ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯ ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯

বিশ্ববিদ্যালয় মরেছে বহু আগে
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 18

লজ্জায় মুখ লুকানোর আর কোনো কোনাকুঞ্চি অবশিষ্ট রইল না। সেদিন এক আর্ট-কালচার-আলসার করা এই পিত্থিমীর স্বঘোষিত সবচেয়ে ‘মেধাবী’ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক তেড়ে এলেন বিভাগের সিনিয়র নারী শিক্ষককে মারতে। সে কাহিনি ধরা আছে সেই বিভাগের সিসিটিভিতে। তিনি আছেন নির্ভয়ে, বহাল তবিয়তে। আজ জাবিতে এক ভিসি নিজ বিভাগের শিক্ষকদের পেটালেন পেটোয়াবাহিনী দিয়ে, ফের পত্রিকায় সেজন্য পেটোয়াবাহিনীর তারিফও করলেন।
শিক্ষকতা যখন রাজনৈতিক কারখানার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তখন কখনও একজন শিক্ষকের এক ‘অমূল্য’ ভোটের জন্য প্রশাসকদের কাছে তার অন্যায়-আচরণ উপেক্ষিত থাকে, বিভাগের শ্রদ্ধাভাজন ভীস্ম পর্যায়ের শিক্ষকরা ইনিয়েবিনিয়ে তার পক্ষ অবলম্বন করেন, আবার কখনও বা রাজনৈতিকভাবে গদিতে বসা উপাচার্য গদি ধরে রাখেন তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত শিক্ষকদের মারধর করা পেটোয়াবাহিনীর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করে।
সবই রাজনীতির খেলা। ম্যাক্রো-মাইক্রো সবপর্যায়ে। আসলে যতটা নিচে নেমে এদের ছুড়ে ফেলা সম্ভব, সে পর্যন্ত নামা, ক্ষমতাসীন রাজনীতির খুঁটির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত না থাকলে, সাধারণ শিক্ষকদের পক্ষে সম্ভব হয় না। রুচির ব্যাপারও থাকে। তাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যেমন একজন সৎ, শ্রদ্ধেয় ভালো মানুষ নির্বাচনে দাঁড়ান না, দাঁড়াতে পারেন না, কিংবা দাঁড়ালেও স্থানীয় টাউট, ড্রাগ-ডিলারের কাছে হেরে যান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও তাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি শিক্ষকদের ঠিক এই পর্যায়ে নামিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মরেছে বহু আগে, সেই মরা গন্ধের ভেতর থেকে আমাদের নাক সয়ে গেছে। না কি হুয়ান রুলফোর সেই গল্পের মতো আমরা যে মরে গেছি, বিশ্ববিদ্যালয় যে মরে গেছে, সেই সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তেমন কেউ এলে জীবিত নেই সেটাও কেউ বলতে পারছেন না। রেস্ট ইন পিস, বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। আমি তোমার নাম লইয়া কান্দি।

কাবেরী গায়েন, শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyera[email protected]