ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯ ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯

সড়কে প্রাণহানি চলছেই
আইন কার্যকরের সঙ্গে চাই সচেতনতা
প্রকাশ: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 25

সড়ক দুর্ঘটনা থেকে মুক্তি নেই? এই প্রশ্ন ঘুরেফিরে প্রতিদিনই আসছে সামনে। উত্তর মিলছে না। কারণ প্রতিদিনই সারা দেশের কোথাও না কোথাও ঘটে চলেছে দুর্ঘটনা। প্রতিদিনই সড়কে ঝরছে প্রাণ। অকালে মানুষ চলে যাচ্ছে। স্বজন হারানোর বেদনায় ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। শোকার্ত মানুষের মুখের ছবি আসছে গণমাধ্যমে। নিহত মানুষের সঙ্গে বাড়ছে আহত মানুষের সংখ্যাও। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করা মানুষ হয়ে উঠছে পরিবারের বোঝা। সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নিহত, আহত ও পঙ্গু হওয়া মর্মান্তিক ঘটনা। এ রকমই একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায়। একটি মিনিবাসের সঙ্গে সংঘর্ষে এক অটোরিকশার চালকসহ প্রাণ হারিয়েছে সাতজন। বিভিন্ন বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, ৮ নভেম্বর দুপুরে পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে যাত্রীবাহী একটি বাস তেঁতুলিয়া যাচ্ছিল। মাগুরমারি চৌরাস্তা এলাকায় যাত্রীবোঝাই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি মোড় নেওয়ার সময় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে অটোরিকশার যাত্রীদের মাঝে চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গুরুতর আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
সড়ক দুর্ঘটনার ফলে বছরে গড়ে বাংলাদেশের জিডিপির শতকরা দেড় ভাগ নষ্ট হয়, যার পরিমাণ পাঁচ হাজার কোটি টাকাÑ এই তথ্য একটি পরিসংখ্যানের। অন্য একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ১৫ বছরে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (এআরআই) তথ্যানুযায়ী দেশের সড়কগুলোতে যত দুর্ঘটনা ঘটে, তার ৫৩ শতাংশের পেছনে রয়েছে যানবাহনের বেপরোয়া গতি। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনার পেছনের অন্য কারণগুলোর মাঝে রয়েছে অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়কের বেহাল অবস্থা ইত্যাদি। তবে আজকে মহামারীর আকার ধারণ করা সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে বেশি দায়ী করছেন চালকের অসতর্কতা ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো। সমস্যা চিহ্নিত হলেও সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ বের হয়নি। আমরাও মুক্তি পাইনি সড়ক দুর্ঘটনা থেকে। গত দেড় দশকের বেশি সময়ে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মামলা হয়েছে অর্ধলাখেরও বেশি। সব মিলিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা আজ আমাদের জাতীয় সমস্যা হয়েই দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন করেছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আইনটি চলতি মাসের প্রথম দিন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে জনসচেতনতার প্রয়োজনে আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে সময় নিয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে শাস্তির কঠোর বিধান রেখে প্রণীত আইনটি প্রয়োগের আগে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংবাদমাধ্যমকে সেতুমন্ত্রী বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে আইনটির জন্য প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হবে।
সড়ক দুর্ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০১১-২০ সাল পর্যন্ত সময়কে ‘সড়ক নিরাপত্তা দশক’ হিসেবে ঘোষণা করে জাতিসংঘ। সদস্য দেশগুলো এই সময়ের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ও প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার বিষয়ে একমত হয়। সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার এই উদ্যোগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-তে। সরকারের আন্তরিকতায় দেশের সব ক্ষেত্রে লাগছে উন্নয়নের ছোঁয়া। আমরা ইতোমধ্যে মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছি। উন্নয়নের এই ধারাকে এগিয়ে নিতে আমাদের সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নিতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার উদ্যোগী হয়ে আইন প্রণয়ন করেছে। আমরা প্রত্যাশা করি, যথাযথভাবে এই আইনের প্রয়োগ হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। অকালে মানুষকে প্রাণ হারাতে হবে না সড়কে, পঙ্গুত্ববরণ করতে হবে না নতুন করে কাউকে। আইনের প্রয়োগ এবং মানুষের সচেতনতার মাধ্যমেই কমে আসবে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]