ই-পেপার শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯ ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯

সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআই সভাপতি
খেলাপি ঋণের কারণেই বেসরকারি ঋণে ভাটা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১০ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১০.১১.২০১৯ ১২:৫৯ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 23

খেলাপি ঋণের কারণেই বেসরকারি ঋণে ভাটা

খেলাপি ঋণের কারণেই বেসরকারি ঋণে ভাটা

দেশের ব্যাংকিং খাতে মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণেই বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ প্রবাহে ভাটা পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ওসামা তাসীর। তিনি বলেন, একদিকে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি অন্যদিকে ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের সঞ্চয় জাতীয় সঞ্চয়পত্রের দিকে ধাবিত হওয়ার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হয়েছে। এ জন্য খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে করের আওতা বৃদ্ধি করা হলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের ব্যাংক খাত থেকে ঋণ গ্রহণ প্রবণতা হ্রাস পাবে যা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
শনিবার ডিসিসিআই আয়োজিত ‘বেসরকারি খাতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চিত্র’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী, সহসভাপতি ইমরান আহমেদসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ওসামা তাসীর বলেন, খেলাপি ঋণ অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে একটি পদ্ধতি হাতে নেওয়া যেতে পারে যার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি এবং অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি শনাক্ত করা যেতে পারে।
ব্যাংকের সুদহার কমানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বেশিরভাগ ব্যাংক এখনও ১১-১৫ শতাংশ সুদ হারে ঋণ দিচ্ছে। সরকার এক অঙ্কের সুদ হারে ঋণ প্রদানের বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে যা আশাব্যঞ্জক। সেই সঙ্গে এক অঙ্কের সুদহার বাস্তবায়নের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় সঞ্চয়পত্রের সুদ হার হ্রাস এবং সুশাসন একান্ত জরুরি।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, জাতীয় বাজেটে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাজেট ঘাটতি মেটাতে কর আহরণের আওতা বাড়াতে হবে এবং  সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নতুন নতুন করদাতাকে করের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
বন্দরসমূহে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, বন্দরের স্বল্প গভীরতা, পলি, কন্টেইনার ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির অপর্যাপ্ততা, পশ্চাৎভ‚মির সঙ্গে যোগাযোগ বন্দরের অবকাঠামোর অন্যতম প্রতিবন্ধকতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণ ও নতুন নতুন রফতানি বাজার সম্প্রসারণে আমাদের বিস্তৃত কৌশল অবলম্বন করতে হবে। দীর্ঘ পণ্য খালাস প্রক্রিয়া, সমন্বয়ের অভাব, পণ্য পরিদর্শনে ভোগান্তি, দালিলিক কার্যক্রম এবং অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে লিড টাইমকে বৃদ্ধি করে দেয়। বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বন্দর সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নে ‘জাতীয় সমুদ্র ও বন্দর কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি একক বন্দর উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা স্থাপন করা যেতে পারে।
পোশাক শিল্পে রফতানি আয় বাড়াতে আগামী তিন বছর ৩ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এ শিল্পের রফতানি আয় বাড়াতে হলে উচ্চ পরিবহন ব্যয় ও সময়, বেতন বৃদ্ধি, শ্রম উৎপাদনশীলতার অভাব, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি এবং কমপ্লায়েন্স খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় পোশাক উৎপাদন খাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এ খাতে রফতানির ক্ষেত্রে আগামী তিন বছর ৩ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি পোশাক শিল্পকে টেকসই করতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা কাজে লাগাতে এ খাতের শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রণোদনা প্রদান করা প্রয়োজন।
শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেটের অনুপস্থিতি, ভালো প্রতিষ্ঠান এবং সুশাসনের অভাব পুঁজিবাজারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের অপার সম্ভাবনাকে সীমিত করে রেখেছে। তাই বর্তমান পুঁজিবাজারের দিক চিন্তা করে বন্ড মার্কেট চালু করতে হবে। সেই সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এসএমই প্ল্যাটফর্ম কার্যকর ব্যবহার করে এসএমই প্রতিষ্ঠানসমূহ যাতে বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]