ই-পেপার শুক্রবার ২২ নভেম্বর ২০১৯ ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২২ নভেম্বর ২০১৯

জেলার রাজনীতি : নীলফামারী
কাউন্সিল নিয়ে ব্যস্ত আ.লীগ, বিএনপি চেষ্টা করছে সুসংগঠিত হতে
ঢিলেঢালা জাপা, জামায়াত কোণঠাসা
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৮.১১.২০১৯ ১২:৩২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 40

কাউন্সিল নিয়ে ব্যস্ত আ.লীগ, বিএনপি চেষ্টা করছে সুসংগঠিত হতে

কাউন্সিল নিয়ে ব্যস্ত আ.লীগ, বিএনপি চেষ্টা করছে সুসংগঠিত হতে

কাউন্সিল নিয়ে এ মুহূর্তে জেলায় ব্যস্ত রয়েছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে বিএনপি চেষ্টা করছে সুসংগঠিত হতে। এছাড়া ঢিলেঢালা অবস্থায় চলছে জাপা। আর অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে জামায়াত। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জেলা আওয়ামী লীগের অধীনে সাতটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি উপজেলা এবং একটি পৌর শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। জেলায় ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ১৩ বছর পর মূল দল থেকে শুরু করে সহযোগী সংগঠনগুলো পর্যন্ত কাগজে-কলমে আছে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নিয়ে। ফলে জেলায় দলের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ভুগছেন গভীর হতাশায়।

২০০৬ সালের ১৬ জুলাই সর্বশেষ কাউন্সিল হয় জেলা আওয়ামী লীগের। কাউন্সিলে দেওয়ান কামাল আহমেদকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট মমতাজুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয় জেলা কমিটি। ২০১২ সালের ২ জানুয়ারি পর্যন্ত এর পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হলেও ওই কমিটি এখনও বহাল আছে। তবে সংগঠকদের দাবি, সম্মেলন করে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হোক। জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দু’গ্রুপে বিভক্ত। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা সভাপতি ও পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ। আরেক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক। তবে দু’গ্রুপে বিভক্ত থাকলেও তৃণমূল নেতাকর্মীদের আস্থাভাজন হিসেবে জনপ্রিয় নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের কারণে কোনোরূপ অস্থিতিশীল বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। জেলার মতোই অবস্থা চলছে অন্য উপজেলাগুলোতেও। সব জায়গাতেই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায়। ১৩ বছরেও কাউন্সিল না হওয়ায় জলঢাকায় তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীরা হতাশ। ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর থেকে চরম আঘাত আসা শুরু হয় দলটির ওপর। জামায়াত-শিবিরের হাতে প্রাণ হারান আওয়ামী পরিবারের চারজন কর্মী। বেঁচে যান সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। ওই ঘটনায় আহত হন অনেকেই।

নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর সময়ের আলোকে বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দলীয় কোন্দলের বিরুদ্ধে দেশনেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে নীলফামারীর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে আমি কাজ করছি। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক বলেন, সুসংগঠিত দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে।

নীলফামারীতে বিএনপি গত ১০ বছরে ভঙ্গুর ও নাজুক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। পকেট কমিটিগুলো দিয়ে কোনো রকমে ছোটখাটো মিছিল-মিটিংয়ের মধ্য দিয়ে চালানো হচ্ছে দলীয় কার্যক্রম। ২০০০ সাল থেকে খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিনের নেতৃত্বে জেলা বিএনপি পরিচালিত হয়ে আসছিল। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর তুহিন দেশ ত্যাগ করেন। ২০১৪-১৯ পর্যন্ত জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিছুর আরফিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শিল্পপতি শামসুজ্জামান জামান দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে নীলফামারী-২ সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে শিল্পপতি শামসুজ্জামান জামান মনোনয়নের জন্য জোর চেষ্টা চালালেও ২০-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর জেলা নায়েবে আমির মো. মনিরুজ্জামান মন্টু ধানের শীষ মার্কায় নির্বাচনের অনুমতি পান। পরবর্তী সময়ে শিল্পপতি শামসুজ্জামান জামান অভিমান করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পদত্যাগ চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু কেন্দ্র তা গ্রহণ করেনি।

এ বিষয়ে শামসুজ্জামান জামান মোবাইল ফোনে বলেন, দলের ওপরে মান-অভিমান থাকতেই পারে, আমি পদত্যাগ করতে চাইলেও দল আমাকে ছাড়েনি। কারণ দুঃসময়ে আমি দলের হাল ধরেছি। চলতি বছরের গত ১ আগস্ট মো. আলমগীর সরকারকে আহ্বায়ক ও মো. জহুরুল আলমকে সদস্য সচিব করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। আগামী ১৪ নভেম্বর নীলফামারী জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আলমগীর সরকার বলেন, আগামী ১৪ নভেম্বর জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন করে দেশনেত্রীর মুক্তিসহ আওয়ামী দুঃশাসন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের পরিকল্পনা আছে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. জহুরুল আলম আরও বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কারণ বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল।

এক বছর আগে গঠিত হওয়া আহ্বায়ক কমিটিতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাগ্নে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আদেলুর রহমান আদেলকে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব শাহাজাহান আলী চৌধুরীকে দিয়েই ঢিলেঢালাভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে নীলফামারী জেলা জাতীয় পার্টি (জাপা)। জেলায় এক সময় জাপা শক্ত অবস্থানে থাকলেও বর্তমানে হাতেগোনা কয়েকজন নেতাকর্মী ও এরশাদভক্ত সমর্থক ছাড়া জাপা সাংগঠনিকভাবে অতীতের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বিগত দিনে অনেকেই জাপা করেছিল; কিন্তু জাপায় অবমূল্যায়িত হয়ে এখন তারা অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে কিছুসংখ্যক নেতাকর্মী সময়ের আলোকে জানান, আমরা বছরের পর বছর জাতীয় পার্টি করে মূল্যায়ন না পেয়ে অন্য দলে যোগদান করি।

জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নীলফামারীতে দীর্ঘদিন ধরে তাদের কোনো ধরনের দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই। কোণঠাসা হয়ে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী। নেতাকর্মীরা কৌশলগত কারণে ঘাপটি মেরে রয়েছেন এবং চুপিসারে তাদের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর জেলা নায়েবে আমির মো. মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, বর্তমান আওয়ামী সরকার আমাদের কার্যক্রমে বাধা দিলেও আমাদের সমর্থক কমেনি; বরং আমাদের ভোটার সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]