ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯ ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯

সময়ের  জানালা
প্রকাশ: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 20

পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হবে কত বিষয়!
শিশুদের শেখানোর জন্য বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কথা বলার সুবিধার জন্য বিষয়গুলো পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয়। যেমন দুর্নীতিবিরোধী বিষয়, বিভিন্ন আইনের বিষয়, সামাজিক নানা দিক ইত্যাদি! কিন্তু এভাবে পাঠ্যবইয়ে সব অন্তর্ভুক্ত করতে থাকলে এক সময় বই আরও মোটা হতে থাকবে। বইয়ের বোঝা কমানোর পরিবর্তে তা আরও বাড়তে থাকবে। শিশুরা বইকে তখন আরও বেশি বিরক্তির কারণ বলে মনে করবে।
অনেক শিক্ষার্থী যখন নৈতিক বিষয়গুলো পড়ে তখন সেগুলো শুধু পড়া শেখার জন্যই পড়ে। কোনটি মুখস্থ করার জন্য পড়া এবং কোনটি জীবনের জন্য, সঠিকপথে চলার জন্য এবং জীবনকে সুন্দরভাবে অন্যের কাছে উপস্থাপনের জন্য পড়া সে সেটা আলাদা করতে পারে না।
সব স্কুলেই নৈতিক শিক্ষার বিষয়ে আলোচনা করা হয়ে। যখন বড় বড় অনুষ্ঠানে কোনো খারাপ কাজবিরোধী শপথবাক্য পাঠ করানো হয় সে বিষয়ে শিক্ষার্থীরা শপথ করে কিন্তু তারপর দেখা যায় বড় হয়ে তাদের অনেকেই সে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে! এর পেছনে রয়েছে, তা হলো সে যে শিক্ষাটা নিয়েছে তা শুধুই মুখস্থ করেছে। আর আরেকটি হলো সামাজিক অপরাধের দায় তার ওপর এসে পড়েছে। অথচ শিশু যদি শিক্ষাটাকে সঠিকভাবে নিতে পারত তবে ভবিষ্যতের অপরাধ থেকে সে নিজেই বিরত থাকত।
এ কারণেই এখন নতুন করে ভাববার সময় এসেছে। পাঠ্যবইয়ে কোন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হলে সেটা বইয়ের পড়ার মতো করে মুখস্থ পড়া হিসেবেই থাকে অথবা তা বইয়ের পাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। যার ফলে অনেক কিছুই শিশুদের মননে থাকে না! তারা মন থেকে ভাবেও না এটা জীবনের জন্য প্রয়োজন, প্রয়োজন সঠিক পথের জন্য। এ ক্ষেত্রে এখন শিক্ষকদের জন্যই একটি বই প্রকাশ করা প্রয়োজন। পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষকরা কোন কোন বিষয় শিক্ষার্থীদের মননে তারা ঢুকিয়ে দেবেন, বইটিতে সে বিষয়গুলোই থাকবে।
শিক্ষকদের জন্য তৈরি এসব বইয়ের বছর বছর নতুন নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হতে থাকবে। এ নতুন বিষয়গুলো হবে শিক্ষার ব্যাপ্তি, সামাজিক নিয়মের পরিবর্তন, আমাদের সংস্কৃতির ধারাবাহিক প্রবহমানতার ওপর এবং পারিবারিক আচারের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে। সেখানে ধর্মের বিষয় থাকবে, আইন থাকবে, শিষ্টাচার থাকবে, থাকবে সামাজিক নিয়ম ও সুন্দর সুন্দর নৈতিক বিষয়গুলো। সপ্তাহে এক দিন নৈতিক শিক্ষার জন্য বাধ্যতামূলক ক্লাস ধার্য করে দিতে হবে। ওই দিন শিশুদের মাঝে শিক্ষকরা এই বইয়ের ওপর আলোচনা করবেন, এ বিষয়গুলো নিয়ে প্রাকটিক্যাল ধারণা দেবেন এবং তাহলেই একসময় সন্তানদের কাছ থেকে আমরা নৈতিক বিষয়গুলো সম্পর্কে সুন্দর প্রকাশ দেখতে পাব। কারণ তারা তখন বিষয়গুলোকে জীবনে চলার পাথেয় হিসেবে নিতে শিখবে। এ শিক্ষায় কোনো চাপ নেই, এ শিক্ষা শুধুই আমার আচরণগত বিষয়ের ওপরÑ এভাবে কোনো শিশুকে ভাবাতে পারলেই কেবল সুন্দর হয়ে উঠবে আমাদের সমাজ ও চারপাশ আর শিশুরাও শিখতে পারত আনন্দ নিয়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টির ওপর দৃষ্টিপাতের ব্যপারে বিনীত আবেদন রইল।
সাঈদ চৌধুরী

যানবাহনের মাথায় বাগান হোক
নগরীতে যারা বসবাস করেন তাদের মধ্যে অধিকাংশরা বোধহয় ভালোবাসেন ইট-পাথর। ঢাকা নগরীতে নয়, পাশর্^বর্তী দেশের এক শহরে গিয়ে দেখলামÑ বাড়িতে জায়গার অভাব থাকায় অটোর মাথাতেই শখের বাগান তৈরি করেছেন অটোচালক বিজয় পাল। সেখানে লেবু, তুলসীর পাশাপাশি লাগিয়েছেন টগর, গোলাপ গাছ। গাড়ির ধোঁয়া থেকে ছড়ানো দূষণ যাতে কমানো যায় তার জন্য অটোতেই গাছ সাজিয়ে ফেলেছেন তিনি। তিনি চান তার অটো দেখে অনুপ্রাণিত হোক অন্য চালকরাও। এতে শহরের পরিবেশ দূষণ কমানো যাবে অনেকটাই।
আমরাও চাই আমাদের বাংলাদেশের বড় বড় নগরীতে এভাবে অটো এবং অন্যান্য যানবাহনের মাথাতেই লাগানো হোক গাছ। এর ফলে চারিদিকে অনেক সবুজ হবে। গাড়ির ধোঁয়া থেকে ছড়ানো দূষণ রোধ করা যাবে। সবুজকে ছড়িয়ে দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিক।
লিয়াকত হোসেন খোকন
শিশুশ্রম বন্ধে সমাজের ভূমিকা প্রসঙ্গে
শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আজকের শিশু আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠা প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার। যে শিশু আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে সেই শিশুরা আজ বঞ্চনার শিকার। কেউবা পারিবারিকভাবে অসচ্ছলতার কারণে, কেউবা সচেতনতার অভাবে। অল্প বয়সেই কঠিন শ্রমের মধ্যে নিমজ্জিত হতে দেখা অনেক শিশুকে। বাসের হেলপারিতে, হোটেলের কঠিন কাজে, ইট ভাঙার কাজে, রিকশা কিংবা অটো চালাতে প্রতিনিয়তই শিশুকে দেখা যায়। অথচ এসব কাজ শিশুদের নয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে শিশুশ্রম আইনত নিষেধ থাকলেও সামাজিকভাবে আমরা শিশুশ্রমকে বৈধতা দিচ্ছি। কারণ আমরাইতো একজন শিশুর রিকশায় উঠে পথ চলছি, হোটেলের কাজে লাগিয়ে দিচ্ছি, বাসের হেলপারিতে পিচ্চি বলে ডাক দিচ্ছি, গৃহস্থালিতে শিশুকে কাজের লোক বানিয়ে রেখেছি। অথচ শিশুরা কখনই নিজ ইচ্ছায় কাজের মানুষ হতে চায় না।
তারা বাধ্য হয়েই কাজে নেমে পড়ে। যে সময় শিশুদের থাকার কথা স্কুলে, সে সময় তাদের দেখা যায় বিভিন্ন আয়ের কাজে। পরিবারকে ছোট না রাখা শিশুশ্রমের অন্যতম কারণ। চাকরি এখন সোনার হরিণ তাই লেখাপড়া করে কী হবে, আমরা গরিব লেখাপড়ার টাকা আমাদের নেই, এমন চিন্তা-চেতনাতেও শিশুশ্রম বাড়ছে। এসব অসচেতন ধ্যান-ধারণা থেকে দেশের মানুষকে বের করতে না পারলে শিশুশ্রম কমানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। একমাত্র সমাজই পারে শিশুশ্রম বন্ধ করতে। শিশুশ্রমের ব্যাপারে সমাজকে সচেতন করতে হবে। সমাজের মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে। সামাজিকভাবে শিশুশ্রম বন্ধের প্রয়াস নিলেই শিশুশ্রম বন্ধ হতে বেশি দিন সময় লাগবে না। আইন করে কখনই শিশুশ্রম বন্ধ করা যাবে না। কারণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ হয় না বলেই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাগুলো দিন দিন বেশি ঘটছে। যে দেশে শিশুশ্রম হয় সে দেশ কীভাবে বিশে^র রোল মডেল হবে? শিশুশ্রম একটি জাতীয় সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে দেশের সরকার, সেচ্ছাসেবী সংগঠন, এনজিও ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। শিশুশ্রমকে না বলতে হবে। আশপাশের সব শিশুকে শ্রমে নয়, লেখাপড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তবেই আমরা শিশুশ্রমমুক্ত একটি দেশ পাব।
আজিনুর রহমান লিমন




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]