ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯

হতাশা ভুলে নাগপুরে চোখ টাইগারদের
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 21

শক্তিধর ভারতের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ার প্রথম সুযোগটা হাতছাড়া হয়েছে। দ্বিতীয় এবং এই সিরিজের শেষ সুযোগটা কি কাজে লাগাতে পারবে টিম বাংলাদেশ? এমন প্রশ্ন সামনে রেখেই শুক্রবার রাজকোট থেকে নাগপুরে পাড়ি জমিয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। দিল্লিতে দুর্দান্ত শুরুর পরও বৃহস্পতিবার রাজকোটে রোহিত শর্মা-যুজবেন্দ্র চাহালদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে টাইগাররা, ৮ উইকেটের বড় হারে হতাশ তারা। সেই হতাশা ভুলে নাগপুরে রোববার সিরিজের শেষ ম্যাচে নিজেদের সাফল্যের রঙে রাঙাতে চায় অতিথিরা।
রাজকোটের ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে দারুণ শুরুর পরও ছন্দটা ধরে রাখতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। বাংলাদেশ পায় ১৫৩ রানের পুঁজি। সেই পুঁজি নিয়ে ন্যূনতম লড়াইটাও গড়তে পারেনি বোলাররা। পরে পরে মার খেয়েছে। স্বাগতিক অধিনায়ক রোহিত ব্যাট হাতে যে ঝড় তুলেছিলেন, টাইগার বোলারদের ঠেকেছে অসহায়। বোলিং বিভাগটাকে বেশ দুর্বলই দেখিয়েছে। দলের অভিজ্ঞ পেসার শফিউল ইসলাম অবশ্য দাবি করলেন, রাজকোটের ব্যাটিংস্বর্গে যতটা দুর্বল দেখিয়েছে তাদের, ততটা দুর্বল তারা নন। তিনি জানালেন, বাজেভাবে হেরে যাওয়ার পরও দল ঘুরে দাঁড়াতে বেশ আত্মবিশ^াসী।
ছোট ছোট ভুলগুলো টিম বাংলাদেশ এড়াতে পারলে পাল্টে যাবে পরিস্থিতি, এমনটাই বিশ^াস শফিউলের। এই পেসার মনে করছেন, নাগপুরে নিজেদের ঠিকঠাক মেলে ধরতে পারলে ইতিহাস গড়ে ভারতের মাটিতে সিরিজ জিতবে টাইগাররা। শুক্রবার সকালে রাজকোট থেকে নাগপুরের পথে পা বাড়ানোর আগে শফিউল বলেছেন, ‘অবশ্যই আমাদের এখনও সুযোগ আছে, যদি আমরা ভালো ক্রিকেট খেলি। প্রথম ম্যাচটা যেরকমভাবে খেলেছি, সেরকম যদি খেলতে পারি আর এই ম্যাচে কিছু ছোট ছোট ভুল ছিলÑ যদি আমরা সামনের ম্যাচে এই ভুলগুলো না করি, অবশ্যই আমাদের সিরিজ জেতা সম্ভব। আশা করি, আমরা দৃঢ়ভাবে ঘুরে দাঁড়াব।’
শফিউল আত্মবিশ^াসী পরের ম্যাচে দেখা যাবে অন্য এক বাংলাদেশকে। ডানহাতি এই পেসার বলেছেন, ‘আমরা ব্যাটিংয়ে-বোলিংয়ে ছোট ছোট কিছু ভুল করেছি। সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করব। ওই ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো যদি আমরা জয় করতে পারি, তাহলে ভালো কিছু করতে পারব।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘বড় সুযোগ ছিল। এক ম্যাচ আগে যদি সিরিজ জিততে পারতাম, তাহলে অবশ্যই ভালো লাগত। হারলে তো মন খারাপ লাগবেই। তবে হারার পর কীভাবে ফেরা যায় সেটাই মূল কথা। সামনের ম্যাচের জন্য এখন আমরা তৈরি হচ্ছি। এই ম্যাচ ভুলে গিয়ে, এই ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে, সামনের ম্যাচে মনোযোগ দিচ্ছি।’
তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ সমতা। নাগপুরের ওই ম্যাচটি তাই বনে গেছে অলিখিত ফাইনাল। নিকট অতীতে ভারতের কাছে একাধিকবার ফাইনালে হারের দুঃস্মৃতি আছে বাংলাদেশের। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে নারাজ। তিনি বলেছেন, ‘ফাইনালের কথা যদি বলি, এটি একটি নতুন দিন থাকবে। নতুন একটি ম্যাচ হবে। আমার মনে হয়, বিগত দিনগুলোতে যা হয়েছে সেসব নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই। আমরা কী এবার ভিন্ন কিছু করতে পারি, সেটাই গ্রুপ হিসেবে চিন্তা করা উচিত।’
রাজকোটে যেমন ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে খেলা হয়েছে, নাগপুরে অলিখিত ফাইনালও হতে পারে একই রকম উইকেটে। এ ক্ষেত্রে টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের বাড়তি দায়িত্ব নেওয়ার তাগিদ দিয়ে রাখলেন মাহমুদউল্লাহ, ‘এই ধরনের উইকেটে একজন থিতু ব্যাটসম্যানের ১৫-১৬ ওভার (ক্রিজে) থাকা গুরুত্বপূর্ণ, যে কিনা দলকে টানতে পারবে। সঙ্গে যারা থাকবে, তারা ছোট ছোট জুটিতে ২০-৩০ রান করতে পারলে সেটা অনেক সাহায্য করবে।’ লিটন দাস, নাঈম শেখ, সৌম্য সরকাররা আগামীকাল অধিনায়কের এই কথার যথার্থতা প্রমাণ করতে পারেন কিনা, সেটাই দেখার অপেক্ষা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]