ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯ ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯

জাবি উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন
‌‌‘ভিসির ছেলে ও স্বামীর কল রেকর্ড বের করলেই পাওয়া যাবে দুর্নীতির প্রমাণ’
জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯, ৮:৩৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 220

‌‌‘ভিসির ছেলে ও স্বামীর কল রেকর্ড বের করলেই পাওয়া যাবে দুর্নীতির প্রমাণ’

‌‌‘ভিসির ছেলে ও স্বামীর কল রেকর্ড বের করলেই পাওয়া যাবে দুর্নীতির প্রমাণ’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার পর নতুন আন্দোলন ঠেকাতে ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

৫ নভেম্বর জরুরি  এক সিন্ডিকেট সভার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা ও আবাসিক হল বন্ধ ও  ক্যাম্পাসে সভা-সামাবেশ নিষিদ্ধ করে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম প্রশাসন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ ঘোষণা  প্রত্যাখান করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর' ব্যানারে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

তাদের দাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান ঠেকাতে অনৈতিকভাবে হল ভ্যাকেন্ট  ও বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা চিন্তা না করে শুধু পদ বাঁচাতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।

উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়  বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’- এর ব্যানারে আন্দোলনকারী শিক্ষক - শিক্ষার্থীদের  বিক্ষোভ  মিছিল বের করেন।  মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের মাধ্যমে শেষ হয়।

মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের দুর্নীতির তদন্তের বিষয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক - শিক্ষার্থীরা।

‌‌‘ভিসির ছেলে ও স্বামীর কল রেকর্ড বের করলেই পাওয়া যাবে দুর্নীতির প্রমাণ’

‌‌‘ভিসির ছেলে ও স্বামীর কল রেকর্ড বের করলেই পাওয়া যাবে দুর্নীতির প্রমাণ’


তারা বলেন, উপাচার্যের আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়ে সব জাতীয় দৈনিক, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং টাকা পাওয়ার স্বীকারোক্তি নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাদের ভিডিও ক্লিপ রয়েছে। আমার যে অভিযোগ করছি তা তদন্ত করার দায়িত্ব সরকারের।

উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে জাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ মঞ্চের অন্যতম মুখপাত্র ও সংগঠক অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, অভিযোগকারী কখনও অভিযোগ প্রমাণ করে না। অভিযোগ সঠিক কি না সেটা বুঝা যাবে তদন্তের মাধ্যমে।  

তিনি আরো বলেন, তদন্তে যদি উপাচার্য নির্দোষ হয়; তখন আর কোনো কথা হবে না। কিন্তু এটা প্রমাণ করার দায়িত্ব যখন কেউ নিচ্ছেন না তখনই আমরা আন্দোলনে নেমেছি।

দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণের বিষয়ে নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক মির্জা তসলিমা সুলতানা বলেন, গণমাধ্যমের প্রচারিত সংবাদ ও ছাত্রলীগের নেতাদের বক্তব্যের পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শুধু অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করার দায়িত্ব সরকারের। আমরা তো আর গোয়েন্দা সংস্থার লোক না, আমরা কীভাবে ভিসির দুর্নীতি প্রমাণ করবো।

দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণের বিষয়ে সাদ্দমপন্থি হিসাবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হামজা রহমান অন্তর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পরিবার ও শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার ফোনালাপ বের করলে সকল উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ লেনদেনের তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব।

‌‌‘ভিসির ছেলে ও স্বামীর কল রেকর্ড বের করলেই পাওয়া যাবে দুর্নীতির প্রমাণ’

‌‌‘ভিসির ছেলে ও স্বামীর কল রেকর্ড বের করলেই পাওয়া যাবে দুর্নীতির প্রমাণ’


ভিসির ছেলে প্রতীক হাসান, স্বামী আখতার হোসেন, জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ জুয়েল রানা, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল, যুগ্ম  সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন, সহ-সভাপতি  নিয়ামুল হাসান তাজের ফোন নম্বরের ৮, ৯, ১০ আগস্টের কল রেকর্ড সিম কোম্পানি থেকে বের করলেই দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ বের হয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেন এ ছাত্রলীগ নেতা।
 
তিনি আরও বলেন, এসব বের করা তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ মিনিটের ব্যাপার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুনাম নষ্টের চেষ্টাকারীদের সকলের অপকর্মের প্রমাণ আছে এসব কল রেকর্ডে।

এই আন্দোলনে প্রথম থেকে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থী রেবেকা আহামেদ বলেন, হল থেকে এক কাপড়ে বেরিয়ে এসেছি । প্রশাসন আমার  হল সিলগালা করেছে, আমাদের দমাবার কোনো পদক্ষেপ তারা বাকি রাখে নি। সারাদিন রোদে পুড়ে, ঘামে ভিজে সেই কাপড় পরে ঘুমাই। অনেক ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত এবং হল ছাড়া হয়ে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করে যাচ্ছি এবং তার অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোন চালিয়ে যাবো।

অথচ আমাদের হলে বসে পড়াশুনা করার কথা ছিলো। অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বাড়ির সামনে পুলিশ বসিয়ে তিনি এসি রুমে আরাম করছেন। তবে এবার সময় এসেছে অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের  দুর্নীতির জন্য ওই হাওয়া ভবন ছেড়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াবার! সামনে যত যাই অপেক্ষা করুক তার অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে পিছপা হবো না।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের সমন্বয় ও মুখপাত্র অধ্যাপক রাইয়ান রাইন বলেন, এই মামলাবাজ হামলাবাজ দুর্নীতিবাজ উপাচার্য অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চলমান থাকবে।

উপাচার্যের অপসারণ আন্দোলনের অংশ হিসাবে বৃহস্পতিবার  সন্ধ্যা ৬.০০ টায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনের সড়কে অনুষ্ঠিত হয় এক প্রতিবাদী কনসার্ট। সংহতি জানিয়ে সংগীত পরিবেশন করেন সিনা হাসান, আহমেদ হাসান সানী, তুহিন কান্তি দাস, নাইম মাহমুদ, মূইজ মাহফুজ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কনসার্ট চলছে কনসার্ট শেষে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি জানানো হবে জানান আন্দোলননের সংগঠকরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরজ উল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের  সিদ্ধান্ত অমান্য করে কতিপয় রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা আন্দোলন করছেন। এতে  সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতা নেই। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী  সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করে আছে প্রশাসন।

 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]