ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯

গার্মেন্টস শিল্পে অশনিসঙ্কেত
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৮.১১.২০১৯ ১১:৪৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 101

গার্মেন্টস শিল্পে অশনিসঙ্কেত

গার্মেন্টস শিল্পে অশনিসঙ্কেত

দেশের ৪০ থেকে ৪২ বিলিয়ন ডলারের রফতানি বাণিজ্যের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প। এর মধ্যে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা আসে এ শিল্প থেকে। 

কিন্তু নানা কারণে তৈরি পোশাক রফতানিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। ধারাবাহিকভাবে আয় কমছে গার্মেন্টস শিল্প থেকে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের মোট রফতানি আয়েও। বিদায়ি অক্টোবর মাসেও মোট রফতানিতে প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। অর্থনীতিবিদ ও শিল্প মালিকরা বলছেন ধারাবাহিকভাবে রফতানি আয় কমা তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য অশনিসংকেত। যেসব কারণে আয় কমছে সেগুলো দ্রুত সমাধানেরও পরামর্শ তাদের। 

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর বিগত তিন মাসের রফতানি আয়ের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেছে, গত আগস্ট মাসে মোট রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭৬৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এ সময় আয় হয়েছে ৬৭৩ কোটি ২১ লাখ ডলার। এটি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের এ সময় আয় হয়েছিল ৬৭৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

একই সঙ্গে ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে ০.৩৩ শতাংশ। এ সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৪৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, আয় হয়েছে ৫৭১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। এই আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ কম।

এ সময় নিট পোশাক রফতানিতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩১৮ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। আর আয় হয়েছে ২৯২ কোটি ডলার। এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ দশমিক ২৮ শতাংশ কম। ওভেন পোশাকে আয় হয়েছে ২৮৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। এই আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪.৪৬ শতাংশ কম। এ সময় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩২৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার।

তৈরি পোশাকের রফতানি আয় কমার বিষয়টি উদ্বেগের উল্লেখ করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, দেশের রফতানি বাণিজ্য তৈরি পোশাক শিল্পনির্ভর। কোনো কারণে এ খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাবে পড়লে পুরো রফতানি বাণিজ্যের ওপর প্রভাব আসে। 

তৈরি পোশাকের রফতানি আদেশ কম আসা এবং মূল্য কমে যাওয়া প্রধান কারণ। আমার পরামর্শ হচ্ছে, এ দুটি কারণের পাশাপাশি অন্য কোনো কারণ থাকলে সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। এ ক্ষেত্রে শিল্প মালিক এবং সরকার-উভয়েরই বেশ কিছু দায়িত্ব আছে, আশা করব উভয়পক্ষ শিল্পের খাতিরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে তৈরি পোশাকের নিট ও ওভেন উভয় খাতে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রবৃদ্ধি কোনোটাই অর্জিত হয়নি। পোশাক খাতে মোট রফতানি আয় হয়েছে ৮০৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। এই আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ কম। এ ছাড়া প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১০ কোটি ৬৭ লাখ ডলার।

আলোচ্য সময়ে নিট পোশাক রফতানি করে ৪১৭ কোটি ডলার আয় হয়েছেÑ যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭ দশমিক ২০ শতাংশ কম। এ আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ কম। ওভেন পোশাক রফতানি করে আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কম। আর গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে কম হয়েছে ২ দশমিক ০৪ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) সব ধরনের পণ্য রফতানিতে বৈদেশিক মুদ্রার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ হাজার ৪৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। কিন্তু এ সময়ে এ খাতে আয় হয়েছে ১ হাজার ২৭২ কোটি ১২ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ দশমিক ২১ শতাংশ কম। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অর্জিত এ হার ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ কম। 

এ মাসে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয়ও কমেছে। অর্থবছরের অক্টোবর মাস শেষে পোশাক রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ১ হাজার ৫৭ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক ০৭ শতাংশ কম। এ সময় রফতানি প্রবৃদ্ধিও কমেছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

নিটওয়্যার খাতে রফতানি আয় হয়েছে ৫৫৩ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৯৩ কোটি ডলার। আয় কম হয়েছে ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আর ওভেন খাতে রফতানি আয় এসেছে ৫০৩ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০৯ কোটি ডলার। আয় কম হয়েছে ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। 

এ বিষয়ে বাংলাদেশে নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সময়ের আলোকে বলেন, রফতানির অর্ডার কমেছে। সঙ্গে সঙ্গে পণ্যের মূল্যও কমেছে। এ ছাড়া অবকাঠামোগত সমস্যা, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন না করা ও ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারসহ বিভিন্ন কারণে তৈরি পোশাকের রফতানি কমে গেছে। রফতানি বাণিজ্য বাড়াতে হলে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। তা না হলে আগামী দিনে রফতানি আয় আরও কমে যাবে।

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আরশাদ জামাল দিপু বলেন, বিগত কয়েক মাসের মধ্যে এখন পোশাক রফতানির খুবই খারাপ অবস্থা। আমাদের সব অর্ডার ভিয়েতনাম-ভারতে চলে যাচ্ছে। সরকারের পলিসি সাপোর্ট ছাড়া এই খারাপ অবস্থা থেকে আমরা উত্তরণ ঘটাতে পারব না। 

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত যেটা মনে হচ্ছে, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অবস্থা থাকবে। আর এতে এবার লক্ষ্য পূরণ হওয়া তো দূরের কথা প্রবৃদ্ধিও কম হবে।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) দেশের মোট রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪ বিলিয়ন বা ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। পণ্য খাতে রফতানির টার্গেট সাড়ে ৪৫ বিলিয়ন এবং সার্ভিস সেক্টরে সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার। যা গত অর্থবছরের রফতানি আয়ের চেয়ে ১৫ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]