ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৯

সময়ের আলো সাক্ষাৎকার
সবুজময় আধুনিক পৌরসভা করা হবে জয়পুরহাটকে
রাশেদুজ্জামান জয়পুরহাট
প্রকাশ: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৮.১১.২০১৯ ১১:৩৮ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 552

সবুজময় আধুনিক পৌরসভা করা হবে জয়পুরহাটকে

সবুজময় আধুনিক পৌরসভা করা হবে জয়পুরহাটকে

দৈনিক সময়ের আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেছেন, সবুজময় শান্তিপূর্ণ আধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলা হবে জয়পুরহাটকে।

তিনি বলেন, মানুষের সেবা করা ইবাদতের অংশ বলে মনে করি। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকলে জনসেবা করার সুযোগের মাত্রা খানিকটা বৃদ্ধি পায়। দলীয় সমর্থনে ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসার রায়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণে এবং প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার সম্মান সমুজ্জ্বল রাখতে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করতে পারব বলে বিশ^াস করি।

কাক্সিক্ষত লক্ষ্য পূরণে কী কী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়েছে সময়ের আলোর পক্ষ থেকে তা জানতে চাইলে মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকার, এডিপি ও এফআইডি সহায়তাপুষ্ট (তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতকরণ সেক্টর) প্রকল্পের আওতায় ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ৮৩ হাজার মিটার রাস্তা ও ৫ হাজার ৩০০ মিটার ড্রেনের নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে সরকার ও দাতা সংস্থাগুলো থেকে বরাদ্দকৃত প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ হাজার মিটার রাস্তা ও ১৩ হাজার মিটার ড্রেনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌর এলাকার পানি সরবরাহের কাজ, একটি ওভার হেড ট্যাঙ্ক, ৩৪ মিটার পাইপ লাইন ও ৫টি উৎপাদক নলকূপ বসানোসহ বিভিন্ন সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পৌরসভার ৭টি বস্তির উন্নয়ন ও ৫ কোটি টাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ পাওয়া গেছে যা দ্রুত বাস্তবায়নের পথে। 

কী কী প্রস্তাবিত প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, বহুতল পৌর মার্কেট, পৌর শিশু পার্ক, কসাইখানা নির্মাণ, বাস টার্মিনাল সংস্কারকরণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সরদারপাড়া ও সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এলাকায় জায়গা দেখেছি, জায়গাটি পাওয়া গেলে নতুন করবস্থান করাও সম্ভব হবে।

এ সাক্ষাৎকারে মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, লোকবল কম ও অর্থের সমস্যাও রয়েছে। আমাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা থাকলেও প্রয়োগ করা যায় না। দীর্ঘদিনের নানা অনিয়ম নিয়মে পরিণত হয়েছে, যা চাইলেও তাড়াতাড়ি সমাধান করা সম্ভব নয়। পৌরসভাকে পূর্ণ ক্ষমতা দিলে পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন করা সম্ভব। প্রতিদিন দুস্থ-অসহায়দের যত আবেদন পরে, তার চাহিদা পূরণ করতে প্রতিদিনই ২০-৩০ হাজার টাকা প্রয়োজন। বহির্বিশে^ মানুষেরা পৌর কর নিয়মিত দেয়। আমাদের এখানে কর ঠিকমতো দেয় না, ফলে ঘাটতি থেকেই যায়, মেয়রের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক যা পূরণ করা যায় না।

মেয়র বলেন, জয়পুরহাট পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও জেলার অন্যান্য পৌরসভাগুলোর বরাদ্দ ও আমাদের একই, এডিপির টাকা, বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা অন্য পৌরসভাগুলো যেমন পেয়ে থাকে আমরাও তাই পাই। আক্কেলপুর পৌরসভার ভোটার ১৯ হাজার ও জনসংখ্যা ৫০ হাজার আর জয়পুরহাট পৌরসভার ভোটার ৬৫ হাজার ও জনসংখ্যা ৪ লাখ। রাস্তাঘাট, ড্রেন ও বাজারসহ অন্য বিষয়গুলো ওনাদের চেয়ে আমাদের ১০ গুণ বেশি তবুও আক্কেলপুর পৌরসভা ও জয়পুরহাট পৌরসভার এডিপির বরাদ্দ একই। এই বৈষম্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার বলে আমি মনে করি। 

মেয়র মোস্তাক বলেন, জয়পুরহাট পৌরসভার বছরে ভূমি কর, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর ফি, ইমারত নির্মাণ ফি, লাইসেন্স ফি, মার্কেট ভাড়া ও হাট-বাজার ইজারা থেকে সম্ভাব্য আয় প্রায় ১৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে কর্মচারীদের বেতন ও বিদ্যুৎ বিলসহ অন্য ব্যয়ও প্রায় ১৪ কোটি টাকা। সম্ভাব্য আয় প্রায় ১৪ কোটি টাকা ধরা হলেও সেই আয় পূরণ করা সম্ভব হয় না। ফলে ঘাটতি থেকেই যায়, এ জন্য কর্মচারীদের বেতনসহ অন্য ঘাটতি থেকেই যায়। মাসিক আয় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা হলে পৌরসভার কোনো ঘাটতি থাকত না। পৌরসভার উন্নয়নের জন্য এডিপি থেকে এবার ৮৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, এই বরাদ্দ শুধু উন্নয়ন খাতেই ব্যয় করতে হবে, অন্য খাতে ব্যয় করার সুযোগ নেই।

একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভবিষ্যৎ ভাবনা কী জানতে চাইলে মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, ফোর লেন রাস্তা বাস্তবায়ন, আধুনিক শিশু পার্ক, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন একটি সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবন পায়, একটি দুর্নীতি-সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত সুশীল সমাজ পায় এই আমার ভাবনা। একই সঙ্গে আমার ভাবনা হচ্ছে আমাদের মা-বোনেরা ভয়-ভীতি মুক্ত হয়ে যেন ফ্রিভাবে চলতে পারে তাও নিশ্চিত করতে চাই। এর পাশাপাশি আমার পরিকল্পনা হচ্ছে পরিচ্ছন্ন সবুজময় একটি শান্তিপূর্ণ পৌরসভা হিসেবে জয়পুরহাটকে গড়ে তোলা।

মেয়র বলেন, জয়পুরহাট এক রাস্তার শহর, এরই মধ্যে ফোর লেনের জন্য একনেকে বরাদ্দও হয়ে গেছে। ফোর লেন রাস্তা হলে ফুটপাথ নিয়ে আর সমস্যা থাকবে না। ফোর লেন হয়ে গেলে হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপির পরিকল্পনা মতে রাস্তায় সৌন্দর্যবর্ধনসহ ফুটপাথের ওপর টাইলস বসানোর পরিকল্পনা আছে, যাতে কোনো মানুষ জয়পুরহাটে এলে যেন পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে একে দেখতে পায়।

একসময় জয়পুরহাট ছিল খুনোখুনির জনপদ। চুরি, ডাকাতি, খুনখারাবি লেগেই থাকত। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় নেশার টাকা জোগাড় করতে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই লেগেই থাকত। কিন্তু শহরে অটোরিকশা আসার পর এই অপরাধীরা ১ লাখ ও ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার রিকশা ২০-৩০ হাজার টাকা জমা দিয়েই কিনছে এবং সে প্রতিদিন ৩০০-৫০০ টাকা আয় করছে। ফলে এখন সে বেকার নয়, সমাজের জন্য বোঝাও নয়, অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকছে। অর্থ উপার্জন করছে এবং পরিবারকে সে সহযোগিতা করছে। কাজেই যানজটসহ যত সমস্যাই হোক না কেন হুট করে অটোরিকশা তুলে দেওয়া যাবে না। 

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র মোস্তাক বলেন, আওয়ামী লীগ আমাকে মনোনয়ন দেওয়ার পর পৌরসভার মেয়র হয়েছি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে মানুষের সঙ্গে থাকতে চাই, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কাজগুলো যেন করতে পারি এটাই আমার আশা। হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপির নির্দেশনা ও কর্মপরিকল্পনায় জয়পুরহাটকে জঙ্গিমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি ব্যবসায়ী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি ১৯৯৪ সালে ছাত্রলীগের প্রাথমিক সদস্য, ১৯৯৬ সালে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য, ১৯৯৭ সালে জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, ২০১০ সালে জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, পরবর্তীকালে জয়পুরহাট পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পরে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ লাভসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]