ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯ ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯

নওগাঁয় দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি পেয়ে খুশি অসহায়রা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯, ১১:৩৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 154

নওগাঁয় দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি পেয়ে খুশি অসহায়রা

নওগাঁয় দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি পেয়ে খুশি অসহায়রা

নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁপানিয়া ইউনিয়নের উল্লাশপুর গ্রামের দরিদ্র বিধবা গৃহবধু ফিরোজা বেগম। গত ২৫ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। তারপর দুই মেয়েকে নিয়ে কুড়োঘরে বসবাস শুরু করেন। মেয়েদের বড় করে প্রতিবেশীরা সহযোগিতায় বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের কয়েক বছরের মাথায় এক মেয়ে বিধবা এবং এক দিভোস (তালাক) নেয়।

এরপর আবারও শুরু হয় বেঁচে থাকার যুদ্ধ। ফিরোজা বেগম দুই মেয়ে ও তিন নাতী-নাতনীকে নিয়ে স্বামীর রেখে যাওয়া সামান্য জমিতে টিনের দুটো কুড়ো ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস শুরু করেন। টিনগুলো পুরনো হয়ে যাওয়ায় অসংখ্য ছিদ্র হয়ে যায়। ছিদ্রগুলো দিয়ে বর্ষায় ঝড়-বৃষ্টির পানি এবং শীতের সময় হিমেল হওয়া ও ঠান্ডা প্রবেশ করতো। জীবিকার তাগিদে তারা বেঁছে নিয়েছেন চাতাল শ্রমিকসহ কৃষি কাজ। গত ২ মাস আগে ফিরোজা বেগম দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রনালয় থেকে টিআর-কাবিটা কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি পেয়ে মাথা গোজার ঠাঁই পেয়েছেন। এখন তিনি সেখানে নিশ্চিতে বসবাস করছেন।

শুধু ফিরোজা বেগমই নয়, তার মতো জেলার ১১টি উপজেলায় অসচ্ছল, হত দরিদ্র, গৃহহীন পরিবার, বিধবা, প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ, অসচ্ছলরা আধা পাকা বাড়ি পেয়েছেন দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রনালয় থেকে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে জেলার ২১১টি পরিবারকে টিআর-কাবিটা কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি দিয়েছে সরকার। এমন বাড়ি পেয়ে খুশি অসহায় পরিবারগুলো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অসহায়সহ এলাকাবাসী। তবে চাহিদার তুলনায় বাড়ি অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

জেলা ত্রান ও পূর্নবাসন কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ৪০০ বর্গফুটের উপর বাড়িগুলো পাঁচ ইঞ্চি ইটের গাঁথুনি দিয়ে তৈরী। ২ কক্ষ বিশিষ্ট আধাপাকা বাড়িগুলোর প্রতিটি কক্ষের দৈর্ঘ্য ১০ ফুট ও প্রস্থ ১০ ফুট। যাতে রয়েছে- প্রতিটি ঘরে দুইটি করে লোহার বা কাঠের দরজা-জানালা, অত্যাধুনিক রঙিন টিনের ছাউনি, বারান্দা, একটি রান্নাঘর, রান্না ঘরে যাওয়ার করিডোর ও স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিন। এসব বাড়ি বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাত প্রতিরোধে সক্ষম।

২১১টি পরিবারের প্রতিটি বাড়ি ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা হিসেবে মোট ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৪৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৪১ টাকা।

জানা গেছে, ৪০০ বর্গফুটের উপর একটি বাড়ি হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে প্রায় সাড়ে ৮শ বর্গফুট জমির প্রয়োজন হচ্ছে। বাড়ির বারান্দা থেকে রান্নাঘর ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন পর্যন্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৭ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ২৩ফুট। বাড়ির মোট আয়তন দাঁড়ায় ৮৫১ বর্গফুট (প্রায় দুই শতাংশ)।

নওগাঁয় দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি পেয়ে খুশি অসহায়রা

নওগাঁয় দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি পেয়ে খুশি অসহায়রা


অনেক দরিদ্র পরিবার আছে যাদের বাড়ির ধরন বা আকৃতি অনুযায়ী বাড়ি তৈরী করা কষ্টকর। এজন্য বাড়ি দুই বা তিন ধরনের হওয়া প্রয়োজন। এতে করে যার যা জমির ধরন, সেখানে বাড়ির ধরন পরিবর্তন করে তৈরী করা সম্ভব।

উল্লাশপুর গ্রামের দরিদ্র বিধবা গৃহবধু ফিরোজা বেগম বলেন, অনেক কষ্ট করে দুই মেয়েকে মানুষ করেছি। এখনও কষ্ট করেই যাচ্ছি। ভাঙা টিনের ঘরে বসবাস করতাম। এখন সরকার থেকে একটি ঘর দিয়েছে সেখানে বসবাস করছি। ইটের ঘর পাবো তা স্বপ্নেও ভাবিনি। এখন শান্তিমতো ঘরে ঘুমাতে পারছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দোয়া করি তিনি সুস্থ ভাবে আরো বেঁচে থাকেন। আর গবীর মানুষের দিকে মুখ তুলে দেখেন।

সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের মুক্তারপাড়া (আকন্দ পাড়া) সুবিধাভোগী বিধবা গৃহবধু রেখা বেগম বলেন, গত ৬ বছর আগে দুই বছরের ছেলে (নিরব) কে রেখে স্বামী ক্যানসার হয়ে মারা গেছে। নানার দেয়া সামান্য জমিতে বেড়ার বাড়ি ছিল। নিজের বলতেই ওই বেড়ার বাড়ি সম্পদ। মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন যাপন করি।

প্রতিবেশীদের সহায়তায় ছেলেকে পড়াশুনা করাচ্ছি। সরকার থেকে ৩ মাস হলো ইটের ঘর পেয়েছি। আমি খুবই খুশি ইটের ঘর পেয়ে।

বদলগাছীর নিহনপুর গ্রামের সুবিধা বেলাল হোসেনের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ। কোন কাজকর্ম করতে পারে না। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। মানুষের দয়া আর দানের উপর কোন মতে বেচে আছি। জামাইরা বেড়াতে আসলে দিনে থেকে রাতে চলে যায়। কারণ ভাঙা মাটির বাড়িতে ঘুমানোর পরিবেশ নাই। চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সহযোগিতায় ঘর পেয়ে অনেক খুশি। এখন মেয়ে জামাইরা বেড়াতে আসলে একটা রাত ঘুমাতে পারবে শান্তিতে।

নওগাঁ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো: মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটা বিশেষ উদ্যোগ, কোনও মানুষ যেন বাস্তুহারা না থাকে সেই লক্ষ্যে কাজ করছেন। নির্মানে অংশীদার হতে পেরে আমরাও খুশি। স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ও রান্নাঘর সুবিধাসহ এসব বাড়ি বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাত প্রতিরোধে সক্ষম সদর উপজেলায় ২০টি ঘর পেয়েছি। ঘরের চাহিদা অনেক, সে তুলনায় অপ্রতুল। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো: হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীনদের বাড়ি দেওয়া হচ্ছে যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিনব ও চমৎকার উদ্যোগ।  প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা আছে-‘ আমার গ্রাম, আমার শহর, সেটি বাস্তবায়ন হবে।’ বাড়িগুলো পেয়ে হতদরিদ্ররা এতো বেশি খুশি হয়েছে যে আমার সামনে তারা হাত তুলে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেছেন। আমরা সফল ভাবে ঘরগুলো তৈরী করতে পেরেছি। এতে করে গ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন হবে। প্রয়োজনীয় চাহিদা থাকায় ধারা অব্যাহত থাকবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]