ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯

গভর্নরের সঙ্গে এবিবি প্রতিনিধিদের বৈঠক
খাতা-কলমে খেলাপি ঋণ কমানোর দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 12

খেলাপি ঋণে জর্জরিত ব্যাংকিং খাত। বিভিন্ন ছাড়-সুবিধা দিয়েও টাকা আদায় করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় আদায় না করেই খাতা-কলমে খেলাপি ঋণ কমানোর বায়না ধরেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। সেই সঙ্গে অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা শিথিল করারও দাবি জানিয়েছে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে উল্লিখিত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে বৈঠকে এ ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও শর্তসাপেক্ষে কিছুটা ছাড় দেওয়ার আভাস দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি বিকাল ৪টায় শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কথা বলেননি।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অনাদায়ী ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। এতে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ বেড়ে গেছে। এমনি পরিস্থিতিতে নীতিমালাগুলো সংস্কার করা না গেলে কিছু ব্যাংক অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়বে। ব্যাংকারদের এমন দাবির বিপরীতে নীতিমালা শিথিলের বিবেচনা করার কথা বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ব্যাংক কোম্পানি আইনের মধ্যে থেকে যেটুকু করা যায় তার বাইরে যাওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে সম্ভব হবে না বলে এমডিদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে আরও জানা যায়, ঋণ পুনঃতফসিল, খেলাপি ঋণ অবলোপন, ইন্টারনাল ক্রেডিট রেটিংসহ (আইসিআরআর) বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। বর্তমানে ব্যাংকের ব্যালান্স শিট থেকে খেলাপি ঋণ বাদ দিতে অবলোপন নীতিমালা অনুসারে কমপক্ষে তিন বছর আদায়ের চেষ্টা করতে হয়। অর্থাৎ যেকোনো খেলাপি ঋণ অন্তত তিন বছর হিসাবে দেখাতে বাধ্য।
জানা গেছে, ব্যাংক ও শিল্পোদ্যোক্তাদের বিদেশি ঋণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা হালনাগাদ ছিল না। এতে দেদার অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের নামে বিদেশি ঋণ আনেন অনেকেই। আবার কিছু ব্যাংক ও গ্রাহকের বিরুদ্ধে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে টাকা পাচারেরও অভিযোগ ওঠে। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গত ২৫ ফেরুয়ারি প্রথমবারের মতো অফশোর ব্যাংকিং পরিচালনার নীতিমালা জারি করে। স্থানীয় সব ধরনের আমানতের বিপরীতে সিআরআর ও এসএলআর সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক রয়েছে। আর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে ব্যাংক বিদেশি মুদ্রা আমানত আকারে এনে তা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঋণ বিতরণ করে। এ জন্যই অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের তহবিলে বাধ্যতামূলক সিআরআর ও এসএলআর সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়; কিন্তু ব্যাংকের এমডিরা এ বিষয়ে আপত্তি তোলেন বৃহস্পতিবারের বৈঠকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করার আশ^াস দেওয়া হয়নি, তবে আইনের মধ্যে থেকে কিছু করার থাকলে করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান ও আহমেদ জামাল, ব্যাংকিং সংস্কার বিষয়ক উপদেষ্টা এসকে সুর চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক এসএম রবিউল হাসান, আবু ফরাহ মো. নাসের, এবিবি চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার, এনআরবি ব্যাংকের এমডি মেহমুদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]