ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯

সমস্যায় জর্জরিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম
গাইবান্ধার স্কুলগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে ডিজিটাল পাঠদান
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 4

গাইবান্ধার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের আধুনিক পদ্ধতিতে পাঠদান নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছিল মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম। কিন্তু নিম্নমানের সরঞ্জাম, নিয়মিত ক্লাস না হওয়াসহ নানা সমস্যা-সংকটে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ফলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় শতকরা ২১ ভাগ বিদ্যালয়ে সঠিকভাবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে পাঠদান করা হচ্ছে এবং যা থেকে ওই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পাঠ গ্রহণে ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা পাচ্ছে।
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. এনায়েত হোসেন জানান, গাইবান্ধার সাতটি উপজেলায় ৪৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় সরকারি উদ্যোগে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়াও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিজস্ব উদ্যোগে ৪৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জাম ক্রয় করা হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিফোন শিল্প সংস্থার প্রস্তুতকৃত ল্যাপটপ দোয়েল, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, স্ক্রিন ও মডেমসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঁচজন শিক্ষককে মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতিতে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিশেষ শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের জন্য প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও বিশেষ প্রকল্পের আওতায় শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ৪৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ল্যাবের সরঞ্জামাদি ক্রয়ের জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকাও দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে জেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে নানা সমস্যা ও সংকট চোখে পড়ে।
ডিজিটাল এই শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ একান্ত জরুরি হলেও জানা যায়, জেলার মাত্র ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ২-৩ মাস পর পর ল্যাপটপের অপারেটিং সিস্টেম নষ্ট হয়ে যায়। মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরও অকেজো হয়ে পড়ে বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জানান। অন্যদিকে রংপুর বিভাগের জন্য মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও ল্যাপটপ সরকারিভাবে মেরামতের ব্যবস্থা রয়েছে শুধুমাত্র রংপুর টিচার ট্রেনিং কলেজের কম্পিউটার সেলে। রংপুর গিয়ে মেরামত করে নিয়ে যাওয়া সময়সাপেক্ষ।
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রুটিনে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে ক্লাস নির্ধারিত থাকলেও নিয়মিত ক্লাস হয় না। এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা অনীহার কারণে বিষয়ভিত্তিক নতুন নতুন ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি না করে দায়সারাভাবে একটি কনটেন্ট দিয়েই পাঠদান করেন। যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈার করতে পারছে না। এতে ব্যাহত হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতির শিক্ষা ব্যবস্থা। অনেক বিদ্যালয় বিশেষ করে মাদ্রাসাগুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমগুলোতে অযত্নের ছাপ পরিলক্ষিত হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]