ই-পেপার শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯ ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯

কারাগারে তিলধারণের ঠাঁই নেই
বন্দিদের মানবাধিকার নিশ্চিত হোক
প্রকাশ: রোববার, ১০ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.১১.২০১৯ ১১:৫৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 11

‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই ছোট সে তরী’ রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন তার কবিতায়। আর আমরা লিখছি আমাদের কারাগারগুলোতে ঠাঁই নেই। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি কারাবন্দি। যেহেতু পরিসরের চেয়ে বেশি বন্দিকে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। সেহেতু অধিকাংশ বন্দি স্বাস্থ্যসেবাসহ যেকোনো মানবিক আচরণ থেকে বঞ্চিত। আমাদের দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে অপরাধীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে কারাগারের সংখ্যা। কিন্তু দেশের অধিকাংশ কারাগার এখন অনিয়ম ও সমস্যায় ভারাক্রান্ত। কারা অভ্যন্তরে চলছে হাজারো অনিয়ম। থাকার জায়গা থেকে শুরু করে কয়েদিদের খাবার, চিকিৎসাসেবায় মানবিক চাহিদাটুকু পূরণ হচ্ছে না। কারা অভ্যন্তরে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার জন্য বরাবরই কারা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হয়। তারপরও এর কোনো সুরাহা এখন পর্যন্ত হয়নি। দেশের ৬৮টি কারাগারের  অধিকাংশেই অনিয়ম ও নানা সমস্যা রয়েছে। নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে কারাভ্যন্তরে চলছে মাদক বাণিজ্য। এখানে বন্দিরা ইচ্ছা করলে ভেতরে থেকেই কথা বলতে পারে মোবাইল ফোনে। অসুস্থ না হলেও কারা কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চিকিৎসার নামে যেতে পারে বাইরের হাসপাতালে। কারা অভ্যন্তরে বন্দিদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে নেওয়া হচ্ছে টাকা। অনিয়ম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। প্রিজনার ক্যাশ ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে এ ব্যবস্থায় যেকোনো বন্দির নামে কারাগার অফিসে যত খুশি টাকা রাখা যায়। বন্দিরা ওই টাকা তাদের ইচ্ছামতো খরচ করতে পারে।
বন্দিদের সুবিধার কথা বলে চালু করা এ পদ্ধতিতে যার যেমন ইচ্ছা টাকা রাখছে এবং খরচ করছে। পিসির সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে কারাগারের কোনো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বন্দিদের নানা সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আদায়কৃত এই টাকা সরকারি তহবিলে জমা না দিয়ে ইচ্ছামতো ব্যয় হচ্ছে বলেও অভিযোগ আছে। তথ্য বলছে, কারাগারের রাইটার, ম্যাট, পাহারা, সিআইডিরা সবচেয়ে বেপরোয়া। তারা কারাগারে আসা নতুন হাজতিদের বিভিন্নভাবে জুলুম-অত্যাচার করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে থাকে। কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলে তার ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয়।
দৈনিক সময়ের আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৬৮টি কারাগারে এখন তিলধারণের ঠাঁই নেই। দেশের প্রায় সব কারাগারেই এখন বন্দিদের গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ব্যাপক হারে আটক করা হয়। ফলে কারাগারে কারাবন্দির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। কিন্তু এতে কারাভ্যন্তরের মানবিক অবস্থা চরম অবনতির দিকে চলে যাচ্ছে। সূত্র বলেছে, বর্তমানে দেশের ৬৮টি কারাগারে (১৩টি কেন্দ্রীয় ও ৫৫টি জেলা কারাগার) বন্দির ধারণক্ষমতা ৪০ হাজার ৬৬৪ জন হলেও বর্তমানে কারাবন্দির সংখ্যা ৮৬ হাজার ৯৯৮ জন। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন নারী, বিচারাধীন মামলায় অপ্রাপ্ত বয়স্ক প্রায় ৮৯০ এবং ৭৬০ জন বিদেশি বন্দি রয়েছে। কারাগারে এক হাজারেরও বেশি মৃত্যুদÐপ্রাপ্তসহ প্রায় ১৮ হাজার সাজাপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছে। অবশিষ্ট ৬৮ শতাংশই বিচারাধীন মামলার বন্দি। অথচ বন্দিদের তদারকিতে জনবল রয়েছে মাত্র ৯ হাজার। বিষয়টি অনেকটা অসহনীয় পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে আছে দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক বন্দিরা। এসব বন্দির মধ্যে প্রায়
দুই-তৃতীয়াংশের মামলা এখনও বিচারাধীন। প্রকৃত দোষী সাব্যস্ত কারাবন্দির সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশেরও কম।
ন্যূনতম মানবিক আচরণ তো দূরের কথা, স্বাস্থ্যসেবা নেই বললেই চলে। দেশের কারাগারগুলোতে কারা চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ১৪১টি; কিন্তু কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ১০ জন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত বছরের ২৮ জানুয়ারি ২০ জন চিকিৎসক প্রেষণে কারাগারে বদলি করলেও তাদের মধ্যে যোগদান করেছেন মাত্র চারজন। বাকি ১৬ জন যোগদান করেননি। এত অল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে কী করে এত কারাবন্দির চিকিৎসাসেবা সম্ভব? আমাদের দেশের বরেণ্য আইনজীবীরাও এ ব্যাপারে মানবিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারাও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন,
ভাত-বাসস্থান-চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার যেকোনো নাগরিকের পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাই কারাবন্দিরা মানবিক এ অধিকারটুকু পেতেই পারে। আমরা চাই, কারাবন্দিদের বাসস্থানসহ সুচিকিৎসার মতো মানবাধিকারের প্রতি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি দেওয়া উচিত। আসুন আমরা চিকিৎসাসেবাসহ কারাবন্দিদের প্রতি সদয় আচরণ করি।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]