ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯ ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯

ঝালকাঠির চরাঞ্চলে শিশুর কাঁধে কাজের বোঝা
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 9

নাইলনের বস্তা, টিনের প্লেট আর ভাঙা ঝুড়ি মাথায় নিয়ে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ে নয়ন। হাড্ডিসার শরীর নিয়ে খেয়ে না খেয়ে ছোটে হাসপাতাল-ক্লিনিক, অফিস-আদালত, বাসা-বাড়ির পেছনে এবং নর্দমা ও ডোবায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরে সিরিঞ্জ, সুচ, স্যালাইনের প্লাস্টিক ব্যাগ, প্লাস্টিকসহ নানা বর্জ্য কুড়ায়। সন্ধ্যায় তা ভাঙারি বিক্রেতাদের হাতে জমা দিয়ে পায় ৫০ থেকে ৯০ টাকা। তাই দিয়ে দিন চলে তার।
শুধু নয়ন নয়, এভাবে ‘ভাঙারি’ কুড়ানোই বহু শিশুর পেশা। কেউ কেউ জীবন নির্বাহ করে ‘ভাঙারি’ ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে। এতে তাদের হাত, পা, আঙুলে ঘা হয়। কারো কারো হাত, পা, আঙুল পচে যায়। পোহাতে হয় যন্ত্রণা।
বিভিন্ন বাসা-বাড়ি বা অফিসের পেছনে প্লাস্টিক সামগ্রীসহ নানা পরিত্যক্ত সামগ্রী কুড়িয়ে নেয় টোকাই শিশুরা। বাড়িওয়ালা বা স্থানীয়রা অনেক সময় টোকাই শিশুদের চোর বলে প্রচণ্ড মারধরও করে থাকেন। ঝালকাঠির সিটি পার্ক নতুন চর ও কলাবাগান এলাকায় ঘুরে অবহেলিত টোকাই শিশু-কিশোরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বিভিন্ন তথ্য। সিটি পার্ক নতুন চর এলাকায় কথা হয় এগারো বছর বয়সি নয়নের সঙ্গে। ৫-৬ বছর বয়স থেকেই সে বর্জ্য কুড়ানোর পেশায় নিয়োজিত। বাবা-মা থেকেও নেই, অবহেলিত ও অভাবী সংসারের শিশু হিসেবে শুধু রাতটিই বাসায় কাটায়। অথচ পড়াশোনা করতে চেয়েছিল সে। কিন্তু ‘সুযোগ চাই, মানুষ হব’ সেøাগানও দিতে পারেনি। বরং তীব্র মানসিক যন্ত্রণা নিয়েই বাধ্য হয়ে লাগে ভয়াবহ ঝুঁকির এ কাজে।
একই কথা শিশু সুমনেরও। বলে, ‘এসব করতে একদম ভালো লাগে না। ময়লা-আবর্জনার ঘায়ে (আঘাতে) হাত-পা পইচ্চা (পচে যায়, পুঁজ বের হয়) থাকে। শুকায় না। ওই অবস্থায় কেউই আমাদের সঙ্গে মানুষের মতো ব্যবহার করে না। কারো কাছেই কোনো আদর-স্নেহ পাই না। কিন্তু শুধু বেঁচে থাকার জন্যই তা করতে হচ্ছে।
কলাবাগান এলাকায় গিয়ে কথা হয় কিশোর রুবেলের সঙ্গে। রুবেলে সংগৃহীত (কুড়িয়ে আনা) প্লাস্টিকের বোতলের ভেতর জমে থাকা ময়লা পানি পরিষ্কার করছে। রুবেল জানায়, আরও ১২-১৩ শিশু বিভিন্ন বাসা-বাড়ির পেছন, ডোবা, নর্দমা ও ড্রেন থেকে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক ও কাচের বোতল সংগ্রহ করে।
এসব শহর ও শহরতলী এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভাঙারি ব্যবসায়ী জানান, অবহেলিত শিশুরা পরিত্যক্ত বর্জ্য কুড়িয়ে এনে আমাদের কাছে সুবিধামত দামে বিক্রি করে। আমরা যদি ওদের নিয়ে আসা মাল না কিনি (ক্রয় করি) তাহলে ওরাতো আরও অবহেলার স্বীকার হবে। এমনিতেই হাড্ডিসার তারপরে বেঁচে থাকতেও কষ্ট হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]