ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯ ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯

ইসলামে কৃষিকাজ ও কৃষক
মাওলানা মুনীরুল ইসলাম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 29

ইসলামে কৃষিকাজের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রতিটি মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি সাধারণত কৃষি থেকেই আসে। ভূমিতে কৃষিকাজ করার মধ্য দিয়ে মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। আর ভূমি বলতে পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, সাগর, ভূগর্ভস্থ সম্পদ সব কিছুকেই ভূমি বোঝায়। আর বর্তমানে জমি চাষসহ পশুপালন, মৎস্য বিজ্ঞান এবং উদ্যান করাও কৃষিবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত। সেই হিসেবে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম।কোরআন-হাদিসেও বহু জায়গায়
কৃষি ও কৃষকের গুরুত্ব এবং মর্যাদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তিনিই তোমাদের জন্য মাটিকে ব্যবহারের উপযোগী করে দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা এতে বিচরণ কর এবং তার দেওয়া রিজিক আহার কর, পুনরুত্থান তার কাছেই হবে।’ (সুরা মুলক : আয়াত-১৫)। তিনি আরও বলেন, ‘যে পবিত্র সত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদস্বরূপ করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসেবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত-২২)
ভূমি যেন পরিত্যক্ত বা অনাবাদি না থাকে সে জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা জমি আবাদ কর, আর যে ব্যক্তি নিজে আবাদ করতে না পারে সে যেন জমিটি অন্য ভাইকে দিয়ে দেয়, যাতে সে আবাদ করে ভোগ করতে পারে।’ (বুখারি শরিফ) ইসলাম বর্গাচাষকেও অনুমোদন দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি জমি সেচ করা, চারা রোপণ এবং ফসল ফলানোর জন্য নিজের জমি অন্যের কাছে হস্তান্তর করে এবং বিনিময় উৎপাদিত পণ্যের একটি নির্দিষ্ট অংশগ্রহণ করে। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) খায়বারের লোকজনের সঙ্গে এই মর্মে চুক্তি করেছিলেন যে, তারা উৎপাদিত গাছ বা ফল-ফসলের অর্ধেক দিয়ে দেবে।’ (মুসলিম শরিফ)
পৃথিবীতে আগমনকারী প্রায় নবী-রাসুলই কৃষি সংক্রান্ত কাজ করেছেন। আদি পিতা হজরত আদম (আ.) পৃথিবীতে এসে প্রথম কৃষিকাজ শুরু করেন। তিনি নিজের হাতে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে কৃষির ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন। নিজ হাতে খেজুর গাছ রোপণ করেছেন। সাহাবায়ে কেরামকে তিনি কৃষিকাজে উৎসাহিত করেছেন। অনেক সাহাবি ক্ষেত-খামারে কাজ করে, ফলের বাগান করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
কৃষির কারিগর কৃষকের অনেক মর্যাদা রয়েছে। কবি বলেছেন, ‘সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা, পুণ্য এত হবে নাকো সব করলেও খাসা।’ কৃষক অনেক কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলান। মূলত কৃষিজ পণ্য থেকেই সব খাদ্য তৈরি হয়। তারা ফসল উৎপন্ন না করলে এলিট শ্রেণির লোকদের টাকা কিংবা মুদ্রা চিবিয়েই ক্ষুধা নিবারণ করতে হতো। কৃষকদের সার্বিক পরিশ্রমের পর ফসল পরিপুষ্ট হলে সংগ্রহ করে ঘরে তোলেন। ফসল ভালো হলে আনন্দিত হন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তাদের উদাহরণ যেমন একটি চারাগাছ। যা থেকে বের হয় কুঁড়ি। এরপর সেটা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং কাণ্ডের ওপর দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়। যা
কৃষকদের জন্য আনন্দদায়ক।’
(সুরা ফাত্‌হ : আয়াত-২৯)
প্রতিদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পরও কৃষকরা অত্যন্ত সহজ সরল জীবনযাপন করে থাকেন। তাদের মধ্যে কোনো অলসতা নেই। ভোরে ওঠে তারা মাঠের কাজে মনোযোগী হয়ে যান। তবে মহান কৃষিবিজ্ঞানী আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। ফলে নানা উদ্ভিদ জন্মে, সবজি হয়, শস্য ফলে। বৃষ্টির মাধ্যমেই মৃত জমিন প্রাণ ফিরে পায়। সে জন্য সবসময় আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করতে হবে।
বাংলাদেশের ভূমিকে আল্লাহ তায়ালা উর্বর করে দিয়েছেন। এ ভূমি এ দেশের অমূল্য সম্পদ। এ সম্পদ কাজে লাগিয়ে আমরা যত বেশি স্বনির্ভর ও স্বাবলম্বী হব, দেশও তত উন্নত, সুখী ও সমৃদ্ধ হবে এবং এর মাধ্যমে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করলে সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব পাওয়া যাবে। সুতরাং কৃষিকাজের প্রতি আমাদের তৎপরতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]