ই-পেপার শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯ ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯

ফুলছড়িতে ১৫০ গজের মধ্যে দুই সরকারি বিদ্যালয়
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১০ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১০.১১.২০১৯ ১:২০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 28

ফুলছড়িতে ১৫০ গজের মধ্যে দুই সরকারি বিদ্যালয়

ফুলছড়িতে ১৫০ গজের মধ্যে দুই সরকারি বিদ্যালয়

চারিদিকে ফসলের মাঠ। মাঝখানে চরকোচখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত। টিনশেড এ বিদ্যলয়ের ১৫০ গজের মধ্যে বিধিবহিভর্‚তভাবে গড়ে উঠেছে আরেকটি বিদ্যালয়। সেটির নাম হাড়ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে হাড়ডাঙ্গা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। পাশাপাশি  চরকোচখালি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাত্রছাত্রীরা বিব্রতবোধ করছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, ফুলছড়ির ফজলুপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে অবস্থিত চরকোচখালি গ্রাম। এ গ্রামেই ২০০৬ সাড়ে গড়ে উঠে চরকোচখালি রেজিস্ট্রি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ৩৩ শতক জমিতে গড়ে ওঠা বিদ্যালয়টি ২০১৪ সালে সরকারিকরণ করা হয়। এখানে চারজন শিক্ষক ও ৭৬ জন ছাত্রছাত্রী। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর বাড়ি চরকোচখালি গ্রামেই।
এদিকে হাড়ডাঙ্গা বিদ্যালয়টি ফজলুপুর ইউনিয়নের উজালডাঙ্গা গ্রামে স্থাপিত হয়েছিল। এটি ১৯৭৩ সালে স্থাপিত হয়। এখানে শিক্ষক তিনজন এবং ছাত্রছাত্রী ৬১ জন। এর মধ্যে ৯ জন শিক্ষার্থীর বাড়ি চরকোচখালি গ্রামে। অবশিষ্ট ৩৭ জনের বাড়ি ফজলুপুর ইউনিয়নের গুপ্তমনিরচর গ্রামে। কিন্তু জুলাই মাসের বন্যায় হাড়ডাঙ্গা বিদ্যালয়টি যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ফলে বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। বন্যার পানি নেমে গেলে বিদ্যালয়টি চরকোচখালি বিদ্যালয়ের ১৫০ গজের মধ্যে স্থানান্তর করা হয়। অথচ চরকোচখালি বিদ্যালয় থেকে হাড়ডাঙ্গার দূরত্ব ছিল প্রায় দুই কিলোমিটার।
এ প্রসঙ্গে চরকোচখালি বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জাফরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টি এখানে আসায় আমরা বিব্রতবোধ করছি। কারণ প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির সময় দুই বিদ্যালয়ের মধ্যে ছাত্রছাত্রী নিয়ে প্রতিযোগিতা চলবে। এ নিয়ে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। হাড়ডাঙ্গা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ময়েজ উদ্দিন বলেন, বন্যার সময় তড়িঘড়ি করে স্থানান্তর করা হয়। সে সময় সাময়িক সময়ের জন্য স্থানান্তর করা হয়েছিল।
এদিকে ১৫০ গজের মধ্যে বিদ্যালয় স্থানান্তর নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। হাড়ডাঙ্গা বিদ্যালয়টি একই (ফজলুপুর) ইউনিয়নের গুপ্তমনিরচর গ্রামে স্থানান্তরের দাবি ওঠে। দাবি বাস্তবায়নের জন্য ওই গ্রামের অভিভাবক শামসুল আলম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জুলাই মাসের শেষের দিকে লিখিত আবেদন দেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে শিক্ষা কর্মকর্তা চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম কামরুজ্জামানকে আহŸায়ক করে এ কমিটি গঠিত হয়। কমিটি ৩ অক্টোবর তদন্তকাজ সম্পন্ন করে। তদন্ত কমিটির আহŸায়ক এসএম কামরুজ্জামান বলেন, সবদিক বিবেচনা করে এবং সব শিক্ষার্থীর সুবিধার্থে গুপ্তমনিরচর গ্রামে হাড়ডাঙ্গা বিদ্যালয়টি স্থানান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ফুলছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে মো. কফিল উদ্দিন সরকার বলেন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিমালা অনুযায়ী, একটি বিদ্যালয় থেকে আরেকটি বিদ্যালয়ের দূরত্ব কমপক্ষে দুই কিলোমিটার হতে হবে। এখানে এই নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিদ্যালয়টি স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান নিজে তদন্ত করে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। তাই স্থানান্তর করতে বিলম্ব হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান সেলিম পারভেজ বলেন, আমি নিজে তদন্ত করে দেখব। তারপর স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]