ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯

জামালপুরে জনাকীর্ণ পরিবেশে চলছে বিআরটিএ’র কার্যক্রম
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 192

দীর্ঘদিন যাবৎ জামালপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিচতলায় জনাকীর্ণ পরিবেশে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে সেবা নিতে আসা বিভিন্ন মোটরযান মালিক ও চালকদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, একজন সহকারী পরিচালক, একজন মোটরযান পরিদর্শক, একজন উচ্চমান সহকারী, একজন মেকানিক্যাল সহকারী, একজন অফিস সহায়ক ও দুজন সিল কন্ট্রাক্টর নিয়ে চারটি ছোট্ট কক্ষ থেকে বিআরটিএ তাদের সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সময়ের আর্বতনে সেবা প্রার্থীদের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও বাড়েনি অফিসটির মান। এই অফিস থেকেই প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহনের লাইসেন্স নবায়ন, লাইসেন্স প্রদান, রেজিস্ট্রেশন প্রদান, ডিজিটাল নাম্বার প্লেট প্রদান, সরকারি গাড়ির ফিটনেস প্রদান, বিভিন্ন দফতরের সরকারি গাড়ি অকেজোকরণের সুপারিশ প্রদান, সরকারি যানবাহনের জ¦ালানি খরচ নির্ধারণ, রেকর্ড রুম সংরক্ষণ, সরকারি যানবাহন মেরামতের কারিগরি তথ্য প্রদান, যানবাহনের মালিকানা বদলির রেকর্ড অন্তর্ভুক্তিকরণ, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি বন্ধ ব্যতীত প্রতিদিন সকাল থেকেই শত শত যানবাহনের চালক ও মালিকরা এই অফিসে ভিড় জমায়। কিন্তু অফিসের কক্ষগুলো খুবই ছোট হওয়ায় অধিকাংশ সেবা প্রার্থীকেই কক্ষের বাইরে অপেক্ষা করতে হয়।
সরেজমিনে জানা গেছে, বিআরটিএ জামালপুর অফিসের প্রতিটি কক্ষের দৈর্ঘ্য ১৫ ফুট আর প্রস্থ মাত্র ৯ ফুট। কক্ষগুলোতে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র রাখার পর যতটুকু জায়গা অবশিষ্ট রয়েছে সেখানে ১৫-২০ জন মানুষ একসঙ্গে প্রবেশ করলে ভীষণ জটলার সৃষ্টি হয়। ফলে সেবা প্রার্থীদের চাপ সামাল দিতে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।
অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জামালপুর জেলায় ছোট-বড় ২৯ হাজার ৩১৭টি যানবাহন নিবন্ধিত রয়েছে। অল্প লোকবল আর জায়গার অভাবে এত যানবাহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা দুষ্কর।
জেলার মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা একটি বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান সুমন জানান, তিনি মোটরসাইকেল চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে এসেছেন। কিন্তু এত ভিড় যে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও লাইসেন্স করতে কী কী কাগজপত্র লাগবে তা জানতে পারছেন না।
জেলা মোটরযান পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দিন দিন সেবাপ্রার্থীদের চাপ অনেক বাড়ছে। জায়গার অভাবে আমরা সেবাপ্রার্থীদের একটু বসতেও দিতে পারি না।
সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) তন্ময় কুমার ধর বলেন, ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এ জেলায় যোগদানের সময় দুটি ছোট্ট কক্ষ থেকেই বিআরটিএ তার সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করত। পরে আমি জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কক্ষ বাড়ানোর উদ্যোগ নিই। বর্তমানে চারটি ছোট কক্ষ থেকে সরকারি ফি ও রাজস্ব জমাদানের জন্য ব্যাংকিং সেবাসহ বিআরটিএ গ্রাহকদের নিয়মিত সেবা প্রদান করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিআরটিএ’র নিজস্ব অফিস ভবন, মোটর চালানোর দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং যানবাহন পরিদর্শন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ৪.৪৫ একর জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন। এ জন্য একটি প্রস্তাবনা ২৩ জুন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে শিগগিরই নতুন ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে সক্ষম হব।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]