ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯

সম্মেলন আজ
শ্রমিক লীগেও আসছে নতুন মুখ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৮.১১.২০১৯ ১১:৫১ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 153

শ্রমিক লীগেও আসছে নতুন মুখ

শ্রমিক লীগেও আসছে নতুন মুখ

আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। বেলা ১১টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সর্বশেষ ২০১২ সালে শ্রমিক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে সৈয়দ শুক্কুর মাহমুদ সভাপতি ও সিরাজুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘ সাত বছরে কোনো সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।

অন্যদিকে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এবার সম্মেলনে সম্পূর্ণ নতুন নেতৃত্ব গঠন হবে। এতে বাদ পড়ছেন বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আগামী নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি যেন নেতৃত্বে না আসতে পারে, সেজন্য সতর্কতার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জাতীয় শ্রমিক লীগ। আজ বেলা ১১টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মিত স্থায়ী মঞ্চে। যেখানে দুদিন আগেই অনুষ্ঠিত হয়েছে কৃষক লীগের সম্মেলন। শ্রমিক লীগের সমাবেশ উপলক্ষে মূল মঞ্চসহ আশপাশে ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানোর কাজ চলছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, জাতীয় সম্মেলনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। ৮ হাজার কাউন্সিলর ও ৮ হাজার ডেলিগেট এই সম্মেলনে অংশ নেবেন।

সংগঠনটির নেতারা জানান, ৩৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অধীনে সারা দেশে রয়েছে ১০০টি ইউনিট। এর মধ্যে রয়েছে অঞ্চল ও জেলাভিত্তিক ইউনিট। সংগঠনটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মহানগর, জেলা, শিল্পাঞ্চল-আঞ্চলিক শাখা, বৈদেশিক শাখা, মহিলা কমিটি ও যুব কমিটির ক্ষেত্রে ৭১ সদস্যের কমিটির কথা বলা রয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা-থানা-পৌরসভা, ওয়ার্ড-ইউনিয়ন ও প্রাথমিক শাখার জন্য ৪৫ সদস্যের কমিটি করার কথা বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংগঠনটির এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জানান, আমাদের অন্তর্ভুক্ত ১০০টি ইউনিট আছে। এর বাইরেও অনেকে নিজেদের জাতীয় শ্রমিক লীগের অন্তর্ভুক্ত ইউনিট বলে দাবি করেন। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে থাকলে অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। সেজন্য এখন কতগুলো ইউনিট আছে, সেটা বলা মুশকিল।

জাতীয় শ্রমিক লীগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৭ জুলাই সংগঠনটির সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতা শুক্কুর মাহমুদ সভাপতি, ফজলুল হক মন্টু কার্যকরী সভাপতি এবং সোনালী ব্যাংক ট্রেড ইউনিয়নের নেতা সিরাজুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। এরপর আর সম্মেলন হয়নি। এর আগে ২০০৩ সালের ৩ জুলাই সংগঠনটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সূত্র আরও জানায়, বিগত সাত বছরে ৬৪টি জেলা ইউনিটের মধ্যে কাগজে-কলমে ৩৫টি জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনেক জেলায় সম্মেলন না করেই কমিটি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সংগঠনটির ২৫টি জেলা ইউনিটের সম্মেলন বাকি বলে জানা গেছে।

সংগঠনটির নেতারা জানান, ৩৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির ১৫ জন নেতা শীর্ষ দুই পদ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। তাদের মধ্যে সাতজন সভাপতি ও আটজন সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে আগ্রহী। সভাপতি পদের আলোচিত প্রার্থী ইসরাফিল আলম এমপি, শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, সহসভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, সহসভাপতি আমিনুল হক ফারুক ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম। 

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম জানান, আমি ১৯৮৩ সাল থেকে ঢাকায় রাজনীতি করি। শ্রমিক লীগের বিভিন্ন ইউনিটে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছি। সংসদ সদস্য হওয়ার পর শ্রমিকদের স্বার্থে আইন প্রণয়নের কাজ করছি। এই দায়িত্ব নেত্রী দিয়েছেন। আমাদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও শ্রমিক লীগে যদি কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয় সংগঠনের রাজনীতির স্বার্থে আমি সে দায়িত্ব পালন করব।

সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে আগ্রহীদের আটজনের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মোল্লা, সফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আলম মিলকী, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সুলতান আহমেদ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন মিয়া, শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ, প্রচার সম্পাদক আজম ও শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক আবদুল হালিম।

জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির জানান, আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাদের সাংগঠনিক নেত্রী যাকে নির্বাচিত করবেন আমরা তার সঙ্গে কাজ করব।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]