্জের কাপাইকাপ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার ২ শিক্ষার্থী কোচিং ফি না দেওয়ায়  বেত দিয়ে পিটিয়ে মারত্মক আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতরা হলো, ওই মাদরাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী লোধপাড়া গ্রামের শহীদ উল্যাহ ও নূরে আলমের মেয়ে। এ ঘটনায় আহত ওই দুই শিক্ষার্থীর পরিবার চিকিৎসার জন্য তাদেরকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

জানা গেছে, ৩ নভেম্বর সকালে মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। তবে নির্যাতনের ভয়ে মুখ খুলেনি ওই শিক্ষার্থীরা। বাড়ীতে এসে তারা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে আহত দুই ছাত্রী হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারী ও শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রীরা বলেন, সকালে  শ্রেণি কক্ষের সামনে খেলছিলাম। এ সময় আব্দুল হালিম হুজুর এসে আমাদের কাছে কোচিংয়ের টাকার কথা বলে । আমরা টাকা নেইনি বলে জানাই। পরে ক্লাসের পাঠ  না পাড়ার অযুহাতে আমাদের প্রচণ্ডভাবে বেত দিয়ে আঘাত করে। ওই ছাত্রীরা আরো বলেন, আমরা আগের দিন মাদরাসায় না যাওয়ায় পূর্বের দিন কি পড়িয়ে ছিলো জানি না। এটা বলার পর আরো বেশী মারে।

এতে তারা দু’জন অসুস্থ হয়ে পড়লে ওইদিন বিকেলে তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ২ ছাত্রীর মা জানান, কোচিং-এর টাকা সময় হলে দিয়ে দেই। কখনো একটু দেরি হয়। এজন্য হুজুর এতো মারতে পারেন না। পড়া না পারার কারণে হুজুররা মারে। কিন্তু টাকার জন্য কোনো শিক্ষক কি এভাবে মারতে পারে।

ছাত্রীদের পরিবার আরো জানান,  (রোববার) বিকেলেই মাদরাসার অধ্যক্ষ,  অভিযুক্ত শিক্ষক ও অন্য শিক্ষকেরা হাসপাতালে এসে তাদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

মাদরাসার অধ্যক্ষ এটিএম আব্দুল হাই জানান, মাদরাসার পক্ষ থেকে আহত দুই ছাত্রীর চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। নোটিসের জবাব পেলে  পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।  

মাদরাসার সভাপতি মো. শাহাজাহান জানান, ওই শিক্ষককে মাদ্রাসার চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু জানান, তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহত দুই ছাত্রীর চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্যে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ মাদরাসার আরবি বিভাগের শিক্ষক আব্দুল জলিল ২০১০ সালের ৩ আগস্ট ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। ওই ঘটনায় মেয়েটি সন্তান সম্ভবা হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে জাতীয় আইনজীবী সমিতি মেয়েটিকে আইনগত সহায়তা দেয়।

ওই অভিযুক্ত শিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও নগদ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায় দিয়েছিলেন আদালত।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]