ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯ ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯

কমলগঞ্জে পলো বাওয়া উৎসব
সজীব দেবরায় কমলগঞ্জ
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৮.১১.২০১৯ ১২:৩৭ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 79

কমলগঞ্জে পলো বাওয়া উৎসব

কমলগঞ্জে পলো বাওয়া উৎসব

কালের বিবর্তনে পাল্টে গেছে সবকিছু। কমে আসছে এক সময়কার চিরচেনা নদনদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়ও। হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক বাঙালির গ্রামীণ উৎসব-ঐতিহ্য। এরপরও একটি প্রবাদ আছে ‘নদী হাওর আর ধান এই তিনে মৌলভীবাজারের প্রাণ’। আর সেই মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার একটি নদীকে কেন্দ্র করে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে পালিত হয়ে আসছে গ্রাম-বাংলায় প্রায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরা উৎসব। আর এই মাছ ধরা উৎসব জানিয়ে দিচ্ছে মাছে-ভাতে বাঙালির দেশে মাছেরা হারায়নি। হারায়নি একসময়ের বহুল প্রচলিত মাছ ধরার উৎসবও।

পুরোদমে শুষ্ক মৌসুম শুরু না হলেও কমলগঞ্জ উপজেলার বুক দিয়ে প্রবাহিত ধলাই নদীসহ বিভিন্ন এলাকার প্রবহমান ছোট ছোট ছড়া বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে শুরু হয়েছে পলো বাওয়া উৎসব। প্রতিবছর এ সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সৌখিন মৎস্য শিকারিরা দল বেঁধে উৎসবমুখর পরিবেশে পলো বাওয়ায় অংশ নেন। পলো (বাঁশ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি ঝাঁপি) বাওয়া উৎসব হলো দল বেঁধে মাছ ধরা।

বৃহস্পতিবার সকালে ধলাই নদীতে এই মৎস্য আহরণ শুরু হয়। এতে প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে। কমলগঞ্জ পৌর এলাকার দক্ষিণ কুমড়াকাপন, আলেপুর, চণ্ডীপুর প্রভৃতি গ্রামের মানুষ এতে অংশগ্রহণ করে। কমলগঞ্জের খাল-বিল ও নদী নালার পানি কমতে শুরু করেছে। কমলগঞ্জের ফসলি মাঠগুলো এখনও হয়ে ওঠেনি আবাদের উপযোগী। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকের হাতে নেই তেমন কোনো কাজ। এ অবসরে অল্প পানিতে মাছ শিকারের উৎসবে মেতে ওঠেন সবাই।

ধলাই নদীর স্বল্প পানিতে এখন বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে দল বেঁধে মাছ ধরার সে দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে পলো, উড়াল জাল, পেলেন জাল এসব দিয়েই মাছ শিকার করছেন লোকজন। দলবদ্ধভাবে মাছ শিকারের এ দৃশ্য দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা। উৎসবে অংশ নেওয়া মানুষদের উৎসাহ দিতে হাতে তালি কিংবা জোরে জোরে চিৎকার করে উৎসাহ প্রদান করছেন দর্শনার্থীরা। বড়দের পাশাপাশি ছোটরাও যে যার মতো করে মাছ ধরতে সহযোগিতা করছে। মাথা ও কোমরে আঁটসাট করে গামছা বেঁধে মাছ ধরছেন সবাই। সকাল থেকে শুরু হয়ে বিকাল পর্যন্ত চলে এই মাছ ধরা। দল বেঁধে সারিবদ্ধ হয়ে পলো দিয়ে পুঁটি, টেংড়া, শোল, ঘাগট ও বোয়াল মাছ ধরছেন শিকারিরা। পলো দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য সবারই মন কাড়ে। নদীর স্বল্প পানিতে ৩০-৪০ জনের একটি দল একদিকে জাল নিয়ে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। আর অপরপ্রান্ত থেকে ৪০-৫০ জনের সারিবদ্ধ দল পলো ছাপিয়ে মাছ ধরতে ধরতে সামনের দিকে এগিয়ে আসেন।

আলেপুর গ্রাম থেকে আসা নূর মিয়া বলেন, বছরের এই দিনটার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। সবাই মিলে একসঙ্গে মাছ ধরার আনন্দটাই আলাদা। কমলগঞ্জের প্রবীণ মাছ শিকারি মো. ইসমাইল মিয়া ও আনোয়ার মিয়া জানান, দিন দিনই পরিবেশ ও আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে নদী-নালা, খাল-বিল, হাওরের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি হ্রাস এবং অধিকাংশ জলাশয় ইজারা দেওয়ায় পলো বাওয়া উৎসবে এখন অনেকটাই ভাটা পড়েছে। অভাব অনটন ক্রমশ গ্রাস করে ফেলছে চিরাচরিত এই গ্রামীণ উৎসবের অতীত ঐতিহ্যকে। তাদের মতে, প্রাচীন এই উৎসবকে টিকিয়ে রাখতে সর্বমহলের উদ্যোগ প্রয়োজন।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]