ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯

চবি প্রশাসনের অসঙ্গতিপূর্ণ সিদ্ধান্ত
ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মানোন্নয়ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ধোঁয়াশা
চবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 150

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) স্নাতক প্রথম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মানোন্নয়ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে অসঙ্গতিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এ, বি ও সি ইউনিটে উত্তীর্ণদের ফল প্রকাশ ও ভর্তির দাবিতে তাদের আন্দোলনের পর ৩১৬ শিক্ষার্থীর ভর্তি সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা নেওয়া হয়। অথচ শুক্রবার প্রকাশিত ডি ইউনিটের ফলাফল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে গত বছরের যোগ্য মানোন্নয়ন শিক্ষার্থীদের। এতে করে পূর্বের ৩১৬ জনসহ নতুন করে প্রকাশিত ইউনিটের মানোন্নয়ন শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ডি ইউনিটের ফলাফল প্রকাশের পর জানা যায়, এতে অংশ নেওয়া ৪৪ হাজার ৮৬৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে চবিতে আবেদনের যোগ্য হয়েও ২০১৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিয়ে চবিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে তাদের ফলাফল ‘অ্যাবসেন্ট অর ক্যানসেল্ড’ দেখাচ্ছে। জানা গেছে, ডি ইউনিটে মানোন্নয়ন দিয়ে প্রায় ৩ হাজার ভর্তিচ্ছু উত্তীর্ণ হয়েছে। এদের মধ্যে যারা গত বছর যোগ্য ছিল তাদের বাদ দিয়েছে বিশ^বিদ্যালয়। এ ব্যাপারে ডি ইউনিটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ফারুক বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ের নিজস্ব ভর্তি নির্দেশিকা অনুসারে গতবার যারা যোগ্য ছিল তাদের তালিকা তৈরি করেছি। ডি ইউনিটের ফলাফল থেকে এসব মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া হয়েছে।এর আগে ৬ নভেম্বর কোর কমিটির সভার পরে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বলা হয়, তোমরা বিষয় নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছ। তবে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পরবর্তীতে জানতে পারবে তোমরা ভর্তি হতে পারবে নাকি পারবে না। ভর্তিচ্ছুদের দাবি, প্রথম থেকে তাদের একই কথা বলে আসছিল প্রশাসন। আগে বলা হয়েছিল বিষয় পছন্দের পর যাচাই-বাছাইয়ে তারা বাতিল হয়ে যাবে। অযোগ্য মানোন্নয়ন শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া হবে কি না এ ব্যাপারে বিশ^বিদ্যালয় কোর কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. সেকান্দর চৌধুরী বলেন, কোর কমিটির সভার পরে নতুন করে আর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এর বাইরে কোনো কিছু থাকলে আকবর সাহেব বলতে পারবেন।
পূর্ববর্তী তিন ইউনিটের মানোন্নয়ন ভর্তিচ্ছুর ফলাফল প্রকাশ করা এবং তাদের কাগজপত্র জমা নেওয়ার পরে কেন ওই ইউনিট থেকে বাদ দেওয়া হলো এবং তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানতে যোগাযোগ করা হলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতার ও ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সচিব এসএম আকবর হোছাইন ফোন কল রিসিভ করেননি।


উল্লেখ্য, গত বছর ভর্তি পরীক্ষার জন্য যোগ্য শিক্ষার্থীরা মানোন্নয়ন দিয়ে আবারও ভর্তির জন্য অযোগ্য বলে ভর্তি নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়। অথচ এ রকম ১১ হাজার ৭৪১ জন মানোন্নয়ন শিক্ষার্থীর আবেদন গ্রহণ ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। অতঃপর বিভিন্ন ইউনিটের ফলাফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উত্তীর্ণ হয়। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ভর্তি হতে পারবে না জেনে ৩ নভেম্বর উত্তীর্ণ মানোন্নয়ন শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ইউনিট সমন্বয়ক ও ভর্তি কমিটির সচিবের মাধ্যমে চবি উপাচার্যের নিকট ভর্তির জন্য আবেদনপত্র প্রেরণ করে। এরপর থেকে বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও বঙ্গবন্ধু চত্বরের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিশ^বিদ্যালয় কোর কমিটির সভার মাধ্যমে নতুন সিদ্ধান্ত দেওয়ার আশ^াস দেওয়া হলে আন্দোলন স্থগিত রাখে তারা। পরবর্তীতে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় পুনরায় অবস্থান করতে গেলে বৃহস্পতিবার একটি মাইক্রোতে করে তুলে কয়েকজনকে চবির এক নাম্বার গেইটে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ দেয় শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা নগরীর জামাল খানস্থ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]