ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯ ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯

সবাইকে সচেতন ও আন্তরিক হতে হবে
শিল্পায়নের জন্য ফসলি জমি নষ্ট নয়
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 12

প্রতিদিনই কমছে কৃষিজমি। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যেখানে-সেখানে কল-কারখান স্থাপনের ফলে প্রতিনিয়ত কমে আসছে
কৃষিজমি। আমাদের মোট ভূমির মাঝে কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয় শতকরা সাড়ে ছেষট্টি ভাগ। অথচ প্রতিনিয়ত এই জমির পরিমাণ কমে আসছে। সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক যুগে দেশের প্রায় সাতাশ লাখ একর কৃষিজমি চলে গেছে অকৃষি খাতে। এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অন্য একটি পরিসংখ্যান বলছে, বাণিজ্যিক কারণে প্রতিদিন গড়ে ৬৯২ একর এবং নির্মাণকাজের কারণে এক হাজার হেক্টর জমি বিলীন হচ্ছে। দেশে কৃষিজমির পরিমাণ যদি এভাবে কমতে থাকে, তাহলে জমির অভাবে একটি সময় কৃষিকাজের গতি থমকে যাবে। জমির অভাবে কৃষক প্রয়োজনীয় ফসল ফলাতে পারবে না। দেশে তৈরি হবে খাদ্য সংকট। ফলে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশ থেকে আমরা পরিণত হব খাদ্য ঘাটতির দেশে।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতি এখনও কৃষিপ্রধান। আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। এসবই সম্ভব হয়েছে কৃষিকে সরকার অগ্রাধিকার দেওয়ায়। কিন্তু যে হারে কৃষিজমি কমছে তা আমাদের আগামীর জন্য অশনিসংকেত। দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু জমির পরিমাণ বাড়ার সুযোগ নেই। বরং অতিরিক্ত জনসংখ্যার আবাসন এবং শিল্পায়নের জন্য হাত বাড়াতে হচ্ছে কৃষিজমির দিকে। অথচ নগরায়ণ এবং শিল্পায়ন যদি পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন হয়, তাহলে আমাদের কৃষিজমির সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। যে হারে কৃষিজমি কমছে, তার কুফল বিষয়ে সরকার সচেতনÑ এটি
কৃষক লীগের সম্মেলনে দেওয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শিল্পায়নের জন্য ফসলি জমি নষ্ট করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। সুনির্দিষ্ট জায়গার বাইরে কোথাও শিল্প ও কল-কারখানা স্থাপন করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দেশ, আমরা উন্নত হব, শিল্পায়নে যাব। কিন্তু কৃষককে ত্যাগ করে নয়, কৃষিকে ত্যাগ করে নয়। আমাদের কৃষিজমি বাঁচাতে হবে। প্রায় ১৬ কোটি মানুষকে আমাদের খাবার দিতে হবে।’ কৃষিজমি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান যুগোপযোগী। তার এই আন্তরিক আহ্বানকে গুরুত্ব দিতে হবে শিল্প উদ্যোক্তাদের। একই সঙ্গে
কৃষিজমি রক্ষায় শুধু রাজধানী নয়, রাজধানীর বাইরের সিটি করপোরেশন এবং পৌর কর্তৃপক্ষকেও সচেষ্ট হতে হবে। অপরিকল্পিত নগরায়ণকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। অকৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বমুখী ভবন নির্মাণকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
যে হারে আমাদের জনসংখ্যা বাড়ছে সেই গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কৃষিজমি বাড়ার সুযোগ তো নেই-ই বরং জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিনিয়ত জমির পরিমাণ কমছে। এভাবে আমাদের কৃষিজমি যদি কমতে থাকে তবে ভবিষ্যতে বড় সংকট তৈরি হবে। আমরা মনে করি, কৃষিজমি রক্ষায় সরকারের এখন কঠোর হওয়ার সময় এসেছে। জমির ব্যবহার বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি কৃষিজমি রক্ষায় প্রণয়ন করতে হবে সুনির্দিষ্ট আইন। একই সঙ্গে নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে জমির অপব্যবহার রোধ করতে হবে।
কৃষিজমি সুরক্ষায় আমাদের নিজেদেরও সচেতন হতে হবে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]