ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জালিয়াতি করে পদোন্নতি নেওয়া সেই কর্মকর্তার ‘তড়িঘড়ি’ দফতর বদল
সোহাগ রাসিফ জবি
প্রকাশ: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 10

জালিয়াতি করে পদোন্নতি নেওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাবেক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়ার আস্থাভাজন সেকশন অফিসার আনোয়ার হোসেনকে তড়িঘড়ি করে বদলি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাকে ট্রেজারার দফতর থেকে ‘তড়িঘড়ি’ বদলি করে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কার্স দফতরে পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ৩ নভেম্বর বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে তার দফতর বদলের তথ্য জানা যায়।
অন্যদিকে নিয়োগ জালিয়াতি করে পদোন্নতি নেওয়া এই কর্মকর্তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দফতর পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কার্স দফতরে বদলি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কর্মচারীদের অভিযোগ, সাবেক ট্রেজারারের আস্থাভাজন হওয়ায় নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী আনোয়ার হোসেন সাবেক কোষাধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার আস্থাভাজন হওয়ায় অনিয়ম করে দফতরের কর্মকর্তা পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি লাভ করেন। বিশ^বিদ্যালয় আপগ্রেডেশন নীতিমালা-২০১৫ অনুযায়ী ব্যক্তিগত সহকারী পদ থেকে সেকশন অফিসার (গ্রেড-২) পদে পদোন্নতি পেতে স্নাতক-সমমান উত্তীর্ণ হলে ব্যক্তিগত সহকারী পদে ৬ বছর ও এই বিশ^বিদ্যালয়ে ৪ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা ও স্নাতকোত্তর-সমমান উত্তীর্ণ হলে ব্যক্তিগত সহকারী পদে ৪ বছর ও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর আইএসসি পাস সার্টিফিকেট দিয়ে ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসেবে যোগ দেন আনোয়ার হোসেন। এরপর ২০১৫ সালের ০৩ ডিসেম্বর শূন্যপদ সাপেক্ষে ব্যক্তিগত সহকারী পদে নতুন করে যোগদান করেন তিনি। এরপর ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল ব্যক্তিগত সহকারী পদ থেকে সেকশন অফিসার (গ্রেড-২) পদে ৪ থেকে ৬ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়াই পদোন্নতি নেন এই কর্মকর্তা। যা বিশ্ববিদ্যালয় আপগ্রেডেশন নীতিমালা-২০১৫-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অথচ দফতরে যোগ্যতাসম্পন্ন আরও কর্মচারী থাকলেও তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি।
অভিযোগ আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে থেকে আনোয়ার হোসেন বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা ভোগ করে আসছেন। বিশ্ববিদ্যালয় অন্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করেছেন। কার্যালয়ের বিভিন্ন টেন্ডারসহ নিয়োগ কার্যক্রম দেখাশোনা করেন তিনি। কোষাধ্যক্ষের সহযোগিতায় স্বজনপ্রীতি করে বিভিন্ন কর্মকর্তা পদে নিজ পরিবারের সদস্যদের চাকরি দিয়েছেন। এর মধ্যে আনোয়ার তার স্ত্রী সামছুন্নাহারকে রেজিস্ট্রার দফতর, দুই শ্যালিকা সোনিয়া আক্তার ও তাছলিমা খাতুনকে যথাক্রমে ট্রেজারার দফতর ও ইতিহাস বিভাগে নিয়োগ করিয়েছেন। এ ছাড়াও নিজেকে রেজিস্ট্রারের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে দফতরের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখান এই কর্মকর্তা। এ ছাড়াও এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যারেজের অর্ধেক জায়গা দখল করে বাসভবন বানানোর অভিযোগ আছে। জবির একমাত্র গ্যারেজ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জামে মসজিদ ও পোগোজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন। সরেজমিন দেখা যায়, গ্যারেজ দখল করে বাস করছেন সাবেক ট্রেজারারের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের পরিবার ও গাড়িচালক আবুল কালাম। তারা এ বিষয়ে সাবেক ট্রেজারারের মৌখিক অনুমতি নিয়েছেন বলে জানান। এই কর্মকর্তা বিশ^বিদ্যালয়ের গাড়ি অনুমোদন ছাড়াই ঢাকার বাইরে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে থাকেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি অভিযোগ উপাচার্যের দফতরে তদন্তাধীন আছে।


সার্বিক বিষয়ে রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে তিনি সংযোগ করেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, সিন্ডিকেট অনুমোদিত নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতিমালা ছাড়া কাউকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব না। নিয়মবহির্ভূতভাবে কাউকে নিয়োগ প্রদান করাও হয়নি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]