ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯ ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯

নির্দিষ্ট ঠিকাদার যেন বারবার কাজ না পায়
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন হোক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 14

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। তারপরও থেমে নেই দুর্নীতি। সরকার জিরো টলাারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। কিন্তু তারপরও দুর্নীতির থাবা থেকে যে আমরা পুরোপুরি মুক্ত হয়েছি, তা নয়। সংবাদমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দুর্নীতি বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। উঠে আসে বিভিন্ন পর্যায়ে ঘটা দুর্নীতির খবর। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের সব সেক্টরের উন্নয়নে নজর দিয়েছে। উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আজ আমরা মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্যও নজর কাড়ার মতো। কিন্তু সরকারের সব অর্জনকে মøান করে ফেলতে দুর্নীতির ভূমিকাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। দুর্নীতির কারণে সরকারের ভালো কাজগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলার সুযোগ তৈরি হয়। নষ্ট হয় সরকারের ভাবমূর্তি। দুর্নীতির শিকড় আজ অনেক গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে। যার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে নানা পর্যায়ের মানুষ। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার
শুরু করেছে শুদ্ধি অভিযান। যার সুফলও মিলছে। সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে শুদ্ধি অভিযান।
মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে। কারণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জয়ী হওয়ার সুফল ভোগ করবে সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষ চায় সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। আর এই বিষয়টিই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। বর্তমান শুদ্ধি অভিযানে অনেক ঠিকাদার এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। ঘুরেফিরে একই প্রতিষ্ঠান কাজ পাওয়ার কারণে অনেক সময় দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থেকে যায়। কারণ অনেক সময় এমন প্রতিষ্ঠানও কার্যাদেশ পায়, যাদের রয়েছে সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার ঘাটতি। এ বিষয়টি নজরে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর। তাই তিনি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। দৈনিক সময়ের আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, একনেকের ১৯তম সভায় সভাপতিত্ব করার সময় প্রধানমন্ত্রী পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন সহজ করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনটা এমন যে, বড় বড় ঠিকাদার ছাড়া নতুন, ছোট ঠিকাদাররা সুযোগ বেশি পায় না। এটাকে একটু সহজ করেন, যাতে করে আরও কেউ ঢুকতে পারে এবং প্রতিযোগিতা হয়। মান ঠিক রেখে সবাই যেন উন্নয়ন কাজে অংশ নিতে পারে সে দিকটির প্রতি নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কাজ জানে না এমন কাউকে কাজ না দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। এ জন্য প্রয়োজন হলে প্রচলিত বিধি-বিধান আরও যাচাই-বাছাই করার জন্য পরিকল্পনামন্ত্রী এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিবকেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সময়ের আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নির্দেশনা পাওয়ার পর পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন সহজ করার কাজ চলছে। এটা হলে নতুন নতুন প্রতিযোগিতা হবে এবং নতুন ঠিকাদাররা ঢোকার সুযোগ পাবে।
দুর্নীতির কারণে লুটপাট হয়। নষ্ট হয় সরকারের কোটি কোটি টাকা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সরকার এবং সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পে দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে নির্মাণকাজ পর্যন্ত চলে দুর্নীতি। টেন্ডারে উল্লেখ করা শর্ত অমান্য করে অনিয়ম বা দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায়ই নিম্নমানের সামগ্রীও ব্যবহার হয়। বারে বারে একই প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পাওয়ার সুযোগ নিয়ে অনেক সময় মেতে ওঠে দুর্নীতিতে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে। জোড়াতালি দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা এবং বছরের পর বছর কাজ ফেলে রাখার অনিয়মকেই যারা নিয়মে পরিণত করার মাধ্যমে দুর্নীতিতে জড়িয়েছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন সহজ করার মধ্য দিয়ে সেই অবস্থার অবসান ঘটবে বলে আমরা মনে করি। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সময়োপযোগী। আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের
মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে কোনো পর্যায়েই অনিয়ম ও দুর্নীতি যাতে না হয়, তার জন্য প্রশাসনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করতে হবে। 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]