ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯ ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯

ইবাদতে নবীজির কান্না
মাওলানা শোয়াইব রিফাত
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 21

নবীজি (সা.)-এর জীবন-যাপন অন্য দশজন মানুষের মতোই ছিল। অন্যদের মতোই তিনি চলতেন-ফিরতেন খেতেন-ঘুমাতেন। তবে তার চলা, বলা ও কাজকর্মের ধরন ছিল আলাদা। প্রতিটি ইবাদতই করতেন একাগ্রচিত্তে; প্রভুর স্মরণ রেখে। ফলে কান্নামিশ্রিত ইবাদতের প্রকাশ পেত তার থেকে। নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত বা অন্য কোনো ইবাদতে নবীজি খুব কাঁদতেন। চোখ থেকে দরদর করে অশ্রু প্রবাহিত হতো। নবীজির কান্নার ধরন প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর কান্না ছিল তার হাসির মতোই নীরব। তিনি শব্দ করে কাঁদতেন না, যেমন স্বশব্দে হাসতেন না। কেবল তার দুই চোখ অশ্রু ঝরাত।’ (জাদুল মায়াদ : ১৮৩)
নামাজের সময় কান্না : নামাজে দাঁড়িয়ে, বিশেষত রাতের নফল নামাজে নবীজি খুব কাঁদতেন। কখনও সাহাবিরা জানতে পারতেন, কখনও বুঝতেও পারতেন না যে, নবীজি কাঁদছেন। তার দুই চোখ ছাপিয়ে কেবল অশ্রু প্রবাহিত হতো। আবার কখনও নামাজে তেলাওয়াতের সময় কান্নায় গলা ভারী হয়ে আসত। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে শিখখির (রহ.) তার পিতা সূত্রে বর্ণনা করেন, একবার নবীজির কাছে গিয়ে দেখলাম, তিনি নামাজ পড়ছেন, আর তার বুক থেকে কান্নার এমন শব্দ বের হচ্ছে, যেন চুলায় রাখা পানির পাত্র টগবগ করে ফুটছে।
কখনও আবার সেজদায় পড়েও কাঁদতেন। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, একবার সূর্য গ্রহণের সময় নবীজি নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন। দীর্ঘ রুকু-সেজদা করলেন। সেজদায় গিয়ে মনে হলো তিনি আর উঠবেন না। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলেন আর কাঁদছিলেন। দোয়ার মধ্যে বলছিলেন, হে আমার প্রতিপালক, আপনি কি আমাকে এই প্রতিশ্রুতি দেননি যে, আমার উপস্থিতিতে উম্মতকে শাস্তি দেবেন না? (নাসায়ি : ১২১৪)
কোরআন শ্রবণের সময়
কান্না : কোরআনে আজাবের আয়াত পাঠকালে ক্রন্দন করা নবীজির সুন্নত ছিল। সাহাবিদের থেকে কোরআন তেলাওয়াত শুনেও তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তেন। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেনÑ নবীজি একদিন আমাকে বললেন, আমাকে কোরআন পড়ে শোনাও। ইবনে মাসউদ (রা.) বললেন, কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে আপনার ওপর আর আমি আপনাকে পড়ে শোনাব? নবীজি (সা.) বললেন, আমি অন্যের কাছ থেকে শুনতে চাচ্ছি। ইবনে মাসউদ (রা.) সুরা নিসা তেলাওয়াত করলেন। যখন এ আয়াতে এলেন, ‘আর তখন কী অবস্থা হবে, যখন আমি ডেকে আনব প্রত্যেক উম্মতের মধ্য থেকে সাক্ষী এবং আপনাকে ডাকব তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে।’ (সুরা নিসা : ৪১)। তখন আমি দেখলাম নবীজির চোখ থেকে ঝরঝর করে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে। (বুখারি : ৪৬৮২)
হাজরে আসওয়াদ চুম্বনের সময় কান্না : বিশেষ বিশেষ ইবাদতের সময়ও নবীজির চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হতো। আল্লাহর প্রেম ও আখেরাতের খেয়াল অন্তরে জেগে উঠলে নবীজি (সা.) আবেগে ও বিনয়ে কাঁদতেন। হাদিসে এসেছেÑ নবীজি একবার হাজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ শুরু করলেন। ফিরে এসে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন। তখন কান্নায় তার অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল। (বায়হাকি : ৭২৩৪)
নবীজির মতো আমরাও যদি আমাদের ইবাদত-বন্দেগিতে আল্লাহ ও আখেরাতের ভয়ে কাঁদতে পারি, তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ আমাদের ইবাদত কবুল করবেন এবং পরকালে আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন ইনশাআল্লাহ।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]