ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯

চট্টগ্রাম ডিসি অফিসের এলএ শাখা ঘুষের হাট
কমিশন আদায়ের হোতা নজরুল
জসীম চৌধুরী সবুজ চট্টগ্রাম
প্রকাশ: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৮.১১.২০১৯ ১১:৪৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 43

চট্টগ্রাম ডিসি অফিস

চট্টগ্রাম ডিসি অফিস

নজরুল ইসলাম ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে ভূমি হুকুম দখল (এলএ) শাখার চেইনম্যান। এই এলএ শাখা হচ্ছে জমজমাট ঘুষের হাট। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানের ক্ষেত্রে আদায় হয় এই ঘুষ। গত কয়েক বছর ধরে এই কারবার হয়ে ওঠে রমরমা। কমিশন নামে এই ঘুষ আদায়ের জন্য গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান হোতা এই নজরুল। ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রয়ারি ভূমিমন্ত্রী (তখন প্রতিমন্ত্রী) সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ আকস্মিক এলএ অফিসে হানা দিয়েছিলেন বিভিন্নজনের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে। তিনি সেদিন ব্যাপক অনিয়ম এবং অব্যস্থাপনা দেখতে পান। তাৎক্ষণিক বদলির নির্দেশ দেন নজরুল ও আরও কয়েকজনকে। নজরুলকে পরদিনই বদলি করে পাঠানো হয় ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদে। তারপরও ভাঙেনি ঘুষের সিন্ডিকেট। নজরুলের হাত দিয়েই আদায় হতে থাকে কমিশন নামে কোটি কোটি টাকার ঘুষ। যা ভাগাভাগি হয় ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত।

চেইনম্যান নজরুলকে বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর ষোলশহর শপিং কমপ্লেক্সের দোতলায় আনুকা ফ্যাশন নামে একটি কাপড়ের দোকান থেকে গ্রেফতার করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) টিম। তার কাছ থেকে নগদ ৭ লাখ টাকা ও সাড়ে ৯১ লাখ টাকার বেশ কিছু চেক উদ্বার করা হয়। চেকগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ১২ শতাংশ হারে কমিশন বাবদ। নজরুল ফটিকছড়িতে দিনে যেতেন তার ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারে। বিকালের মধ্যেই চলে আসতেন নগরীতে। আনুকা ফ্যাশন তার নিজের দোকান। সেটিকে বানিয়েছেন মিনি এলএ অফিস। সন্ধ্যার পর এলএ অফিসের কর্তা ব্যক্তিরা এখানে আসতেন লেনদেনের হিসাব চূড়ান্ত করতে। তসলিম উদ্দীন নামে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের এক অফিস সহকারীকেও সেখান থেকে আটক করা হয় নগদ ৫৭ হাজার টাকাসহ। দুদক ধারণা করছে সেও এলএ অফিসে কমিশন সিন্ডিকেটের সদস্য।

আনুকা ফ্যাশন ছাড়াও একই মার্কেটে নজরুলের আরও দুটি দোকান রয়েছে। নগরীর ওআর নিজাম আবাসিক এলাকায় রয়েছে দেড় কেটি টাকার ফ্ল্যাট। জুমাইরা পয়েন্ট নামে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের চারতলায় বিলাসবহুল ৪০৪ নম্বর এই ফ্ল্যাটটিতে দুদক টিম অভিযান চালিয়ে গ্যারেজে তার লেটেস্ট মডেলের প্রাইভেট কারসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জব্দ করেছে। দুদক কর্মকর্তারা একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর এত বিত্ত-বৈভব দেখে অবাক। তার আরও সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ বাদী হয়ে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

দুদক জানায়, চট্টগ্রাম এলএ অফিসে কমিশনের নামে ঘুষ বাণিজ্যে কর্মকর্তাদের অনেকেই জড়িত থাকলেও তারা লেনদেনের দায়িত্ব দিয়েছে নজরুল সিন্ডিকেটের হাতে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্যপ্রমাণসহ এদের চিহ্নিত করার পর তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম আদালত ভবন পাহাড়ে এলএ অফিসে নেওয়ার সময় বস্তাভর্তি ৫২ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছিল। সেই টাকা কে দিল, কার কাছে যাচ্ছিল সেই রহস্য এখনও অনুদঘাটিত রয়ে গেছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]